
আজাদ হোসেন, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হলেও ঝিনাইদহে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা থামছে না। ঝিনাইদহ-৪ আসনের আওতাধীন সদর উপজেলার ফুরসুন্ধি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় হামলা, পাল্টা হামলা, বাড়ি-ঘর ও দোকান-পাট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আতঙ্কে দুই গ্রামের অধিকাংশ পুরুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় গ্রাম দুটি প্রায় পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূচনা হয়। নির্বাচনের আগে থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণার পর সেই উত্তেজনা চরমে পৌঁছে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হয় এবং অন্তত কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান মোঃ রাশেদ খান। অন্যদিকে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। পরে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, এই রাজনৈতিক বিভক্তিই সহিংসতার মূল কারণ।
ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক জাহিদ বিশ্বাস বলেন, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের লোকজন আহত হয়েছেন। তার পক্ষের চারজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কয়েকটি পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় বাড়িঘর ছেড়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।
বর্তমানে গ্রামগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকায় টহল জোরদার করেছে বলে জানা গেছে। সাধারণ মানুষ দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।