
কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : মো. জাকারিয়া হোসেন
২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ধস নেমেছে। ২০২৫ সালে জেলার শীর্ষস্থান অর্জন করা কলেজটিতে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১১৯ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪১ জনে।
দুই বছরের ফলাফলের তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়, শুধু জিপিএ-৫ প্রাপ্তিই নয়, কলেজটির সামগ্রিক পাসের হারও কমেছে।
২০২৬ সালের ফলাফল অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে মোট ৬৯০ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ৫৭৯ জন। ফলে কলেজটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৮৩ দশমিক ৯১ শতাংশ। এ বছর জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ৪১ জন শিক্ষার্থী।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজটির পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। ওই বছর ১১৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করে, যা জেলায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
এক বছরের ব্যবধানে কলেজটির পাসের হার কমেছে ৮ দশমিক ৭২ শতাংশ পয়েন্ট। অন্যদিকে, জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৭৮ জন। শতকরা হিসাবে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে প্রায় ৬৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ। অর্থাৎ, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে কলেজটির জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে।
দুই বছরের ফলাফল এক নজরে
সূচক| ২০২৫| ২০২৬
পাসের হার| ৯২.৬৩%| ৮৩.৯১%
জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী| ১১৯ জন| ৪১ জন
পাসের হারের পরিবর্তন| —| ৮.৭২ শতাংশ পয়েন্ট কম
জিপিএ-৫ প্রাপ্তির পরিবর্তন| —| ৭৮ জন বা প্রায় ৬৫.৫৫% কম
ফলাফলের এই পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের এইচএসসি ফলাফল আগের বছরের তুলনায় নিম্নমুখী হয়েছে। তবে পাসের হারের পতনের চেয়ে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে সর্বোচ্চ ফলাফল জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রে।
২০২৫ সালে যেখানে ১১৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়ে কলেজটিকে জেলার শীর্ষস্থানে নিয়ে গিয়েছিল, সেখানে ২০২৬ সালে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা ৪১ জনে নেমে আসা কলেজটির ফলাফলে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।