
মোঃ সুফিয়ান চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের টাকাহারা গ্রামে অবস্থিত সার্বজনীন এই বাসন্তী মন্দির । আজ পূজা বিসর্জনের মহা দশমীতে হাজারো লোকের উপস্থিতি। পাঁচ (০৫)দিন ব্যাপী এই পূজা মন্ডপের শেষ দিনে দর্শনার্থীদের ছিল উপচে পড়া ভিড়।আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গ্রাম পুলিশ ও সেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা ছিল ব্যপক তৎপরতা।
টাকাহারা বাসন্তী মন্দিরের সভাপতি শ্রী নটবর চন্দ্র বর্মন বলেন, হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী এই বাসন্তী পূজা, আমাদের বাপ দাদার আমল থেকে অনেক আনন্দ উল্লাস জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে এই পূজা উদযাপন করা হয়। ৫ দিন ব্যাপী এই বাসন্তী পূজা পালন করে অবশেষে মন্দিরের পাশের একটি পুকুরে বিসর্জন দেওয়া হবে।
বাসন্তী মন্দিরের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা শ্রী ঈশ্বর চন্দ্র বর্মন বলেন,পার্বতীর অন্য এক রূপ হল অন্নপূর্ণা তবে অন্নদা নামেও তিনি পরিচিত। অন্ন কথার অর্থ হল ধান, আর পূর্ণা কথাটির অর্থ হল পূর্ণ অর্থাৎ যিনি অন্নদাত্রী। হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে শক্তির অপর রূপ হিসেবে বিরাজমান এই দেবী।দ্বিভুজা অন্নপূর্ণার এক হাতে অন্নপাত্র ও অন্য হাতে হাতা থাকে দেবীর একপাশে থাকেন ভূমি ও অন্য পাশে থাকেন শ্রী। বাসন্তী পূজার অষ্টমী তিথিতে অন্নপূর্ণার পূজা করা হয়।কালী ও জগদ্ধাত্রী পূজোর মতোই তান্ত্রিক মতে এই পূজো হয়ে থাকে।
টাকাহারা বাসন্তী পূজা মন্দির যুব সংগঠনের সভাপতি শ্রী তপন কুমার বর্মন জানান, সার্বজনীন এই বাসন্তী পূজা কে ঘিরে প্রতিবছর বিশাল মেলা বসে। পাঁচ দিনের এই মেলাতে মিষ্টির দোকান,কাঠের আসবাবপত্র, ছোট বাচ্চাদের খেলার সামগ্রী, বিভিন্ন তৈজসপত্রসহ হরেক রকমের পন্যের ছোট বড় অনেক দোকান বসে থাকে। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই বাসন্তী পূজায়, প্রতীমাকে ভক্তি করতে দর্শনার্থীদের বিশাল ভিড় জমে। তিনি আরো বলেন, এইবছরে বাসন্তী পূজা দেখতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ,নাচোল,গোমস্তাপুর, ভোলাহাট, শিবগঞ্জ, এবং নওগাঁর নিয়ামতপুর হতে ভক্তরা ব্যাপক ভিড় জমায়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ডাবলু কুমার ঘোষ বলেন, গত বছর প্রানঘাতী করোনা ভাইরাসের জন্য বাড়িতে বাড়িতে বাসন্তী পূজা পালন করা হয়েছিল। তবে এই বছর বহুল প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ও সার্বজনীন এই বাসন্তী পূজা ব্যপক আনন্দ উল্লাস ও জাঁকজমকপূর্ণতার মধ্য দিয়ে মন্দির কর্তৃপক্ষ পালন করতে সক্ষম হয়েছে।