
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের লড়াইয়ে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকার শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথম দিনের দ্বিতীয় সেশন শেষে ৫৯ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে ১৭৭ রান সংগ্রহ করেছে স্বাগতিকরা। দলের হয়ে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করছেন সাদমান ইসলাম ও তাওহিদ হৃদয়। সাদমান ১৬৭ বল মোকাবিলা করে ৭৯ রানে অপরাজিত রয়েছেন। অন্যদিকে হৃদয় ৭৪ বলে ৩৬ রান নিয়ে অপরাজিত থেকে তাঁকে সঙ্গ দিচ্ছেন। তিনটি উইকেট হারালেও বাংলাদেশের ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে সাদমানের ধৈর্যশীল ব্যাটিং এবং হৃদয়ের সঙ্গে তাঁর চলমান জুটি দলকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে।
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়া পরবর্তী সময়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে শুরু থেকেই উইকেটে টিকে থাকার পাশাপাশি রান সংগ্রহে মনোযোগী ছিল বাংলাদেশের ব্যাটাররা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা নিয়মিত চাপ তৈরির চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ তিনটি উইকেট হারানোর পরও ইনিংস এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। ৫৯ ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে ১৭৭ রান যোগ হওয়া বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে টেস্ট ম্যাচের দীর্ঘ পরিসরে এই সংগ্রহকে বড় স্কোরে রূপ দিতে পরবর্তী ব্যাটারদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বাংলাদেশের ইনিংসে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন সাদমান ইসলাম। ওপেনিংয়ে নেমে দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে প্রতিপক্ষের বোলারদের মোকাবিলা করেছেন তিনি। ১৬৭ বলে ৭৯ রান করার পথে আটটি চার মেরেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তাঁর স্ট্রাইক রেট ৪৭ দশমিক ৩১, যা টেস্ট ক্রিকেটের পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। দীর্ঘ ইনিংস খেলার মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন দলের রান বাড়িয়েছেন, অন্যদিকে তেমনি উইকেট ধরে রেখে পরবর্তী ব্যাটারদের জন্য কাজ করার সুযোগ তৈরি করেছেন। সাদমানের সামনে এখন ব্যক্তিগত শতকের পাশাপাশি দলের সংগ্রহ আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ রয়েছে। তবে শতকের মাইলফলক ছোঁয়ার আগে তাঁকে মনোযোগ ধরে রেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং আক্রমণ সামলাতে হবে।
অন্যদিকে তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটিংও বাংলাদেশের ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ৭৪ বল খেলে ৩৬ রান নিয়ে অপরাজিত থাকা এই ব্যাটার সাদমানের সঙ্গে জুটি গড়ে ইনিংস এগিয়ে নিচ্ছেন। তাঁর ইনিংসে রয়েছে তিনটি চার। তিন উইকেট পড়ে যাওয়ার পর নতুন করে উইকেট হারানো এড়িয়ে রান সংগ্রহ অব্যাহত রাখা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় সাদমান ও হৃদয়ের মধ্যে সমন্বয় এবং পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিং করার দক্ষতা ম্যাচের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁদের জুটি যত দীর্ঘ হবে, বাংলাদেশের বড় সংগ্রহ গড়ার সম্ভাবনাও তত বাড়বে। একই সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের নতুন করে উইকেট নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে আসবে।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে তিনটি উইকেট নিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা। স্কোরকার্ড অনুযায়ী, তাওহিদ হৃদয় ৭ রান করে জাস্টিন গ্রিভসের বলে জেডেন সিলসের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। মমিনুল হক ২৮ রান করে শামার জোসেফের বলে জোমেল ওয়ারিকানের হাতে ক্যাচ দেন। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৪২ বল খেলে ১৯ রান করার পর ওয়ারিকানের বলে এলবিডব্লিউ হন। এর আগে উইকেট হারালেও বাংলাদেশ ইনিংস পুনর্গঠনে সক্ষম হয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে জোমেল ওয়ারিকান দুটি এবং জেডেন সিলস একটি উইকেট নিয়েছেন। বাকি বোলাররা উইকেট না পেলেও রান আটকে রাখার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন।
বাংলাদেশের ইনিংসে অতিরিক্ত থেকে এসেছে আট রান। এর মধ্যে তিনটি নো বল, তিনটি বাই এবং দুটি লেগ বাই রয়েছে। ফলে ৫৯ ওভার শেষে মোট সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ১৭৭ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের মধ্যে সিলস আট ওভার বল করে ১৪ রান দিয়ে একটি উইকেট নিয়েছেন। শামার জোসেফ নয় ওভারে ২৪ রান দিয়েছেন। রোস্টন চেজ নয় ওভারে ৩৮ রান এবং গ্রিভস ১০ ওভারে ৩০ রান খরচ করেছেন। জোমেল ওয়ারিকান ১১ ওভারে ২৮ রান দিয়ে দুটি উইকেট নিয়েছেন। অন্যদিকে জাস্টিন গ্রিভসের বলে তাওহিদ হৃদয়ের আউট হওয়ার পর বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ওঠে। এই পর্যায়ে উইকেট ধরে রাখাই স্বাগতিকদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
বাংলাদেশের সামনে এখন প্রথম ইনিংসে যতটা সম্ভব বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ রয়েছে। সাদমান ইসলাম ও তাওহিদ হৃদয় যদি নিজেদের বর্তমান অবস্থান ধরে রেখে ব্যাটিং চালিয়ে যেতে পারেন, তাহলে পরবর্তী সময়ে স্কোর আরও বাড়ানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাঈম হাসান, তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ ও শরীফুল ইসলামের মতো পরবর্তী ব্যাটারদেরও অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে। টেস্ট ক্রিকেটে একটি দলের প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাংলাদেশের জন্য দ্রুত রান তোলার চেয়ে উইকেটের মূল্য বুঝে পরিকল্পিত ব্যাটিং করা বেশি জরুরি। ১৭৭ রানে তিন উইকেট হারানোর এই অবস্থান থেকে ইনিংসকে বড় সংগ্রহে রূপ দেওয়াই এখন স্বাগতিকদের প্রধান লক্ষ্য।