
বাংলাদেশে বৈধভাবে মোটরযান চালানোর জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। তবে সব চালকের জন্য একই ধরনের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রযোজ্য নয়। কেউ নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মোটরসাইকেল বা প্রাইভেট কার চালান, আবার কেউ বাস, ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস কিংবা অন্য কোনো যানবাহন চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। চালনার উদ্দেশ্য ও যানবাহনের শ্রেণি অনুযায়ী তাঁদের জন্য পেশাদার ও অপেশাদার—দুই ধরনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের ব্যবস্থা রয়েছে।
অনেকের ধারণা, পেশাদার লাইসেন্স থাকলে যেকোনো গাড়ি চালানো যায় আর অপেশাদার লাইসেন্স থাকলে শুধু ছোট গাড়ি চালানো যায়। বাস্তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়। ড্রাইভিং লাইসেন্সের ধরন, লাইসেন্সে অনুমোদিত যানবাহনের শ্রেণি, গাড়ির ওজন এবং চালনার উদ্দেশ্য—সবকিছু বিবেচনা করতে হয়। বিশেষ করে পেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে হালকা, মধ্যম ও ভারী—এই শ্রেণিগুলোর আলাদা যোগ্যতা রয়েছে।
বাংলাদেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এবং বিআরটিএর নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে লাইসেন্সের আবেদন, পরীক্ষা, অনুমোদন ও নবায়ন করা হয়। তাই ব্যক্তিগত গাড়ি চালানো কিংবা চালক হিসেবে চাকরি করার পরিকল্পনা থাকলে কোন ধরনের লাইসেন্স প্রয়োজন, তা আগে থেকেই জানা জরুরি।
পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স কী?
যে ড্রাইভিং লাইসেন্সের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি পেশা বা জীবিকার অংশ হিসেবে মোটরযান চালানোর অনুমতি পান, তাকে পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স বলা হয়। অর্থাৎ কেউ যদি বাস, ট্রাক, পিকআপ, ট্যাক্সি, মাইক্রোবাস বা অন্য কোনো যানবাহন চালিয়ে বেতন, মজুরি কিংবা পারিশ্রমিক গ্রহণ করেন, তাহলে তাঁর কাজের ধরন অনুযায়ী পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রয়োজন হতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনো ব্যক্তি পরিবহন কোম্পানিতে বাস চালকের চাকরি করেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের পণ্যবাহী ট্রাক চালান অথবা ভাড়ায় যাত্রী পরিবহনের জন্য গাড়ি চালান—তাঁদের ক্ষেত্রে পেশাদার লাইসেন্সের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে কোনো ব্যক্তি ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হিসেবে চাকরি করলে এবং বেতন বা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে গাড়ি চালালে তাঁর ক্ষেত্রেও পেশাদার লাইসেন্সের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করতে হবে।
পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স আবার এক ধরনের নয়। বিআরটিএর নিয়মে পেশাদার হালকা, পেশাদার মধ্যম এবং পেশাদার ভারী—এই শ্রেণিগুলো রয়েছে। কোন শ্রেণির লাইসেন্সে কোন ধরনের মোটরযান চালানো যাবে, তা নির্ধারিত হয় যানবাহনের ওজন ও লাইসেন্সের অনুমোদিত শ্রেণি অনুযায়ী।
পেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর বয়স, শারীরিক সক্ষমতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, প্রশিক্ষণ এবং নির্ধারিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া পেশাদার লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে বিআরটিএর বর্তমান নির্দেশনায় পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদনও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে উল্লেখ রয়েছে।
অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স কী?
