
মোটরসাইকেল চালানোর জন্য শুধু ড্রাইভিং লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট থাকলেই হয় না, ট্যাক্স টোকেনও হালনাগাদ রাখতে হয়। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ট্যাক্স টোকেন নবায়ন না করলে সড়কে মোটরসাইকেল চালানোর সময় আইনগত জটিলতায় পড়তে পারেন। আগে ট্যাক্স টোকেন নবায়নের জন্য ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট অফিসে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। তবে বর্তমানে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ডিজিটাল সেবা এবং অনুমোদিত পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে ঘরে বসেই ট্যাক্স টোকেন নবায়নের ফি পরিশোধের সুযোগ রয়েছে।
অনেক মোটরসাইকেল মালিক জানতে চান, অনলাইনে বাইকের ট্যাক্স টোকেন নবায়ন করতে কী করতে হবে, কত টাকা লাগবে, কোন ওয়েবসাইটে আবেদন করতে হবে এবং পেমেন্টের পর নতুন টোকেন কীভাবে পাওয়া যাবে। পুরো প্রক্রিয়াটি বুঝতে হলে প্রথমে জানতে হবে, ট্যাক্স টোকেনের ফি সবার জন্য এক নয়। মোটরযানের ধরন ও বিআরটিএর রেকর্ড অনুযায়ী নির্ধারিত ফি দিতে হয়। তাই অন্য কারও মোটরসাইকেলের ফি দেখে নিজের বাইকের খরচ নির্ধারণ করা ঠিক হবে না।
বাইকের ট্যাক্স টোকেন কী এবং কেন নবায়ন করতে হয়?
ট্যাক্স টোকেন হলো মোটরযানের নির্ধারিত সড়ক কর বা রোড ট্যাক্স পরিশোধের প্রমাণপত্র। মোটরযান নিবন্ধনের সময় বিআরটিএ প্রথম ট্যাক্স টোকেন ইস্যু করে। এরপর নির্ধারিত মেয়াদ অনুযায়ী মালিককে ট্যাক্স টোকেন নবায়ন করতে হয়।
মোটরসাইকেলের ট্যাক্স টোকেনের মেয়াদ শেষ হলে সেটি নবায়ন করা প্রয়োজন। ট্যাক্স টোকেন হালনাগাদ না থাকলে সড়কে চলাচলের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেকিংয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন। এ ছাড়া মোটরযানের অন্যান্য কাগজপত্র হালনাগাদ করার ক্ষেত্রেও ট্যাক্স টোকেন গুরুত্বপূর্ণ।
ট্যাক্স টোকেন এবং ফিটনেস সনদ এক বিষয় নয়। মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে সাধারণত ট্যাক্স টোকেন নবায়নের বিষয়টি প্রাসঙ্গিক হলেও সব ধরনের মোটরযানের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। তাই নিজের মোটরযানের ধরন অনুযায়ী বিআরটিএর নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
অনলাইনে বাইকের ট্যাক্স টোকেন নবায়ন করতে কত টাকা লাগে?
মোটরসাইকেলের ট্যাক্স টোকেন নবায়নের জন্য নির্দিষ্ট একটি ফি সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, মোটরযানের প্রকৃতি, আসনসংখ্যা বা বহনক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ডের ভিত্তিতে রোড ট্যাক্স নির্ধারিত হয়। মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে নিবন্ধন নম্বর দিয়ে বিআরটিএর ফি ক্যালকুলেটরে তথ্য যাচাই করে নির্ধারিত অর্থ জানা যায়।
নিজের বাইকের ফি জানতে বিআরটিএর নিবন্ধিত মোটরযানের ফি ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারেন। সেখানে মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে প্রযোজ্য ফি নির্বাচন করতে হবে। নিরাপত্তা কোড পূরণ করে হিসাব করলে সিস্টেমে সংশ্লিষ্ট ফি দেখানো হবে।
ফি যাচাইয়ের জন্য বিআরটিএর সরকারি ওয়েবসাইটের নিবন্ধিত মোটরযানের ফি ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন। পেমেন্টের আগে সিস্টেমে প্রদর্শিত টাকার পরিমাণ মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।
বিকাশের মাধ্যমে বিআরটিএর ফি পরিশোধ করলে অতিরিক্ত চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে। বিকাশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিআরটিএ ফি পরিশোধে ১ দশমিক ৫ শতাংশ চার্জ প্রযোজ্য। ফলে মূল সরকারি ফি এবং পেমেন্ট সেবার চার্জ আলাদা করে হিসাব করতে হবে। অন্য পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট মাধ্যমের প্রদর্শিত চার্জ দেখে নেবেন।
অনলাইনে ট্যাক্স টোকেন নবায়নের জন্য কী কী প্রয়োজন?
