
নরসিংদীতে নারীদের ব্যবহার করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ, নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বুধবার (৬ মে) বিকেলে জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— পলাশ উপজেলার জিনারদী এলাকার অহিদ মিয়ার মেয়ে শারমিন আক্তার ওরফে বৃষ্টি (২৪), নরসিংদী সদরের হাজীপুর এলাকার হিরণ মিয়ার মেয়ে স্মৃতি আক্তার (২০), উত্তর বাগহাটা গ্রামের আরমান মিয়ার ছেলে মো. কাইয়ুম (২৫) ও খাটেহারা গ্রামের জসিম মিয়ার ছেলে ফয়সাল মিয়া (৩৪)।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নরসিংদী পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ্-আল-ফারুকের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের একটি দল মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে সাহেপ্রতাপ ও রেলস্টেশন এলাকা থেকে হানি ট্র্যাপ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে নারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলত। পরে দেখা করার কথা বলে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে অপহরণ ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো। কোনো কোনো সময় ভুক্তভোগীদের বিবস্ত্র করে নারী সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হতো। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হতো।
অভিযানকালে গ্রেপ্তার ফয়সাল মিয়ার কাছ থেকে এক ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ফয়সাল মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গ্রেপ্তার স্মৃতি আক্তারের বিরুদ্ধে অপহরণ ও চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। অন্যদিকে, ফয়সাল মিয়ার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, মাদক ও চুরিসহ নরসিংদী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে।
নরসিংদীর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক এরশাদ উল্লাহ বলেন, ‘সম্প্রতি শহরের নাগরিয়াকান্দা এলাকায় এক যুবক হানি ট্র্যাপের শিকার হয়। বিষয়টি আমাদের নজরে আসলে আমরা অভিযান চালিয়ে এই চক্রের চার জনকে গ্রেপ্তার করি। বাকিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান চলছে। এ ঘটনায় নরসিংদী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’