ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং নকল-ভেজাল খাদ্যপণ্য প্রতিরোধে দেশব্যাপী বিশেষ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
ঢাকা মহানগরসহ দেশের ২৭টি জেলায় অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৭২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রবিবার অধিদপ্তরের ৪০টি টিম একযোগে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এ অভিযান পরিচালনা করে।
বাজারে ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য পরিস্থিতি ও সরবরাহ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন, নির্ধারিত মূল্যের অধিক দামে পণ্য বিক্রয়, ওজন ও পরিমাপে কারচুপি, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও ওষুধ বিক্রয় প্রতিরোধ, নকল ও ভেজাল পণ্যের উৎপাদন ও বিক্রয় প্রতিরোধ এবং হোটেল-রেস্তোরাঁয় সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান প্রতিপালন নিশ্চিত করতে এ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
এ ছাড়া অভিযানকালে ব্যবসায়ীদের পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মজুদ এবং সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করতে সতর্ক করা হয়।
উল্লেখ্য, অধিদপ্তরের পাবনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব মোঃ মাহমুদ হাসান রনির নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাবনা জেলার মালিগাছা ইউনিয়নের রাখালগাছি এলাকার একটি গোয়ালঘরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তদারকিকালে অপরিপক্ব কলায় নিষিদ্ধ রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হলুদ রং ধারণ করিয়ে বাজারজাত করার বিষয়টি শনাক্ত করা হয়। এ অপরাধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়। এ সময় রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করা আনুমানিক ১২ হাজার কলা স্থানীয় এলাকাবাসীর সহায়তায় জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।
অভিযানে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে লিফলেট ও প্যাম্ফলেট বিতরণ এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।এ সময় সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প ও বণিক সমিতির প্রতিনিধিরা বাজার তদারকি কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।
ভোক্তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য ক্রয় করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করা এবং পণ্য ক্রয়ের আগে মূল্যতালিকা, সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর। একই সঙ্গে সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করে পণ্য ক্রয় করা এবং ক্রয়ের সময় বিক্রেতার নিকট থেকে ভাউচার সংগ্রহের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
পণ্য ক্রয়ে কোনো অনিয়ম বা প্রতারণার সম্মুখীন হলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১-এ অভিযোগ জানানোর জন্য ভোক্তাদের অনুরোধ করা হয়েছে।
বাজারে শৃঙ্খলা, ন্যায্যমূল্য এবং নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য নিশ্চিতকরণ ও নকল-ভেজাল খাদ্যপণ্য প্রতিরোধে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এ ধরনের বাজার তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।