আজ রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২০, ০১:৪১ অপরাহ্ন

যশোরে দুই হাজার পিস ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ গ্রেফতার ২

সেলিম আহম্মেদ, স্টাফ রিপোর্টারঃ
সদর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে মাদক সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য শার্শা থানার ভবের বেড় মাঝের পাড়া গ্রামের রবিউল ইসলাম ও শার্শা বাজার কলেজের সামনে নুর আলী সরদারের ছেলে শাহাবুল নামক এক বিকাশ এজেন্টকে গ্রেফতার করেছে। এদের দখল হতে পুলিশ ২ হাজার পিস ইয়াবা ও ইয়াবা বেচাকেনার নগদ ২লাখ ৭৬ হাজার টাকা উদ্ধার করে জব্দ তালিকা করেছেন। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে কোতয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পুলিশ অফিসের সভা কক্ষে সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠানে অতিরিক্তি পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন সিকদার এ তথ্য জানান।
তিনি আরো বলেন,যশোর সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক তুষার কুমার মন্ডল এর নেতৃত্বে এসআই শরিফুল ইসলামসহ একদল পুলিশ বুধবার দুপুর বেলা পৌনে ৩ টায় গোপন সূত্রে খবর পেয়ে চাঁচড়া মোড়স্থ জনৈক শাহিনুর রহমানের মিষ্টির দোকানের সামনে থেকে মৃত শেখ রইচ উদ্দিনের ছেলে রবিউল ইসলামকে ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে। রবিউল ইসলাম গ্রেফতার হওয়ার পর পুলিশকে জানায়, মাদক চক্রের গডফাদার ভারতীয় নাগরিক আরাফাত নামক ব্যক্তি অজ্ঞাতস্থানে থেকে বেনাপোলেল পারভেজ ও সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা মনিরুল নামক ব্যক্তির সহায়তায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করে। বেনাপোলের পারভেজের সাথে যোগাযোগ করলে পারভেজ এর নির্দেশে উক্ত ২ হাজার পিস ইয়াবা ক্রয়ের জন্য যশোরের শার্শা উপজেলার শাহাবুল নামক বিকাশ এজেন্ট এর নিকট নগদ ২লাখ টাকা প্রদান করেছে। রবিউল ইসলাম আরো জানায়, পরবর্তীতে আরাফাত রবিউল ইসলামকে মনির এর সাথে যোগাযোগ করালে শার্শা এলাকায় এসে মনির তাকে ২ হাজার পিস ইয়াবা হস্তান্তর করে। মনিরের কাছে থেকে রবিউল ইসলাম উক্ত ইয়াবা নিয়ে বেশী দামে বিক্রির জন্য যশোর শহরের দিকে আসছিল। পরবর্তীতে চাঁচড়া মোড়স্থ এলাকায় অবস্থান কালে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। রবিউল ইসলামের দেয়া তথ্য মতে পুলিশ বিকাশ এজেন্ট শাহাবুলকে গ্রেফতার করে। এ সময় শাহাবুলের কাছে আরাফাতকে পরিশোধ করার জন্য রক্ষিত রবিউল ইসলামের দেওয়া ২লাখ ৭৬ হাজার উদ্ধার করে। পরে তাদেরকে নিয়ে পলাতক আসামী আরাফাত,মনির,পারভেজকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালায়। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রেখে গ্রেফতারকৃত আসামীদের কোতয়ালি মডেল থানায় সোপর্দ করে মাদক আইনে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানায়, মনির মানি লন্ডারিংয়ের সাথে জড়িত। এই চক্রটি র্দীঘদিন যাবত ইয়াবা বেচাকেনার বড়বড় চালান পাচার এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে বেশী দামে বিক্রি করছেন। বৃহস্পতিবার গ্রেফতারকৃত শার্শার রবিউল ইসলাম ও শাহাবুলকে আদালতে সোপর্দ করেছেন।

প্রেস ব্রিফিংকালে অতিরিক্তি পুলিশ সুপার আরো বলেন, সদর পুলিশ ফাঁড়ির হাতে মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় শহরের লোন অফিস পাড়াস্থ জনৈক মোঃ ফারুক হোসেন বাবু দ্বিতীয়তলার পূর্ব পাশের্র ভাড়াটিয়া মাহমুদুর রহমান ওরফে লিটনকে ও তার স্ত্রী আরিফিন আক্তার ওরফে জুঁই ওরফে রুশাকে ১৫শ’ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে। স্বামীস্ত্রী সাতক্ষীরা জেলার সদর উপজেলার মোহনপুর গামের বাসিন্দা। একইদিন সন্ধ্যারাত সোয়া ৭ টায় শহরের মনিহার মোড়স্থ ক্যাফে জান্নাত হোটেলের সামনে থেকে উক্ত ফাঁড়ির সদস্যরা শহরের আরকে মিশন রোড শংকরপুর হারানো বস্তিরর আব্দুল হকের ছেলে শাহাদৎ হোসেন ওরফে নাটাইকে ২শ’ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে। এছাড়া, উক্ত ফাঁড়ির সদস্যরা মঙ্গলবার রাত সোয়া ৮ টার পর শহরের ধর্মকতলা মোড়স্থ জনৈক রাসেল হোসেন এর মুদী দোকানের সামনে থেকে সদর উপজেলার সুজলপুর ১নং পাড়ার মকবুল হোসেনের ছেলে গোলাপ হোসেনকে ৩শ’ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে। মূলত মাদকের এই সিন্ডিকেট যশোর অঞ্চলে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

error: Content is protected !!