
ডি এম কপোত নবী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ || চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত বর্তী এলাকায় ৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পৃথক কয়েকটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ, হেরোইন, ইয়াবা ট্যাবলেট, ফেনসিডিল, ভারতীয় মদ, ভারতীয় মুভ জেল, বেটনোভিট ক্রিম ও ভারতীয় এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন সেটসহ ২ জনকে আটক করা হয়েছে।
আটককৃত ২ জন হচ্ছে, শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের বাগানবাড়ী গ্রামের মৃত একদিলের ছেলে শফিকুল ইসলাম(৪৫) ও একই এলাকার রবুর ছেলে নাসির (২৫)।
জানাগেছে, ১৫ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টার সময়, একই দিন বিকেল সোয়া ৪ টার দিকে, সন্ধ্যা ৬ টার দিকে এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে অভিযানগুলো পরিচালনা করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বিজিবির কৌকশ নওজোয়ানরা।
আরও জানা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নে ৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আমীর হোসেন মোল্লা পিএসসি ও শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব-আল- রাব্বি, আনসার সমন্বয়ে গঠিত বাহিনী মাদকবিরোধী অভিযানে ৭ ড্রাম চোলাই মদসহ ২ জনকে আটক করা হয়।
উদ্ধারকৃত ড্রাম, চোলাই মদ ও মদ তৈরির সরংঞ্জামসহ আটককৃতদের শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। বহুদিন ধরে চক্রটি ঐ এলাকায় চোলাই মদ তৈরি ও খুচরা, পাইকারি বিক্রি করে আসছিল।
আরেকটি অভিযানে পোলাডাংগা বিওপির সুবেদার শাহিনুর রহমানের নেতৃত্বে ৫৯ বিজিবির টহল দল বজ্রাটেক এলাকা থেকে মালিকবিহীন ৭ বোতল ভারতীয় মদ, ৩পিস মুভ জেল ও ২টি বেটনোভিট ক্রিম উদ্ধার করে। ১০ হাজার ৯৫০ টাকা উদ্ধার মালামালের মূল্য।
অন্যদিকে সোনামসজিদ বিওপির সুবেদার হাফিজুর রহমান'র নেতৃত্বে টহল দল বালিয়াদীঘি এলাকা থেকে মালিকবিহীন ৯ পিস ইয়াবা, ১ পুরিয়া হেরোইন এবং ১টি পুরাতন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার মাদক ও মালামালের মূল্য ৮২ হাজার ৯০০ টাকা।
তেলকুপি বিওপির হাবিলদার শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশেষ টহল দল তেলকুপি গ্রামের পাগলা নদীর তীরের পাশে কাঁচা রাস্তা থেকে মালিকবিহীন ৩৬টি ভারতীয় মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধার মোবাইল ফোনের দাম ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
এ সব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন, ৫৯ বিজিবি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ রহনপুর ব্যাটালিয়ন'র অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. আমীর হোসেন মোল্ল পিএসসি।
এছাড়াও বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে ভারতীয় চোরাকারবারীরা যাতে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে না পারে সেই লক্ষে সকল দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত সীমান্তে টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর থেকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান আমির হোসেন।