অনলাইনে ট্যাক্স টোকেন নবায়নের আগে কয়েকটি তথ্য ও কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা ভালো। প্রথমত, মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রয়োজন হবে। কারণ এই নম্বরের মাধ্যমে বিআরটিএর রেকর্ডে মোটরযানের তথ্য শনাক্ত করা হয়।
দ্বিতীয়ত, আগের ট্যাক্স টোকেনের তথ্য ও কপি কাছে রাখা উচিত। বিআরটিএর প্রকাশিত নির্দেশনায় ট্যাক্স টোকেন নবায়নের ক্ষেত্রে পূর্বে ইস্যু করা ট্যাক্স টোকেন সার্টিফিকেটের মূল কপির কথা উল্লেখ রয়েছে। অনলাইন পেমেন্টের ক্ষেত্রে সব সময় কাগজপত্র আপলোড করতে হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট সেবার নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
এ ছাড়া মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট বা স্মার্ট কার্ড, মালিকের জাতীয় পরিচয়পত্র, সচল মোবাইল নম্বর এবং পেমেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ প্রস্তুত রাখা ভালো। অনলাইন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করলে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর বা লগইন তথ্যও প্রয়োজন হতে পারে।
মোটরসাইকেলের মালিকানা পরিবর্তন হয়ে থাকলে বিআরটিএর রেকর্ডে মালিকের তথ্য হালনাগাদ আছে কি না, সেটিও যাচাই করুন। রেজিস্ট্রেশন নম্বর বা মালিকানার তথ্যে অসংগতি থাকলে অনলাইন সেবায় সমস্যা হতে পারে।
BRTA ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলবেন যেভাবে
অনলাইনে বিআরটিএর বিভিন্ন সেবা নিতে প্রথমে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল বা BSP-তে প্রবেশ করতে হবে। ওয়েবসাইটের ঠিকানা https://bsp.brta.gov.bd/। সরাসরি লগইন পেজে যেতে পারেন https://bsp.brta.gov.bd/login ঠিকানায়।
আপনার আগে থেকে অ্যাকাউন্ট থাকলে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। নতুন ব্যবহারকারী হলে ওয়েবসাইটে থাকা নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন অপশন অনুসরণ করে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে।
নিবন্ধনের সময় প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য, মোবাইল নম্বর এবং পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। ওয়েবসাইটে যে তথ্য চাওয়া হবে, তা পূরণ করে নিবন্ধন সম্পন্ন করুন। কোনো OTP বা যাচাইকরণ কোড এলে সেটি নির্ধারিত ঘরে লিখে অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করুন।
অ্যাকাউন্ট তৈরির পর লগইন করে ড্যাশবোর্ডে প্রবেশ করুন। সেখানে মোটরযান-সংক্রান্ত সেবা এবং নিজের নামে যুক্ত থাকা তথ্য দেখা যেতে পারে। তবে ওয়েবসাইটের নকশা বা অপশনের নাম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই স্ক্রিনে প্রদর্শিত নির্দেশনা অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
BSP অ্যাকাউন্টে নিজের মোটরসাইকেল যুক্ত করার নিয়ম
লগইন করার পর মোটরযান সংযুক্ত বা মোটরযান তথ্যের অপশন খুঁজে বের করতে হবে। সেখানে মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং সিস্টেমে চাওয়া অন্যান্য তথ্য দিতে হবে।
রেজিস্ট্রেশন নম্বর লেখার সময় নম্বরপ্লেটের তথ্য ঠিকভাবে লিখুন। কোনো অক্ষর, সংখ্যা বা সিরিজ ভুল হলে সিস্টেমে মোটরযান শনাক্ত করতে সমস্যা হতে পারে। প্রয়োজন হলে রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট দেখে তথ্য পূরণ করুন।
