আজ মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন

তিন বার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ ছবির নায়িকা

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কালজয়ী উপন্যাস ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ অবলম্বনে বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ প্রযোজনায় নির্মাণ হয়েছিল চলচ্চিত্র। ছবিতে কপিলা চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হন কলকাতার অভিনেত্রী রূপা গাঙ্গুলী। বর্তমানে তিনি আর চলচ্চিত্রে নিয়মিত নয়। তবে সক্রিয় আছেন রাজনীতিতে।

সম্প্রতি আবারও আলোচনায় এসেছেন তিনি। এবার ব্যক্তিগত জীবনের কিছু অজানা কথা তাকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। এক সাক্ষাৎকারে রূপা জানিয়েছেন, দাম্পত্য কলহের জেরে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। যন্ত্রণায় হতাশায় তিন তিনবার আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন।

রূপা জানিয়েছেন, বিয়ে টিকিয়ে রাখতে, দাম্পত্য বজায় রাখতে কী না করেছেন তিনি। ‘আমি বিবাহিত’, এই কথা প্রতি পদে মনে রেখে একজন বাঙালি ঘরের মেয়ে যা যা করেন আমি সবটাই করেছি। সকাল ৯টার আগে আর রাত ১০ টার পর ফোন ধরতাম না। একা আমার নামে নিমন্ত্রণ কার্ড এলে সেখানে যেতাম না। শুট শেষ হলেই মেকআপ না তুলে প্রায় ছুটে বাড়ি ফিরতাম।

“তারকা হিসেবে কোনো হামবড়াই ভাব দেখাইনি ধ্রুবর (স্বামীর নাম) কাছে। কাজের লোক না এলে ঘর ঝাঁট দিতাম। মুছতাম। বাসন মাজতাম। কাপড়ও কেচেছি। তারপরেও দেখি ধ্রুব আমায় নিয়ে হীনমন্যতায় ভুগছে। দর্শক ‘দ্রৌপদী’ হিসেবে আমায় মেনে নিয়েছেন। ভালোবেসেছেন। তাই আমি জনপ্রিয়। এটা ও মেনে নিতে পারেনি। এখানে আমার দোষ কী?”

তিনি বলেন, “সংসার বাঁচাতে শেষমেশ মুম্বাই ছেড়ে ধ্রুবর সঙ্গে কলকাতায় চলে এলাম। কাজ গেল। তাও হজম করলাম। অন্তত স্বামী থাক। এই ভেবে। কিন্তু তাতেও ওর মুড ঠিক হলো না।”

“অশান্তি বাড়ছে। ঝগড়া চরমে। রোজ ডিভোর্সের পেপার আনছি। ধ্রুব ক্ষমা চাইছে। আমি ভাবছি, আরেকবার চেষ্টা করতে ক্ষতি কী? এভাবে যখন নিজের কাছে নিজেই অসহ্য তখন ঠিক করলাম, নিজেকে শেষ করে দেব। একবার নয়, তিনবার।”

প্রথমবার ছেলে জন্মানোর আগে এবং পরে দুবার ঘুমের ট্যাবলেট খেয়েছিলেন ছেলে জন্মানোর পরে। শেষে তাদের ডিভোর্সই হয়ে যায়।

সেই বিচ্ছেদের পর একাধিক প্রেমে জড়িয়েছেন তিনি। তার লিভ টুগেদারের মুখরোচক খবরও ছড়িয়েছে বারবার। কিন্তু প্রেমিক বা স্বামী কারোর কাছেই আর সংসারের জন্য ফিরে আসেননি তিনি।

error: Content is protected !!