আজ সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন

ভাই আসেন, গরীবের পেটে আরেকটা লাথি মারি!

অযথা ফেইসবুকে হৈচৈ করে আর ট্রল করে একটা হাহাকার তৈরি করেছেন। আর সেই সুযোগ নিয়েছে পিয়াজের আড়তদাররা। সরকারের উপর মেন্টাল প্রসার দিয়েছেন মাস ধরে। সরকার চাইছিলনা দেশি পিয়াজ ক্ষেত থেকে ঘরে আসার মৌসুমটাকে সামনে রেখে বৈদেশিক মুদ্রায় বিদেশি পিয়াজ আনতে। এক সপ্তাহ আগের কথা। সেই সময় থেকে আর মাত্র বিশ কি পচিশ দিন লাগতো বাজার ঠিক হয়ে যেতে। পিয়াজ পিয়াজ করে মাথাটা খেয়ে ফেলছিলেন। আপনাদের এই অবুঝপনার জন্য বেচারা পিয়াজ চাষিরা সামনে এইতো কিছুদিন পর পেটে লাথ্থি খেতে যাচ্ছে। বাজারে ভর্তি থাকবে মিশর, মায়ানমার আর তুরষ্কের পিয়াজ ঠিক সেই সময় তাদের দেশি পিয়াজ বাজারে এসে ন্যায্য দাম পাবে না।

খুব সফলতার সাথে পিয়াজ ব্যবসায়িদের পেটে লাথি মারার পর এবার রেডি হচ্ছেন আরেক বেচারা গরীব লবন চাষিদের পেটে লাথি মারার জন্য। কেন ভাই?

আপনার যদি একটু সহনশীল হতেন। একটু মনস্তাত্বিক দৃঢ়তা দেখাতেন তাহলে এই কোটি কোটি ভোক্তাদের ভীতু বানিয়ে কেউ পিয়াজের দাম দুইশ বিশ পন্চাশ উঠাতে পারতো না। জোরে হাক ডেকে বলতেন “হারা…আমজাদা তোদের পিয়াজ আমি খামুনা”। ফেইসবুকে কমেন্ট দিতেন আমি পিয়াজ খাবো না- আপনারাও খেয়েন না। চাহিদা না থাকলে সেই জিনিসের দাম কত হবে? লাশের গায়ে দেয়া চা পাতার কেজি কত দিবে মানুষ? পিয়াজ না খেলে কি আপনারা হাসপাতালে আইসিউতে চলে যেতেন? দেশের প্রধানমন্ত্রী বল্লেন, আমি পিয়াজ ছাড়া তরকারি দিয়ে ভাত খেয়েছি। সেটা নিয়েও ট্রল করলেন। উনি এই কথাটা ক্ষমতা টেকানোর জন্য বলেন নি। বলিছিলেন, আমদের যে ভোক্তা বা কনজিউমারিজমের একটা শক্তি আছে সেটা জাগানোর জন্য একজন ভোক্তা হিসাবে। আর আপনারা করলেন তাকে নিয়ে হাসাহাসি!

করেন হাসাহাসি। এই হাসাহাসি থামলে একটূ ঠান্ডা মাথায় চিন্তা কইরেন একটু। আল্লাহ বলেন আর ভগবান বলেন, তিনি আজ আপনাকে এমন একটা অবস্থানে নিয়ে গেছেন যেখানে আপনি আজ ৯০০ টাকাদিয়ে আনলিমিটেড ড্যাটা কিনে পিয়াজ লবন নিয়ে ট্রল করতে পারেন, ইনবক্সে ইনবক্সে আতঙ্ক ছড়াতে পারেন, ১২০০ টাকা দিয়ে ১২ ইন্চি পিজ্জা খেতে পারেন, ২৫০ টাকা দিয়ে এক কাপ কফি খেতে খেতে সরকারের অদক্ষতা নিয়ে আলাপ সালাপের আড্ডা দিতে পারেন – এহবে আপনার মাসিক বাজেট নষ্ট হয় না। একমাসে বেশি খরচ হলে আল্লাহ/ভগবান আপনাদের ক্রেডিট কার্ড দিছে সেটা দিয়ে আপনাদের মান ইজ্জত রক্ষা হয়ে যায়। কিন্তু একটা বার চিন্তা করছেন পিয়াজ চাষি আর লবন চাষিদের কথা? ওদের একটু নুন আর একটু পিয়াজ হলে একটু বাশি ঝোল বা ডাল দিয়ে এক থাল ভাত খেয়ে উঠতে পারে। আপনাদের দুজনেরই রেজেকদাতা কিন্তু সেই একজন। যিনি কিন্তু সব দেখছেন।

