আজ মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২০, ০৭:৩১ অপরাহ্ন
Smiley face

বদলগাছীতে হলুদের কন্দ পঁচা রোগ,লোকশানের মুখে কৃষকেরা !

হারুনুর রশিদ হারুন বদলগাছী(নওগাঁ) প্রতিনিধি)ঃ
নওগাঁর বদলগাছীতে অন্য ফসলের চেয়ে চাষ সহজ ও মূল্য বেশি হওয়ায় এ উপজেলায় বেড়েছে হলু্দের আবাদ। তবে চলতি মৌসুমে ক্ষেতে পচন রোগ দেখা দেওয়ায় আশানুরূপ ফলন না পেয়ে লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানাযায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে এ বছর হলুদের চাষ হয়েছে ১৮৫ হেক্টর জমিতে। উপজেলার সবচেয়ে বেশি হলুদ চাষ হয়ে থাকে কোলা ইউনিয়নে ।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত হলুদের কন্দ লাগানোর উত্তম সময়। দেরিতে হলুদ লাগালে শুধু গাছের বৃদ্ধি ঘটে, হলুদ কম হয়। হলুদকে কন্দ পচারোগ থেকে রক্ষার জন্য বীজ রোপণের আগে কন্দ শোধন করে নিতে হয়। এরপর বীজগুলো পানি থেকে উঠিয়ে বাঁশের চাটির ওপর দিয়ে ছায়ায় শুকিয়ে নিয়ে জমিতে সারিবদ্ধভাবে রোপণ করতে হয়। হলুদের বীজ হিসেবে কন্দ, মোথা, কুশি ব্যবহার করা যায়। বীজ হিসেবে কন্দকে কেটে টুকরো করা হয়। কিন্তু মোথা ও কুশি আস্ত লাগাতে হয়।

বদলগাছী উপজেলার কোলা ইউনিয়নের খামার আক্কেলপুর গ্রামের চাষী আসামুদ্দীন বলেন, ‘১০ কাঠা জমিতে হলুদ চাষ করেছি। হলুদের গোড়ায় পঁচন দেখা দিয়েছে এবং হলুদের পাতা হলধে রং থেকে লালচে হয়ে পাতা মরে যাচ্ছে। ৫০/৬০মন হলুদ পেতাম কিন্তু রোগের কারণে ১০মন হলুদ ও মনে হয় পাবনা। এবছর চাষের খরচ উঠাতে পারবো কিনা সন্দেহ।

কোলা ইউনিয়নের খামার আক্কেলপুর গ্রামের হলুদ চাষি মোফাজ্জল,বাবুল,রেজাউল,পিন্টু সহ বিভিন্ন কৃষকের সাথে কথা বলে যানাযায়, হঠাৎ করে হলুদের গোড়ায় পচন দেখা দেওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এক বিঘা জমিতে হলুদ চাষ করতে ১৫/১৮ হাজার টাকা খরচ হয়।ভাল হলুদের প্রতিমন এবার ৮০০/১০০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। হলুদের রোগ না দেখা দিলে এবার কৃষকরা মোটা অংকের লাভ পেত হলুদ থেকে। কিন্তু এ বছর শুরু থেকেই হলুদের গোড়ায় কন্দ পঁচা রোগ দেখা দেওয়ায় আগাম হলুদ তুলে ফেলতে হচ্ছে কৃষকদের, নষ্ট হলুদের দাম ও কম হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছে স্থানীয় কৃষকরা।’
এছাড়াও একাধিক কৃষক বলেন, এ বছর হলুদের পচন রোগ দেখা দেওয়ায় আমরা হলুদ চাষীরা লোকসানের মুখে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। স্থানীয় উপজেলা কৃষি অফিস থেকে হলুদের কন্দ পঁচা রোগের প্রতিকার সম্পকে কোন পরার্মশ ও দিচ্ছেনা কেউ। কৃষক বাঁচলেও কি মরলেও কি,আমাদের কথা মনে হয় ভাবার সময় নেই কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান আলী বলেন, এবছর উপজেলায় ১৮৫ হেক্টর জমিতে হলুদ চাষ হচ্ছে। হলুদের গোড়া পচন একটি ছত্রাক জনিত রোগ।
হলুদের বীজ রোপনের পূর্বে যদি হলুদের বীজ এর গুনগত মান ঠিক না থাকে সে ক্ষেত্রে হলুদ রোপনের পর ঐ ক্ষেত্রে এই ছত্রাক জনিত রোগ দেখা দেয়। কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email
error: Content is protected !!