আজ সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৬:৪০ পূর্বাহ্ন

প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় বদলগাছীতে হউক

 

নওগাঁয় প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ামতপুরের ছাতরা বিলে স্থাপনের ঘোষনা দিয়েছেন মাননীয় খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।এর প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়টি নিজের উপজেলায় প্রতিষ্ঠার জন্য যখন নজিপুর(পত্নীতলা) ও নওগাঁ সদরবাসী বিভিন্ন সভা সমাবেশ, মানববন্ধনের মাধ্যমে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছে তখন আমরা বদলগাছীবাসী নিরব কেন?আমরা বদলগাছীবাসী কি বদলগাছীতে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি তুলতে পারি না?নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় নওগাঁ ও নজিপুরের তুলনায় বদলগাছীতে প্রতিষ্ঠা করা যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত।বদলগাছীর দূরত্ব নওগাঁ থেকে মাত্র ১৬ কিমি এবং পত্নীতলা থেকে মাত্র ১২ কিমি।অতএব,উভয়ের মধ্যবর্তী জায়গা হিসেবে বদলগাছীতে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা মন্দ হয় না।

সদরবাসীর দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য উন্নত পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, অবকাঠামো, আবাসিক সুবিধা শুধুমাত্র নওগাঁ সদরেই বিদ্যমান। আমি মনে করি,একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সাথে সাথে উক্ত সুযোগ-সুবিধা ধীরে ধীরে যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে তোলা সম্ভব ।

নওগাঁ সদরবাসী আরও একটা খোঁড়া যুক্তি দেখিয়েছে যে,বিশ্ববিদ্যালয় সদরের বাইরে স্থাপন করা হলে শিক্ষার্থীরা টিউশনি পাবে না,বই কেনার জন্য জেলা শহরে যেতে হবে।আপনারা কি জানেন না? চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মূল শহর থেকে ২২ কিমি,ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া শহর থেকে ২৪ কিমি,পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মূল শহর থেকে ১৫কিমি,যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শহর থেকে ১৩ কিমি, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় মূল শহর থেকে ১১ কিমি দূরে অবস্থিত।তারা ত ঠিকই টিউশনি করানো,বই কেনার কাজটি অনায়সে করছে। সূতরাং শহর থেকে মাত্র ১৬ কিমি দূরে বদলগাছীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাসে শহরে গিয়ে টিউশনি,বই কেনার কাজটি সহজেই সারতে পারবে।তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে অতি অল্প সময়েই বিভিন্ন কোচিং /প্রাইভেট সেন্টার,বইয়ের দোকান গড়ে উঠবে।

আবার অনেকে আরও একটি অযৌক্তিক যুক্তিকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে যে,সোমপুর বিহারটি আনুমানিক ৭৮১-৮২১ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠা পায়। আজ থেকে আনুমানিক তেরশত বছর আগের স্থানটি এখন ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে সুবিদিত। যার বৈশ্বিকতার নতুন পরিচিতির দরকার আছে কি? আমি এই অযৌক্তিকতার পেছনে মুক্তি দাঁড় করিয়ে বলতে চাই যে,খ্রিস্টীয় ৭ম শতাব্দী থেকে আনুমানিক ১২০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত নালন্দা মহাবিহার ছিল ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এটিও ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান।তাসত্ত্বেও ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ভারত সরকার নালন্দা মহাবিহারে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।তাহলে বদলগাছীর সোমপুর মহাবিহারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সমস্যা কোথায়?

সূতরাং আমরা বদলগাছীবাসী দাবি তুলতেই পারি যে,প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় বদলগাছীতেই হউক।

মোঃ এনামুল হক
শিক্ষার্থী,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

error: Content is protected !!