
লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
পাটগ্রামের ধবলগুড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ৮৭৪/৫-এস সংলগ্ন শূন্য লাইন হতে আনুমানিক ৫০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফ এর গুলিতে মোঃ আলী হোসেন (৪৯) নিহত হয়। নিহত মোঃ আলী হোসেন ধবলগুড়ি (পূর্ব পানিয়ারটারী) সরকারহাট এলাকার পিতা-মৃত আব্দুল গফুর এর ছেলে।
গত ৬এপ্রিল সীমান্তে বিএসএফ এর গুলিতে এক যুবক আহত হওয়ার ঘটনায় পতাকা বৈঠকে বিএসএফ গুলির ঘটনার ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করেন কিন্ত এর এক দিন পর ০৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ বিএসএফ এর গুলিতে এক ব্যাক্তি নিহত হলেন।
৬১ বিজিবি প্রেস সূত্রে জানায়, ধবলগুড়ি এলাকায় সীমান্ত পিলার ৮৭৪/৫-এস সংলগ্ন শূন্য লাইন হতে আনুমানিক ৫০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে ভারতীয় ১৫৬ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ এর সাতগ্রাম ক্যাম্পের এলাকায় আনুমানিক রাত ২:৫০ মিনিটে ০১ রাউন্ড এবং আনুমানিক ভোর ৪:৫০ মিনিটে পুনরায় আরও ০১ রাউন্ড ফায়ারের শব্দ শোনা যায়।
এর প্রেক্ষিতে আনুমানিক সকাল ৬:৩৫ মিনিটে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে মোবাইল কথোপকথনের মাধ্যমে বিএসএফ জানায়, আনুমানিক ০৭-০৮ জন বাংলাদেশী নাগরিক ভারতীয় সীমান্তে তারকাঁটা বেড়া কর্তনের উদ্দেশ্যে গমন করলে বিএসএফ সদস্যরা প্রথমে সতর্কতামূলক ফায়ার করে। এক পর্যায়ে চোরাকারবারীদের সাথে বিএসএফ সদস্যদের ধস্তাধস্তি/হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং এতে বাংলাদেশী নাগরিক মোঃ আলী হোসেন ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করে। বিএসএফ মৃতদেহটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ভারতীয় হাসপাতালে প্রেরণ করে।
সীমান্তে গুলি ও বাংলাদেশী নাগরিক হত্যায় ১১:০০ টায় বিজিবি ও বিএসএফ এর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।, সীমান্তে এ ধরণের হত্যা কোনভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে বিজিবি’র পক্ষ হতে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। প্রতিউত্তরে বিএসএফ কমান্ড্যান্ট বলেন, তারা ছিল চিহ্নিত এবং তালিকাভুক্ত চোরাচালানকারী। তারা চোরাচালানির উদ্দেশ্যে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করে এবং বিএসএফ সদস্যকে আঘাত করে। পরবর্তীতে, আত্মরক্ষার্থে বিএসএফ সদস্য ফায়ার করতে বাধ্য হয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর বিষয়ে বিএসএফ কমান্ড্যান্ট আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে বিজিবি এর পক্ষ থেকে প্রোটেস্ট নোট দেয়া হয়েছে এবং ব্যাটালিয়ান, সেক্টর এবং রিজিয়ন সদর দপ্তর এর পক্ষ হতে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। মৃতদেহ ভারত হতে বাংলাদেশের নিয়ে আসার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।