
সাব্বির হোসাইন :
গাজীপুরের কালীগঞ্জে অবস্থিত প্রায় ২৫০ বছরের প্রাচীন ‘১৩ গম্বুজ মসজিদ’টি মুঘল স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে আজও টিকে আছে। চুন-সুরকি আর পাতলা ইটের নিপুণ গাঁথুনিতে নির্মিত এই মসজিদটি কেবল ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং গাজীপুর জেলার ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। তবে দীর্ঘ আড়াই শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও এখনো জাতীয়ভাবে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি এই প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদটি।
কালীগঞ্জ উপজেলার এই ঐতিহাসিক মসজিদটির সবচেয়ে দৃষ্টি নন্দন বৈশিষ্ট্য হলো এর ছাদজুড়ে থাকা সুবিন্যস্ত ১৩টি গম্বুজ। তৎকালীন কারিগরদের স্থাপত্যকলা ও নিপুণ ছোঁয়ায় নির্মিত এই গম্বুজগুলো মসজিদটিকে স্থানীয় ও পর্যটকদের কাছে এক অনন্য দর্শনীয় স্থানে পরিণত করেছে। স্থানীয়দের মতে, সংস্কারের অভাবে মসজিদটির মূল অবকাঠামো কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এর আদি রূপ ও নান্দনিকতা এখনো অটুট রয়েছে।
ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, কালীগঞ্জের এই স্থাপনার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী কাপাসিয়ার সুলতানপুরেও রয়েছে প্রায় ৬০০ বছরের পুরনো শাহী মসজিদ। এই প্রাচীন মসজিদগুলো প্রমাণ করে যে, এই অঞ্চলটি কয়েকশ বছর আগে থেকেই একটি সমৃদ্ধ জনপদ এবং ইসলামী সংস্কৃতি ও স্থাপত্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল।
বর্তমানে মসজিদটির বাহ্যিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে স্থানীয়ভাবে কিছু সংস্কার ও রং করা হয়েছে। তবে সচেতন মহলের দাবি, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কারিগরি তদারকি ছাড়া এই প্রাচীন কাঠামোর স্থায়ী স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এর দেয়ালের সূক্ষ্ম নকশা ও আদি কারুকার্য ক্রমেই নষ্ট হতে শুরু করেছে।
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, অবিলম্বে এই ১৩ গম্বুজ মসজিদটিকে দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের তালিকাভুক্ত করা হোক। একইসাথে এটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষিত হলে পর্যটন শিল্পের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গাজীপুরের এই গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের।
সাব্বির হোসাইন
সাংগঠনিক সম্পাদক, কালীগঞ্জ উপজেলা সাংবাদিক ফোরাম।