যে ড্রাইভিং লাইসেন্স একজন ব্যক্তি নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মোটরযান চালানোর জন্য গ্রহণ করেন এবং চালনাকে পেশা হিসেবে ব্যবহার করেন না, তাকে অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স বলা হয়। সাধারণত ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার কিংবা অনুমোদিত শ্রেণির ব্যক্তিগত যানবাহন চালানোর জন্য এই লাইসেন্স নেওয়া হয়।
যেমন, একজন চাকরিজীবী নিজের মোটরসাইকেলে অফিসে যাতায়াত করেন, কোনো ব্যক্তি পরিবারের প্রয়োজনে প্রাইভেট কার চালান অথবা নিজের ব্যক্তিগত কাজে মোটরযান ব্যবহার করেন—তাঁদের জন্য অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রযোজ্য হতে পারে।
অপেশাদার লাইসেন্সের জন্য বিআরটিএর বর্তমান অনলাইন সেবা বাতায়নে ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর উল্লেখ রয়েছে। আবেদনকারীকে প্রথমে শিক্ষানবিশ বা লার্নার লাইসেন্স নিতে হয়। এরপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্টে উত্তীর্ণ হলে মূল লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যায়।
তবে অপেশাদার লাইসেন্স থাকলেই সব ধরনের মোটরযান চালানোর অনুমতি পাওয়া যায় না। লাইসেন্সে যে শ্রেণির যানবাহন অনুমোদিত থাকবে, চালক কেবল সেই শ্রেণির যানবাহনই চালাতে পারবেন। তাই মোটরসাইকেলের লাইসেন্স থাকলে শুধু সেই অনুমোদিত শ্রেণির যানবাহন চালানো যাবে; অন্য শ্রেণির গাড়ি চালাতে প্রয়োজনীয় অনুমোদন থাকতে হবে।
পেশাদার ও অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের মধ্যে মূল পার্থক্য
পেশাদার ও অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো চালনার উদ্দেশ্য। পেশাদার লাইসেন্স মূলত জীবিকা বা পেশার অংশ হিসেবে মোটরযান চালানোর জন্য, অন্যদিকে অপেশাদার লাইসেন্স ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মোটরযান চালানোর জন্য।
পেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে চালককে নির্দিষ্ট শ্রেণির যানবাহন চালানোর দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। অন্যদিকে অপেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত যানবাহনের শ্রেণি অনুযায়ী দক্ষতা যাচাই করা হয়।
আরেকটি পার্থক্য হলো বয়স ও অভিজ্ঞতার শর্ত। অপেশাদার লাইসেন্সের জন্য ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর। পেশাদার হালকা লাইসেন্সের জন্য ন্যূনতম বয়স ২০ বছর। পেশাদার মধ্যম ও ভারী শ্রেণির ক্ষেত্রে বয়স আরও বেশি এবং আগের শ্রেণির লাইসেন্স ব্যবহারের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।
পেশাদার লাইসেন্সের মেয়াদ সাধারণত পাঁচ বছর এবং অপেশাদার লাইসেন্সের মেয়াদ সাধারণত ১০ বছর হিসেবে নির্ধারিত হয়। তবে নিজের স্মার্ট কার্ড বা ই-লাইসেন্সে উল্লেখিত মেয়াদই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। নবায়নের সময়ও দুই ধরনের লাইসেন্সের প্রক্রিয়ায় পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে পেশাদার লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার বিধান রয়েছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পেশাদার লাইসেন্স থাকলেই সব ধরনের গাড়ি চালানো যাবে না। পেশাদার লাইসেন্সেরও হালকা, মধ্যম ও ভারী শ্রেণি রয়েছে। ভারী শ্রেণির লাইসেন্সধারী ব্যক্তি আইন অনুযায়ী হালকা ও মধ্যম শ্রেণির যানবাহন চালাতে পারেন। কিন্তু শুধু হালকা বা মধ্যম শ্রেণির লাইসেন্স থাকলে ভারী যানবাহন চালানোর অনুমতি পাওয়া যায় না।
পেশাদার ও অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের তুলনা
বিষয়
পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স
অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স
মূল উদ্দেশ্য
পেশা বা জীবিকার অংশ হিসেবে গাড়ি চালানো
ব্যক্তিগত প্রয়োজনে গাড়ি চালানো
ন্যূনতম বয়স
হালকা শ্রেণিতে ২০ বছর
১৮ বছর
যানবাহনের শ্রেণি
হালকা, মধ্যম ও ভারী
অনুমোদিত ব্যক্তিগত যানবাহনের শ্রেণি
প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষা
নির্ধারিত প্রশিক্ষণ এবং লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্ট
