
(মোঃইসমাইল সিরাজী)
গাইবান্ধা প্রতিনিধি,
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধর্মপুর বাজারে নিয়ম মেনে লিজ নেওয়া একটি দোকানঘর জবরদখল করে রাখা এবং দীর্ঘ ১৭ মাস ধরে ভাড়া না দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী হাবিজার রহমান জীবনের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চেয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অনুসন্ধান ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যথাযথ নিয়ম মেনে ধর্মপুর বাজারের একটি দোকানঘর লিজ বা ইজারা নেন স্থানীয় ব্যবসায়ী হাবিজার রহমান। পরবর্তীতে পারস্পরিক চুক্তি অনুযায়ী হাবিজার রহমানের কাছ থেকে দোকানটি ভাড়ায় নেন স্থানীয় ধর্মপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সামিউল রহমান টিটন।
শুরুতে ভাড়া নিয়মিত পরিশোধ করা হলেও বিগত ১৭ মাস ধরে দোকানের কোনো ভাড়া দিচ্ছেন না অভিযুক্ত বিএনপি নেতা। ভুক্তভোগী হাবিজার রহমান বকেয়া ভাড়ার তাগাদা দিলে এবং দোকান ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালে অভিযুক্ত নেতা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেন। নিজেকে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি হাবিজার রহমানকে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে রাজনৈতিক শক্তির জোর দেখিয়ে তিনি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে দোকানটি দখল করে রেখেছেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী হাবিজার রহমান বলেন, আমি সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে ২০০৯ সালে দোকানটি লিজ নিয়েছিলাম। সামিউল রহমান টিটন আমার কাছ থেকে ঘরটি ভাড়া নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করলেও দীর্ঘ ১৭ মাস ধরে এক টাকাও ভাড়া দিচ্ছেন না। বকেয়া ভাড়া ও দোকান ছেড়ে দিতে বললে তিনি রাজনৈতিক পদের দাপট দেখিয়ে আমাকে হুমকি দেন এবং জোরপূর্বক ঘরটি দখল করে রাখেন। আমি এর সুষ্ঠু বিচার, বকেয়া ভাড়া আদায় এবং আমার দোকানঘরটি ফেরত চাই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সামিউল রহমান টিটোন বলেন, দোকানে আমার শ্যালক ব্যবসা করে, তাকে তো হুট করে বের করে দেওয়া যায় না। আমি খুব দ্রুত দোকানটি ছেড়ে দেবো, এ বিষয়ে আমি একটু সময় চাচ্ছি।
এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দার তাঁরা মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিজের অর্থায়নে দোকানঘর নির্মাণ করে ব্যবসায়ী হাবিজার তার নিজে ব্যবসা এবং একটি ঘর ভাড়া দিয়ে আসছেন, হঠাৎ করে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সামিউল ভাড়ার কথা বলে, ঠিক মতো ভাড়াও দিচ্ছে না, দখল মুক্ত করছে না। এলাকায় অনেক বার বসা হলেও দলীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে কালক্ষেপণ করে যাচ্ছে।
স্থানীয় তাজুল ইসলাম বলেন, সুকৌশলে দোকানের চাবি নিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সামিউল ইসলাম। বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করছে বলে জানান।
এব্যাপারে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাহমুদুল ইসলাম প্রামানিক বলেন, বিষয়টি আমি নিজেই জানি এবং সামিউল ইসলাম কে অনেকবার বলেছি স্থানীয় ভাবে সমাধানের জন্য। একজন ইউনিয়ন বিএনপির দায়িত্বশীল পদে থেকে কোন ব্যক্তি দূর্নীতি অনিয়ম করলে নিউজ করতে পারেন, এব্যাপারে দলের সবসময়ই পাশে পাবেন।
এই ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বাজারের ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার করে সাধারণ ব্যবসায়ীর অধিকার হরণ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে এই জবরদখল ও অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
মোঃইসমাইল সিরাজী
গাইবান্ধা।
২৯ অক্টোবর ২৬