
মো. ইসমাইল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
রমজান মাসে ইফতারের টেবিলে এক ফালি আপেল বা কয়েকটা আঙুর এখন মধ্যবিত্তের কাছে কেবলই স্বপ্ন। উত্তরের জেলা দিনাজপুরে ফলের বাজারে যেন আগুন লেগেছে। আমদানিকৃত বিদেশি ফল তো বটেই, দেশি ফলের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। ফলে চাহিদার তুঙ্গে থাকা খেজুর অবিক্রিত থেকে পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
শহরের বাহাদুর বাজার, জিলা স্কুল মোড় এবং স্টেশন রোডসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে এক হাহাকার চিত্র। বাজারে ফলের সরবরাহ থাকলেও ক্রেতা নেই।
মানভেদে আপেল বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ৪৫০ টাকায়। মাল্টা ও কমলা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি। বেদানা বা আনারের দাম ঠেকেছে ৬০০ টাকায়! আঙুর মিলছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায়। সস্তায় শুধু মিলছে পেঁপে (৫০-৬০ টাকা কেজি)। এছাড়া পেয়ারা ১০০ টাকা এবং ডাব প্রতিটি ১২০-১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে প্রায় ২৬ ধরনের খেজুর থাকলেও দামের কারণে সাধারণ মানুষ ‘বস্তা খেজুর’ (২২০-২৫০ টাকা) ছাড়া কিছুই কিনতে পারছে না। অথচ সেই খেজুর মানসম্মত নয় বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। ভালো মানের আজওয়া বা মরিয়ম খেজুর ৯০০ থেকে ১৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
ফল ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, ৪০০ টাকা কেজি আপেল না বেচলে দোকান ভাড়া আর কর্মচারীর বেতন জোটে না। কার্টনে পচা ফল বের হলে লোকসান গুনতে হয়। খেজুর এখন আমাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিক্রি না হলে সব নষ্ট হবে।
ফল কিনতে আসা শাহীম আলম বলেন, সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে এখন এক কেজি নয়, গ্রাম মেপে ফল কিনতে হয়। ২৫০ গ্রাম আঙুর কিনে সান্ত্বনা খুঁজছি। আরেক ক্রেতা হাফিজুল ইসলামের মতে, মধ্যবিত্তের ইফতার তালিকা থেকে ফল বাদ পড়েছে অনেক আগেই।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, হিলি পোর্ট দিয়ে ফল আমদানি না হওয়া এবং বেনাপোল থেকে পণ্য আনতে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ ও উচ্চ শুল্কই এই দাম বৃদ্ধির মূল কারণ। রমজান ও নির্বাচনের প্রভাব বাজারকে আরও অস্থির করে তুলেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বাজারের এই অস্থিরতা কমাতে শুল্কায়ন এবং পরিবহন ব্যবস্থার তদারকির দাবি। নতুবা পুষ্টির যোগান দিতে গিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট পুরোপুরি শূন্য হয়ে পড়বে।