নির্ধারিত প্রশিক্ষণ এবং লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্ট
পুলিশি তদন্ত
BRTA-এর নির্দেশনায় প্রয়োজনীয়
সাধারণত পেশাদার লাইসেন্সের মতো পুলিশি তদন্তের শর্ত নেই
মেয়াদ
সাধারণত ৫ বছর
সাধারণত ১০ বছর
নবায়ন
ব্যবহারিক পরীক্ষা প্রয়োজন
সাধারণত নতুন ব্যবহারিক পরীক্ষা ছাড়াই নবায়ন
ব্যবহার
বেতন বা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে চালনা
ব্যক্তিগত ব্যবহার
শ্রেণি পরিবর্তন
হালকা থেকে মধ্যম, মধ্যম থেকে ভারী হওয়ার নির্ধারিত শর্ত রয়েছে
প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদিত শ্রেণি যুক্ত করতে হয়
এখানে উল্লেখিত মেয়াদ ও প্রক্রিয়া সাধারণ নির্দেশনা। আবেদন বা নবায়নের সময় বিআরটিএর সর্বশেষ নির্দেশনা এবং লাইসেন্সে উল্লেখিত তথ্য অনুসরণ করতে হবে।
পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রকারভেদ ও গাড়ির ওজনসীমা
পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সকে যানবাহনের ওজন অনুযায়ী তিনটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। এগুলো হলো পেশাদার হালকা, পেশাদার মধ্যম এবং পেশাদার ভারী।
পেশাদার হালকা ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে মোটরযানের ওজন ২ হাজার ৫০০ কেজির নিচে হতে হয়। এ শ্রেণির লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারীর ন্যূনতম বয়স ২০ বছর। তবে শুধু ওজনের হিসাব দেখেই কোনো গাড়িকে এই শ্রেণিতে ফেলা যাবে না; সংশ্লিষ্ট যানবাহনের অনুমোদিত শ্রেণি ও বিআরটিএর রেকর্ডও বিবেচনা করতে হবে।
পেশাদার মধ্যম ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে মোটরযানের ওজন ২ হাজার ৫০০ কেজি থেকে ৬ হাজার ৫০০ কেজি পর্যন্ত। এই শ্রেণির লাইসেন্স পেতে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ২৩ বছর হতে হবে এবং পেশাদার হালকা ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহারের অন্তত তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
পেশাদার ভারী ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে মোটরযানের ওজন ৬ হাজার ৫০০ কেজির বেশি। এই শ্রেণির লাইসেন্স পেতে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ২৬ বছর হতে হবে এবং পেশাদার মধ্যম ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহারের অন্তত তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
অর্থাৎ একজন চালক সরাসরি ভারী যানবাহনের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। তাঁকে প্রথমে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ করে পেশাদার হালকা লাইসেন্স নিতে হবে। এরপর নির্ধারিত সময় ও অভিজ্ঞতা অর্জন করে মধ্যম এবং পরবর্তী সময়ে ভারী শ্রেণির লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে। বিআরটিএর অনলাইন সেবা বাতায়নে এই বয়স ও অভিজ্ঞতার শর্তগুলো উল্লেখ রয়েছে।
অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে কোন গাড়ি চালানো যায়?
অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে কোন গাড়ি চালানো যাবে, তা নির্ভর করে লাইসেন্সে অনুমোদিত যানবাহনের শ্রেণির ওপর। সাধারণভাবে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার চালানোর জন্য অপেশাদার লাইসেন্স নেওয়া হয়। তবে আবেদন করার সময় কোন শ্রেণির যানবাহন চালাতে চান, তা সঠিকভাবে নির্বাচন করতে হবে।
অনেকেই মনে করেন, অপেশাদার লাইসেন্স থাকলে ২ হাজার ৫০০ কেজির নিচে সব ধরনের গাড়ি চালানো যায়। আবার কেউ মনে করেন, অপেশাদার লাইসেন্স দিয়ে শুধু মোটরসাইকেল বা প্রাইভেট কার চালানো যায়। এই দুই ধারণাই অসম্পূর্ণ। কারণ গাড়ির ওজনের পাশাপাশি লাইসেন্সে অনুমোদিত শ্রেণি এবং যানবাহনের ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো গাড়ি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপেশাদার লাইসেন্সের আওতায় চলে আসে না। আবার গাড়ির চালক বেতনভুক্ত হলে তাঁর লাইসেন্সের ধরনও বিবেচনা করতে হবে। তাই নির্দিষ্ট কোনো গাড়ি চালানোর আগে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, শ্রেণি ও লাইসেন্সের অনুমোদন মিলিয়ে নেওয়া উচিত।
ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে কী যোগ্যতা প্রয়োজন?