এরপর সিস্টেমে প্রদর্শিত নির্দেশনা অনুসারে মোটরযানটি নিজের অ্যাকাউন্টে সংযুক্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন। কোনো ক্ষেত্রে মালিকানা যাচাই বা অতিরিক্ত তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। মোটরযান যুক্ত হলে ড্যাশবোর্ডে সংশ্লিষ্ট তথ্য দেখা যাওয়ার কথা।
যদি মোটরসাইকেলের তথ্য না আসে, তাহলে বারবার ভুল তথ্য দিয়ে চেষ্টা না করে রেজিস্ট্রেশন নম্বর, মালিকের তথ্য এবং বিআরটিএর রেকর্ড যাচাই করুন। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ সার্কেল অফিসে যোগাযোগ করুন।
অনলাইনে ট্যাক্স টোকেন নবায়ন ও পেমেন্ট করার নিয়ম
মোটরসাইকেল অ্যাকাউন্টে যুক্ত করার পর সংশ্লিষ্ট মোটরযানের কর বা ট্যাক্স টোকেন-সংক্রান্ত সেবা নির্বাচন করতে হবে। সিস্টেমে আপনার মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন তথ্য এবং ট্যাক্স টোকেনের মেয়াদসংক্রান্ত তথ্য দেখা যেতে পারে।
ট্যাক্স টোকেনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে বা নবায়নের প্রয়োজন হলে প্রদর্শিত নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ধাপে যেতে হবে। সেখানে প্রযোজ্য ফি যাচাই করে পেমেন্টের ব্যবস্থা নির্বাচন করুন।
পেমেন্টের জন্য ওয়েবসাইটে যে অনুমোদিত মাধ্যমগুলো দেখানো হবে, সেখান থেকে সুবিধাজনক মাধ্যম নির্বাচন করতে হবে। বিকাশের মাধ্যমে বিআরটিএ ফি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অন্য কোনো মোবাইল ব্যাংকিং বা পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহার করতে চাইলে সেটি সংশ্লিষ্ট পেমেন্ট পেজে সক্রিয় আছে কি না নিশ্চিত হতে হবে।
পেমেন্টের সময় নিজের মোবাইল নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে দিন। OTP বা PIN দেওয়ার আগে নিশ্চিত হোন যে আপনি প্রকৃত পেমেন্ট পেজে আছেন। কখনোই অন্য কাউকে নিজের PIN বা OTP জানাবেন না। পেমেন্ট সম্পন্ন হলে লেনদেনের রসিদ, ট্রানজেকশন আইডি এবং নিশ্চিতকরণ বার্তা সংরক্ষণ করুন।
পেমেন্টের পর ট্যাক্স টোকেন কীভাবে পাবেন?
অনলাইনে ফি পরিশোধের পর ট্যাক্স টোকেন সংগ্রহের পদ্ধতি নির্ভর করে কোন পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহার করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট সেবার নিয়ম কী। বিকাশের মাধ্যমে বিআরটিএ ফি পরিশোধের বিষয়ে বিকাশের প্রকাশিত FAQ-তে বলা হয়েছে, পেমেন্ট সম্পন্ন হওয়ার পর সাধারণত ৩ থেকে ৭ দিনের মধ্যে গ্রাহকের দেওয়া ঠিকানায় ট্যাক্স টোকেন পৌঁছে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নিকটস্থ গ্রাহকসেবা কেন্দ্র থেকে টোকেনের প্রিন্ট কপি সংগ্রহের সুযোগের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
তবে এই সময়সীমা পেমেন্ট ও ডেলিভারি ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে পারে। ঠিকানা ভুল থাকলে বা কুরিয়ার সংক্রান্ত সমস্যা হলে টোকেন পেতে দেরি হতে পারে। তাই পেমেন্টের সময় দেওয়া ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর সঠিক আছে কি না যাচাই করুন।
পেমেন্ট স্লিপ বা লেনদেনের রসিদ সংরক্ষণ করা জরুরি। তবে পেমেন্ট স্লিপকে সব পরিস্থিতিতে মূল ট্যাক্স টোকেনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যাবে—এমন নিশ্চয়তা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। সড়কে চলাচলের সময় কোন নথি গ্রহণযোগ্য হবে, সে বিষয়ে বিআরটিএর নির্দেশনা অনুসরণ করুন। টোকেন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জেনে নিন।
অনলাইনে পেমেন্ট করতে সমস্যা হলে কী করবেন?
