
সামীর আল মাহমুদ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি :
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বাঘড়ী বাজার এলাকায় গতকাল রাতে ওয়াল্টন প্লাজার পাশের একটি গলির ভেতরে ভাড়া বাসা থেকে মনি (২৫) নামে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।স্বামীর বিরুদ্ধে নিহত পরিবারের হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
নিহত মনি রাজাপুর উপজেলার ২নং শুক্তাগড় ইউনিয়নের বামনকাঠী গ্রামের খলিলুর রহমানের মেয়ে।নিহতের পিতার সূত্রে জানা গেছে, তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
নিহত মনির স্বামী নূর উদ্দিন একজন পুলিশ সদস্য,বর্তমানে নূর উদ্দিন ঝালকাঠি পুলিশ লাইনে কর্মরত বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে জানানো হয় যে বাগরি বাজার ওয়ালটন প্লাজাসংলগ্ন মসজিদ গলির একটি ভাড়া বাসায় এক নারী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে রাজাপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
নুর উদ্দিন রাজাপুর উপজেলার সাবেক সার্কেল এসপি মাসুদ রানার গানম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।তার বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায়।
নিহত পরিবারের অভিযোগ মনি’কে তার স্বামী হত্যা করে পাঁচ বছরের ছেলে সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে গেছে। হত্যার পরে শ্বশুরকে ফোন করে নূর উদ্দিন জানান “আপনার মেয়ে আর নেই।”
নিহতের বাবা খলিলুর রহমান জানান, তাঁর জামাতা নুর উদ্দিন ঝালকাঠি জেলা পুলিশ লাইনসে কর্মরত ছিলেন এবং রাজাপুর সার্কেল অফিসে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারের গানম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি প্রায় পাঁচ-ছয় মাস ধরে কর্মস্থলে অনিয়মিত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন। তিনি আরও জানান, দাম্পত্যজীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাও ঘটত বলে তিনি দাবি করেন। মনি আক্তারের একটি পাঁচ বছর বয়সী ছেলেসন্তান রয়েছে।
পরিবারের সুত্রে জানা যায় , ঘটনার রাতে নুর উদ্দিন নিহতের পরিবারকে ফোন করে বলেন, ‘মনি আর নেই, আপনারা দ্রুত বাসায় আসেন।’ পরে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা খোলা অবস্থায় দেখতে পান। ভেতরে প্রবেশ করে তাঁরা মনি আক্তারকে মেঝেতে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। কিন্তু ঘরের ফ্যানের সঙ্গে একটি ওড়না ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল।
পরবর্তীকালে তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং পুলিশকে খবর দেয়।
খবর পেয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (রাজাপুর-কাঠালিয়া সার্কেল) মো. শাহ আলম এবং রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য নুর উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকেই তিনি তাঁর শিশু সন্তানকে নিয়ে পলাতক।
ঘটনার বিষয়ে রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুজন বিশ্বাস বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।’
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ছবি :স্বামী নুরুদ্দিন ,নিহত স্ত্রী মনি