
ফয়সাল আজম অপু, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় স্ত্রীর করা যৌতুক মামলায় ইউসুফ আলি কাওসার নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কাওসার শিবগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শেখটোলা মহল্লার মৃত মনিরুল ইসলামের ছেলে।
বুধবার (২১ এপ্রিল) গভীর রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর পূর্বে মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) রাতে শিবগঞ্জ থানায় স্বামী কাওসার, তার মা মোসাঃ আমেনা বেগম, বোন মোসাঃ মুরশিদা বেগম, মোসাঃ তাসলিমা বেগম, মোসাঃ আলেপনুর বেগম ও মোসাঃ শিরিন বেগমের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন গৃহবধূ মুস্তারি জাহান জুঁই ।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শেখটোলা মহল্লার ইউসুফ আলী কাওসারের সঙ্গে ৬ বছর আগে উভয় পরিবারের সর্ব সম্মতি ক্রমে ৬ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য্য করে একই জেলার সদর উপজেলার পৌর এলাকার ৫ নং ওয়ার্ডের মাঝপাড়া মহল্লার মৃত রাসেদ আলীর মেয়ে মুস্তারি জাহান জুঁই এর সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় স্বামীর পরিবারকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের একটি সিটি বাজাজ মোটরসাইকেল, ৬৫ হাজার টাকার স্বর্ণের গয়না, ঘড়ি ও নগদ ২ লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে দেওয়া হয়। বিয়ের পর থেকেই আরও ৫ লাখ টাকার জন্য জুঁইকে বিভিন্ন সময় স্বামী কাওসার ও তার পরিবারের লোকজন শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন করতো।
জুঁই জানান, ৬ বছর পূর্বে ইউসুফ আলী কাওসার নিজেকে এডভোকেট পরিচয় দিয়ে পারিবারিক ভাবে আমার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিবাহের পর লোক মূখে শুনি কাওসার আদ্য এডভোকেট নয়! সে একজন প্রতারক, বিভিন্ন মানুষের সাথে চাকরি দেয়া সহ জমিজমা, মাদক মামলার তদবিরের নামে প্রতারণা করে থাকে। আজঅবধী কাওসারের এডভোকেটের কোনো লাইসেন্স হয়নি বলেও জানান তিনি। তারপরও আমার বাবা মা জীবিত না থাকায় আমার অসহায় পরিবারের দিকে চেয়ে ও লাজ লজ্জার ভয়ে শত কষ্ট সয্য করে এতদিন যাবৎ সংসার করি। কিন্তু বিবাহের ৫ বছর পর অর্থাৎ ১ বছর আগে আমাকে কৌশলে তালাক দেয়। তালাক দেয়ার ১ মাস পর পূনরায় আমার কাছে ভুল স্বীকার করে ঘরসংসার করতে শুরু করে।
আমি এবং আমার পরিবার শরিয়ত মোতাবেক পূনরায় বিয়ের কথা বললেও কোন কর্ণপাত করেনি ইউসুফ আলী কাওসার। বিভিন্ন টালবাহানা করে সময় ক্ষেপন করতে থাকে কাওসার। গত ০৯/০১/২০২২ তারিখ আমাকে আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোর করে আমার মায়ের বাড়িতে রেখে আসে এবং সম্প্রতি আবার বিয়ে করে। বিয়ের বিষয়ে লোক মূখে জানতে পারলে ১৬/০৪/২০২২ তারিখ স্বামীর বাড়ি আমার বোন পাপিয়া ও অন্য আত্মীয় সহ গেলে ক্ষীপ্ত হয়ে উঠে কাওসার। আমাকে রেখে বিয়ে কেনো করলে! এমন প্রশ্ন করলেই তার পরিবারের সবাই মিলে আমার ব্যাগ, মোবাইল, ইসলামি ব্যাংকের চেক, এটিএম কার্ড ও টাকা কেড়ে নিয়ে আমাদের এলোপাতাড়ি মারধোর করে। তাদের আঘাতে আমি লুটিয়ে পড়লে আমার টুটি চেপে ধরে বলে তোকে জানে মেরেই ফেলবো। অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ সয্যা হাসপাতালে ভর্তি করে।
সুত্রে জানা যায়, ইউসুফ আলী কাওসার নিজেকে এডভোকেট পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন থেকে প্রতারণা করে থাকে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ এডভোকেট বার সভাপতি মোঃ জোব্দুল হক মুঠোফোনে জানান, ইউসুফ আলী কাওসার নামে আমাদের কোনো এডভোকেট সদস্য নাই। হয়তো তার কোনো অপকর্ম ঢাকতে এবং সুবিধা আদায়ের জন্য এডভোকেট পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে থাকে। তার উপযুক্ত শাস্তি হওয়া দরকার বলেও জানান এই বর্ষিয়ান এডভোকেট।
বুধবার মুস্তারি জাহান জুঁই বাদি হয়ে স্বামী ইউসুফ আলী কাওসার, ননদ ও শাশুড়ির নামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরেই উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল গনি গভীর রাতে নিজ বাড়ি থেকে কাওসারকে গ্রেফতার করে বৃহস্পতিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।