অনেক সময় পেমেন্টের সময় OTP না আসা, লেনদেন ব্যর্থ হওয়া, টাকা কেটে নেওয়ার পরও ওয়েবসাইটে পেমেন্ট সম্পন্ন না দেখানো কিংবা মোটরযানের তথ্য না পাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
টাকা কেটে নেওয়া হলেও পেমেন্ট সফল হয়েছে কি না নিশ্চিত না হয়ে দ্বিতীয়বার অর্থ পরিশোধ করবেন না। প্রথমে পেমেন্ট মাধ্যমের লেনদেনের অবস্থা যাচাই করুন। ট্রানজেকশন আইডি ও পেমেন্টের সময় লিখে রাখুন। এরপর BSP অ্যাকাউন্টে আবার লগইন করে পেমেন্টের অবস্থা দেখুন।
মোটরযানের তথ্য না পাওয়া গেলে রেজিস্ট্রেশন নম্বর সঠিকভাবে দেওয়া হয়েছে কি না পরীক্ষা করুন। মালিকানা পরিবর্তন বা রেকর্ড সংশোধনের আবেদন চলমান থাকলে সেটিও সমস্যার কারণ হতে পারে।
পেমেন্টের রসিদ থাকা সত্ত্বেও ট্যাক্স টোকেন না এলে সংশ্লিষ্ট পেমেন্ট সেবার গ্রাহকসেবা এবং বিআরটিএর সঙ্গে যোগাযোগ করুন। অভিযোগের সময় রেজিস্ট্রেশন নম্বর, পেমেন্টের তারিখ, ট্রানজেকশন আইডি ও যোগাযোগের নম্বর প্রস্তুত রাখুন।
অনলাইনে না পারলে ব্যাংকের মাধ্যমে ট্যাক্স টোকেন নবায়ন করা যাবে?
হ্যাঁ। অনলাইনে পেমেন্ট করতে না পারলে বিআরটিএ অনুমোদিত ব্যাংকের মাধ্যমে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে ট্যাক্স টোকেন নবায়নের সুযোগ রয়েছে। বিআরটিএর প্রকাশিত নির্দেশনায় অনুমোদিত ব্যাংকে ফি জমা এবং পূর্বে ইস্যু করা ট্যাক্স টোকেন সার্টিফিকেটের মূল কপি জমা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যাংকে যাওয়ার আগে কোন ব্যাংক বা শাখায় এই সেবা পাওয়া যায়, তা বিআরটিএর ওয়েবসাইট থেকে যাচাই করুন। সঙ্গে আগের ট্যাক্স টোকেনের মূল কপি, মোটরযানের রেজিস্ট্রেশনসংক্রান্ত তথ্য এবং প্রয়োজনীয় অর্থ রাখুন। ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ফি জমা দিয়ে নবায়নকৃত টোকেন সংগ্রহ করুন।
ট্যাক্স টোকেন নবায়নের আগে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন
ট্যাক্স টোকেনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া ভালো। শেষ মুহূর্তে পেমেন্ট বা ডেলিভারি নিয়ে সমস্যা হলে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর ভোগান্তি বাড়তে পারে।
পেমেন্টের আগে নিজের মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও ফি ভালোভাবে যাচাই করুন। সরকারি ওয়েবসাইট ছাড়া অন্য কোনো অপরিচিত লিংকে ব্যক্তিগত তথ্য, OTP বা PIN দেবেন না। পেমেন্ট সম্পন্ন হলে রসিদ ও ট্রানজেকশন আইডি সংরক্ষণ করুন।
ট্যাক্স টোকেনের ফি নির্ধারণে অন্যের বাইকের হিসাব অনুসরণ করবেন না। নিজের মোটরসাইকেলের তথ্য দিয়ে বিআরটিএর ফি ক্যালকুলেটরে হিসাব করুন। পেমেন্টের পর টোকেন সংগ্রহের সময় ও পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট সেবার নির্দেশনা অনুযায়ী নিশ্চিত করুন।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের ট্যাক্স টোকেন নবায়নের জন্য এখন অনলাইন পেমেন্টের সুযোগ থাকায় প্রক্রিয়াটি আগের তুলনায় সহজ হয়েছে। বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল, নির্ধারিত ফি ক্যালকুলেটর এবং অনুমোদিত পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহার করে মোটরসাইকেল মালিকরা নিজেরাই প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারেন। সঠিক তথ্য দিয়ে ফি পরিশোধ এবং পেমেন্টের প্রমাণ সংরক্ষণ করলেই অপ্রয়োজনীয় দৌড়ঝাঁপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।