আপনি কি জানেন ঐ গরীব মানুষদের টাকা দিয়ে আপনার ক্রেডিট কার্ড হয়? শুনেন, ব্যাংকগুলোর ডিপজিটের বড় একটা অংশ আসে গ্রামের হাজার হাজার ব্যাংক শাখায় কোটি কোটি গরীব মানুষের জমানো টাকা থেকে। খেয় না খেয়ে এরা টাকা জমায়। কত আর হয়? দশ হাজার পনের হাজার টাকার ব্যালেন্স থাকে একেকটা একাউন্ট। ওরা তোলে না। তোলে কখন? সেই যখন ছেলে বা মেয়ের যখন বিয়ে হয় বা অসুস্থ হলে। গ্রামের এই ডিপোজিট গুলো রাজধানীতে চলে আসে এগুলো খাটে শহরের অপেক্ষাকৃত ধনি মানুষদের জন্য বানানো রিটেইল প্রোডাক্টে। ব্যাংকের এই ডিপোজিট প্রোডাক্টের বিপরীতে যত চটকদার রিটেইল প্রডাক্ট যেমন, ক্রেডিট কার্ড, হোম লোন পার্সোনাল লোন এই সব কিছুই আপনাদের শহরের মানুষের জন্য। গরিব মানুষের জন্য ব্যাংকের রিটেইল প্রোডাক্ট নাই অথচ টাকা গুলি ওদের। কোনদিন শুনবেন না চাষিকে ক্রেডিট কার্ড দিছে ব্যাংক। ওরা জমায় তা থেকে আবার বড় বড় ঋনখেলাপিরা বড় বড় ব্যাংকারদের হাত করে সেই টাকা মেরে দিচ্ছে। আরেকটা জিনিস দেখেন। গরীব চাষি বা শ্রমিক তাদের জীবনযাত্রায় যে সব ভোগ্যপন্য আছে তাতে মাথাপিছু একদুই ডলারেরও আমদানি খরচ নাই। অথচ আপনি আমদানিকৃত শেম্পু সাবান লোশন চিপ্স, চকলেট বিস্কুট, সস্, কর্নফ্লেক্স মদ, জুস কত কিছু খান। কত ডলার দেশের খরচ হয় দেশের ? ভেবেছেন?

ভাবছেন এই কথাটা এখানে বলছি কেন? বলছি এই জন্য যে যাদের টাকার উপর এই অর্থনীতিটা দাড়িয়ে আছে তাদের কথাটা একটু মাথায় রেখেন। এমন কিছু করেন না যাতে এই “বেশিদিয়ে কম পাওয়ার দুর্ভাগ্যওয়ালা” মানুষগুলোর বেচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। আমরা যখন শুক্রবার সকালে গাজিপুরে রিজোর্টের সুইমিংপুলে বাচ্চাদের সাথে নেমে ছবি আপলোড করি ” Life is beautiful” আর ” আলহামদুলিল্লাহ for everything” তখন যেন এই গরীব মানুষগুলার কাছে দুনিয়াটা যেন আজাব আজাব না লাগে।

Courtesy@ আমার বন্ধু Sarwar Khan Bappi

error: Content is protected !!