
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতির মধ্যেই সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নির্ধারণে এমন অসংগতি সামনে এসেছে। নির্ধারিত নিয়মে হিসাব করতে গিয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে উচ্চতর গ্রেডে থাকা কর্মীর চেয়ে পরের গ্রেডের কর্মীর মূল বেতন বেশি দাঁড়াচ্ছে। এতে নতুন পে স্কেল কার্যকরের আগে বেতন সমন্বয় নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২৫ হাজার টাকা এবং ১২তম গ্রেডের ক্ষেত্রে ২৪ হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণের কথা। সে হিসাবে ১১তম গ্রেডের কর্মীর মূল বেতন ১২তম গ্রেডের কর্মীর চেয়ে ৭০০ টাকা বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু বেতন সমন্বয়ের একটি হিসাবের উদাহরণে দেখা গেছে, ১১তম গ্রেডের কর্মীর মূল বেতন ৩৭ হাজার টাকা হলেও ১২তম গ্রেডের কর্মীর বেতন দাঁড়াচ্ছে ৩৭ হাজার ৭০০ টাকা। ফলে তুলনামূলক নিচের গ্রেডের কর্মী ৭০০ টাকা বেশি মূল বেতন পাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কর্মচারীদের অভিযোগ, নতুন বেতন কাঠামোর নিয়ম প্রয়োগে অসংগতি থাকায় এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁদের মতে, গ্রেডের ক্রম ও বেতন নির্ধারণের নিয়মগুলো পুনরায় পর্যালোচনা না করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।
এদিকে আগামী ১ নভেম্বর থেকে নতুন কাঠামোর আওতায় চার মাসের বকেয়সহ বর্ধিত বেতন পাওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগে সব কর্মীর বেতন হিসাব চূড়ান্ত করা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মোট ১৪ লাখ কর্মীর মধ্যে সোমবার পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখের বেতন নির্ধারণ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি দুই লাখ কর্মীর হিসাব তখনো চূড়ান্ত করা যায়নি।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির পর ৫ অক্টোবর থেকে বেতন নির্ধারণের কাজ শুরু হয়। কিন্তু গ্রেডের ক্রম, উচ্চতর গ্রেড ও বাড়িভাড়া ভাতা হিসাব করার ক্ষেত্রে নানা জটিলতা দেখা দেয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আইবাস++ সফটওয়্যারে বেতন নির্ধারণসংক্রান্ত সমস্যাও। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-সংক্রান্ত হিসাব নিয়েও জটিলতার কথা উঠে এসেছে।
সমস্যা সমাধানে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে আবেদন জানানো হলেও মঙ্গলবার পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি বলে সরবরাহ করা তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অর্থসচিবের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, প্রজ্ঞাপন তৈরি ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণে কিছু ভুল হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন। সমস্যা সমাধানে এখন অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাঁদের নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি, তাঁরা আপাতত পুরোনো নিয়মে বেতন পাবেন। আটকে থাকা বকেয়া অর্থ পরে পরিশোধ করা হবে। তবে ১ নভেম্বরের মধ্যে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বেতন নির্ধারণের জটিলতা কাটবে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।