
দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা। আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া এই সিরিজের জন্য ঘোষিত দলে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন টেম্বা বাভুমা। অভিজ্ঞ ও তরুণ ক্রিকেটারদের সমন্বয়ে দল সাজিয়েছে প্রোটিয়া নির্বাচকরা। দীর্ঘ বিরতির পর কয়েকজন ক্রিকেটারের দলে ফেরার পাশাপাশি বাদ পড়েছেন পরিচিত দুই মুখ। বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজকে সামনে রেখে নিজেদের সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে দল গঠনের চেষ্টা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দুই ম্যাচের এই টেস্ট সিরিজে দুই দলের ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের ওপর বিশেষ নজর থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের।
ঘোষিত স্কোয়াডে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো টনি ডি জর্জির প্রত্যাবর্তন। চোটের কারণে জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই ব্যাটার আবারও টেস্ট দলে জায়গা পেয়েছেন। তাঁর ফেরায় দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপে বাড়তি একটি বিকল্প তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়া ডি জর্জি বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে ইনিংস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর দায়িত্ব থাকবে। চোট কাটিয়ে দলে ফেরার পর নিজের জায়গা ধরে রাখতে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দিতে চাইবেন এই প্রোটিয়া ব্যাটার। বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে তাঁর ব্যাটিংও হতে পারে সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়।
এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট দলে আবারও ডাক পেয়েছেন জুবায়ের হামজা। দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলের স্কোয়াডে ফিরে নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নির্বাচকদের নজর কেড়েছেন এই ব্যাটার। তাঁর প্রত্যাবর্তনে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং বিভাগে প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে। তবে একাদশে জায়গা পেতে হলে তাঁকে দলের অন্য ব্যাটারদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটি তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগও তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে টেম্বা বাভুমার নেতৃত্বে দলটির ব্যাটিং বিভাগে এইডেন মার্করাম, মারকেস অ্যাকারম্যান, ম্যাথু ব্রিটজকে, টনি ডি জর্জি ও উইয়ান মুল্ডারের মতো ক্রিকেটাররা রয়েছেন। ফলে ব্যাটিংয়ে একাধিক বিকল্প পাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
তবে নতুন করে কয়েকজন ক্রিকেটার দলে জায়গা পেলেও বাদ পড়েছেন ডেভিড বেডিংহ্যাম ও কাইল ভেরেইনে। সর্বশেষ ঘোষিত স্কোয়াডে তাঁদের রাখা হয়নি। দুজনই দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট দলের পরিচিত মুখ হওয়ায় তাঁদের বাদ পড়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে বেডিংহ্যাম ব্যাটিংয়ে এবং ভেরেইনে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব পালনের জন্য পরিচিত। তাঁদের অনুপস্থিতিতে নির্বাচকদের নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে দল থেকে বাদ পড়ার অর্থ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁদের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। ভবিষ্যতে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আবারও জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ থাকবে। আপাতত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের জন্য ঘোষিত দলেই মনোযোগ দিচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
ঘোষিত ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার সঙ্গে রয়েছেন মারকেস অ্যাকারম্যান, ম্যাথু ব্রিটজকে, করবিন বশ, টনি ডি জর্জি, সাইমন হারমার, জুবায়ের হামজা, মার্কো ইয়ানসেন, কেশব মহারাজ, এইডেন মার্করাম, উইয়ান মুল্ডার, আনরিখ নরকিয়া, ডেন প্যাটারসন, কাগিসো রাবাদা ও রায়ান রিকেলটন। বোলিং বিভাগে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বৈচিত্র্য রাখার চেষ্টা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। রাবাদা, নরকিয়া, ইয়ানসেন ও প্যাটারসনের মতো পেসারদের সঙ্গে স্পিন বিভাগে রয়েছেন কেশব মহারাজ ও সাইমন হারমার। অন্যদিকে করবিন বশ ও উইয়ান মুল্ডার পেস বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও অবদান রাখতে পারেন। ফলে কন্ডিশন অনুযায়ী একাদশ সাজানোর ক্ষেত্রে অধিনায়ক ও টিম ম্যানেজমেন্টের সামনে একাধিক বিকল্প থাকবে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন অধিনায়ক বাভুমা। তাঁর নেতৃত্বে দলটি নিজেদের মাঠের কন্ডিশন কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার চেষ্টা করবে। অন্যদিকে কাগিসো রাবাদা ও আনরিখ নরকিয়ার গতি এবং মার্কো ইয়ানসেনের উচ্চতা থেকে করা বোলিং বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে। স্পিন সহায়ক পরিস্থিতি তৈরি হলে কেশব মহারাজ ও সাইমন হারমারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন। তবে শুধু বোলিং নয়, ব্যাটিংয়েও দক্ষিণ আফ্রিকার ধারাবাহিকতা প্রয়োজন হবে। বিশেষ করে দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে বড় ইনিংস গড়ে তোলা এবং চাপের মুহূর্তে উইকেট ধরে রাখার বিষয়টি সিরিজের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিজেদের মাঠে খেলার সুবিধা কাজে লাগাতে চাইবে স্বাগতিকরা।
অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে যাচ্ছে। প্রোটিয়াদের শক্তিশালী পেস আক্রমণ সামলানোর পাশাপাশি ব্যাটিংয়ে ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের। দক্ষিণ আফ্রিকার ঘোষিত স্কোয়াডে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের উপস্থিতি এবং নতুন করে দলে ফেরা খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি সিরিজটিকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলতে পারে। আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া এই সিরিজে দুই দলই নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ পাবে। একদিকে ঘরের মাঠে আধিপত্য ধরে রাখার লক্ষ্য থাকবে প্রোটিয়াদের, অন্যদিকে প্রতিপক্ষের মাঠে ভালো ফল অর্জনের প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এখন দেখার বিষয়, ঘোষিত এই স্কোয়াড নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা কতটা সফল হয় এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা তাদের বিপক্ষে কেমন পারফরম্যান্স উপহার দেন।