আজ শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৬:২৫ অপরাহ্ন

দেড় বছরেও শুরু হয়নি মহাদেবপুরে দুটি সেতুর নির্মাণ কাজ

হারুনুর রশিদ হারুন জেলা প্রতিনিধি নওগাঁঃ-
সেতু নির্মাণকাজে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সাংসদ ঘটা করে নির্মাণকাজের ভিত্তিফলকও উন্মোচন করেন। কিন্তু দেড় বছরেও কাজ শুরু হয়নি। নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার আত্রাই নদীর শিবগঞ্জ ও কালনা ঘাটে দুটি সেতু নির্মাণকাজের কোন ভূমিকা নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ওই দুটি স্থানে সেতু নির্মাণ না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের নড়বড়ে সাঁকোতে চড়ে নদী পারাপার হতে হচ্ছে জীবনভর।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ (সিআইবিআরআর) প্রকল্পের অধীনে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মহাদেবপুরে আত্রাই নদীর ওপর উপজেলার শিবগঞ্জ ঘাট ও কালনা ঘাট এলাকায় দুটি সেতু নির্মাণ প্রকল্প পাশ হয়। শিবগঞ্জ ঘাটে ২৯৪ মিটার সেতু নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় ২৬ কোটি ৬৯ লাখ ২৪ হাজার টাকা। আর কালনা ঘাটে ৩৫০ মিটার সেতু নির্মাণকাজে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় ৩৪ কোটি ৪৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা। প্রকল্পটি পাশ হওয়ার দরপত্র আহ্বায়নের পর যথাযথ নিয়মে ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়। কাজ দুটি পান মিলন-এসিএল-এমএইচসিএল নামে নওগাঁর একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদার কাজ শুরুর কার্যাদেশ পান ২০১৮ সালের ১৪ মে। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত।

img-add

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিবগঞ্জ ও কালনা ঘাট দুটিতে সেতু নির্মাণের ভিত্তিফলক দেখা গেলেও নির্মাণকাজের কোনো কর্মযজ্ঞই শুরু হয়নি। ওই দুটি স্থানেই বাঁশের সাঁকোতে করে লোকজন নদী পারাপার করছেন। ভিত্তিফলকে লেখা রয়েছে, স্থানীয় সাংসদ ছলিম উদ্দিন তরফদার একই দিনে (২০১৮ সালের ১৬ অক্টোবর) সেতু দুটি নির্মাণকাজের ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন।

শিবগঞ্জ ঘাটের বাঁশের সাঁকোর ছবি তোলার সময় সাঁকো পার হচ্ছিলেন শিবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গৌতম চন্দ্র। তিনি আক্ষেপ করে বললেন, ‘এই এলাকার মানুষের একটি বড় স্বপ্ন যে এখানে একটি সেতু হবে। কিন্তু সেই আশা মনে হয় সহসা পূরণ হবে না। গত নির্বাচনের আগে সেতু নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার সময় আমাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল, এবায় হয়তো স্বপ্ন পূরণ হবে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ওটা ছিল লোক দেখানো। ভোট শেষ সেতু নির্মাণের তোড়জোড়ও শেষ।’ সেখানেই কথা হয় উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘শিবগঞ্জ ঘাটে একটি সেতু নির্মাণ হলে উপজেলার অন্তত চারটি ইউনিয়নের ৪০-৫০ গ্রামের মানুষের ভাগ্যের চাকা খুলে যাবে। উপজেলা সদর ও জেলা সদরে যাতায়াতে এখানকার মানুষের অনেক দূরত্ব কমে যাবে।’

এদিকে কালনা ঘাটে আত্রাই নদীর পশ্চিম পাশে অবস্থিত উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মহিষবাথান বাজার। এই বাজারে সপ্তাহের ধান ও অন্যান্য কৃষিপণ্য কেনাবেচা হয়। এখানে একটি উচ্চ বিদ্যালয়, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেশ কয়েকটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল, কয়েকটি ব্যাংক ও একটি সরকারি খাদ্য গুদাম রয়েছে।

কালনা ঘাটে গিয়ে কথা হয় মহিষবাথান গ্রামের বাসিন্দা হাতুড় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মতিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে এমপি মহোদয় বেশ ঘটা করে এখানে ৩৪ কোটি ব্যয়ে সেতু নির্মাণ হবে বলে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে গেলেন। জনসভায় বক্তব্যও দিলেন। লোকজনের তালি পেলেন। এখন আর সেতু নির্মাণের কোনো খবর নেই। ঠিকাদার একটা ইটও ফেলেননি। অথচ এখানে একটি সেতু নির্মাণ হলে হাজার হাজার মানুষের উপকার হবে।’ সুগম হবে এলাকাবাসীর যোগাযোগ পথ।

এ ব্যাপারে এলজিইডি নওগাঁ জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মাকসুদুল আলম বলেন, ‘এলজিইডির বাস্তবায়নে ওই দুটি সেতু নির্মাণে সেতুর যে নকশা পাঠানো হয়েছিল তাতে বড় ধরণের ভুল ছিল। সেতুর দূরত্বও বেশি দেখানো হয়েছিল। এসব ভুলভ্রান্তি দূর করে নতুন করে মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়। নতুন করে পাঠানো প্রকল্পটি ইতোমধ্যে পাস হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে আগামী মাসে নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করা যাবে। দরপত্র যাচাইবাছাইয়ের মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচন হলে আগামী অর্থবছরে ওই সেতু নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে বলে তিনি জানান।’ এ বিষয়ে মহাদেবপুর উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

error: Content is protected !!