
সাজ্জাদ হোসেন , সালথা (ফরিদপুর):
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তি নিজের স্ত্রী ও স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে ঘরের বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে নির্যাতন করেছেন—এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, এসএসসি পরীক্ষার্থী ছেলের পড়াশোনার বইখাতাও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
অভিযুক্ত সাহিদ শেখ (৪৫) ওই গ্রামের মো. আকুব্বর শেখের ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং নিজেও মাদকাসক্ত। এর আগেও একাধিকবার মাদকসহ আটক হয়ে কারাভোগ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি আবারও প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
প্রতিবেশীরা জানান, সাহিদের ছেলে আশিক শেখ চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী। বাবার মাদক ব্যবসার কারণে সামাজিকভাবে অপমান ও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হওয়ায় সে বাবাকে এ পথ থেকে সরে আসতে চাপ দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত বুধবার বিকেলে সাহিদ তার স্ত্রী ও ছেলেকে ঘরের বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন। একপর্যায়ে ছেলের সব বইখাতা পুড়িয়ে দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর আশিক ও তার মা পাশের একটি গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। বাবার বিচার দাবি করে আশিক সালথা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
অভিযুক্তের স্ত্রী জাহানারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার স্বামী একজন মাদক ব্যবসায়ী। তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করেন। স্বামী নামের কলঙ্ক তিনি। সংসারও ঠিকমতো চালান না। তার মাদক ব্যবসা ও সেবনে বাধা দেওয়ায় প্রায়ই আমাকে ও আমার স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে মারধর করেন। গত বুধবার লোকজন নিয়ে বাড়িতে মাদক সেবনকালে বাধা দিলে আমাদের খুঁটিতে বেঁধে মারধর করেন। এ সময় আমার ছোট শিশুসন্তান জুনায়েদকে আটকে রেখে আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দেন। আমি দ্রুত আমার ছোট ছেলেকে ফেরত চাই। সেই সঙ্গে পাষণ্ড স্বামীর দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।”
এ বিষয়ে সালথা থানার ওসি (তদন্ত) মো. মারুফ হাসান রাসেল বলেন, “মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রী-সন্তানকে মারধরের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত সাহিদ শেখকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।