বাংলাদেশে পেশাদার ও অপেশাদার উভয় ধরনের ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে প্রথমে শিক্ষানবিশ বা লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে হয়। আবেদনকারীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে গাড়ি চালানোর উপযোগী হতে হবে এবং বিআরটিএর নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।
বিআরটিএর প্রকাশিত নির্দেশনায় ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনকারীর ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পাস উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আবেদন করার সময় অনলাইন পোর্টালে প্রদর্শিত সর্বশেষ যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা উচিত।
অপেশাদার লাইসেন্সের জন্য ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং পেশাদার হালকা লাইসেন্সের জন্য ২০ বছর। পেশাদার মধ্যম ও ভারী লাইসেন্সের ক্ষেত্রে বয়স যথাক্রমে ২৩ ও ২৬ বছর এবং আগের শ্রেণির লাইসেন্স ব্যবহারের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।
পেশাদার ও অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম
ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রথম ধাপ হলো লার্নার বা শিক্ষানবিশ লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা। আবেদনকারীকে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে প্রবেশ করে নিজের অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। পোর্টালের ঠিকানা https://bsp.brta.gov.bd/।
অ্যাকাউন্টে প্রবেশের পর ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীর পরিচয়, ঠিকানা, ছবি, মেডিকেল সার্টিফিকেট এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করতে হতে পারে। এরপর নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে লার্নার লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে।
লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার পর নির্ধারিত সময় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয়। বিআরটিএর প্রকাশিত নির্দেশনায় সাধারণত দুই থেকে তিন মাস প্রশিক্ষণের কথা বলা হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে নির্ধারিত তারিখে লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্টে অংশ নিতে হয়।
লিখিত পরীক্ষায় সড়ক পরিবহন আইন, ট্রাফিক সাইন, সড়ক নিরাপত্তা ও গাড়ি চালানোর মৌলিক নিয়ম সম্পর্কে প্রশ্ন করা হতে পারে। মৌখিক পরীক্ষায় ট্রাফিক আইন ও যানবাহন পরিচালনা সম্পর্কে জ্ঞান যাচাই করা হয়। ফিল্ড টেস্টে গাড়ি চালানোর বাস্তব দক্ষতা পরীক্ষা করা হয়।
পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে মূল স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হয়। এরপর বিআরটিএ আবেদনকারীর ছবি, ডিজিটাল স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপসহ বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করে। স্মার্ট কার্ড প্রস্তুত হলে সাধারণত এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হয়। আবেদন ও লাইসেন্সের অগ্রগতি বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল থেকেও যাচাই করা যায়।
পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
পেশাদার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার সময় সাধারণত জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, শিক্ষানবিশ লাইসেন্স, মেডিকেল সার্টিফিকেট, নির্ধারিত আবেদনপত্র, ফি জমার রসিদ এবং প্রয়োজনীয় ছবি দিতে হয়। বিআরটিএর বর্তমান অনলাইন নির্দেশনায় পেশাদার লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদনও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে উল্লেখ রয়েছে।
মধ্যম বা ভারী শ্রেণির লাইসেন্সের জন্য আবেদন করলে আগের শ্রেণির পেশাদার লাইসেন্স এবং প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতার প্রমাণ যাচাই করা হতে পারে। তাই শুধু বয়স পূর্ণ হলেই মধ্যম বা ভারী লাইসেন্স পাওয়া যাবে না। পূর্ববর্তী শ্রেণির লাইসেন্স ব্যবহারের নির্ধারিত সময়ও পূরণ করতে হবে।
আবেদনের আগে সব কাগজপত্রের নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ ও অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে নেওয়া উচিত। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে আবেদনপত্রের তথ্যের অমিল থাকলে আবেদন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।
অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
অপেশাদার লাইসেন্সের আবেদনেও জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষানবিশ লাইসেন্স, মেডিকেল সার্টিফিকেট, ছবি এবং নির্ধারিত ফি জমার প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে। আবেদনকারীর বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানার তথ্য যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনে অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে।
লার্নার লাইসেন্সের আবেদন করার সময় বিআরটিএর পোর্টালে যে কাগজপত্র আপলোড করতে বলা হবে, সেগুলো নির্ধারিত ফরম্যাট ও আকারে প্রস্তুত রাখতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করা হয়েছে কি না যাচাই করা জরুরি।
অপেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে পেশাদার লাইসেন্সের মতো পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন সাধারণত প্রয়োজন হয় না। তবে আবেদনকারীর ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো শর্ত বা যাচাই প্রযোজ্য হলে বিআরটিএ অতিরিক্ত তথ্য চাইতে পারে।
পেশাদার ও অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ কত দিন?
বাংলাদেশে পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ সাধারণত পাঁচ বছর এবং অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ সাধারণত ১০ বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স নবায়নের আবেদন করা উচিত।
তবে নিজের লাইসেন্সের মেয়াদ যাচাই করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো স্মার্ট কার্ড বা ই-ড্রাইভিং লাইসেন্সে উল্লেখিত Expiry Date দেখা। কারণ লাইসেন্সের ধরন, ইস্যুর সময় এবং প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট মেয়াদ উল্লেখ থাকে।
মেয়াদ শেষ হওয়ার পর লাইসেন্স নবায়ন না করে গাড়ি চালানো উচিত নয়। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স ব্যবহার করে মোটরযান চালানোও আইন লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে।
পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের নিয়ম
পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলে নবায়নের জন্য আবেদন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে অপেশাদার লাইসেন্সের তুলনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে—পেশাদার লাইসেন্সধারীকে পুনরায় ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর নির্ধারিত ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে নবায়নের আবেদন সম্পন্ন করতে হয়।
নবায়নের জন্য সাধারণত বর্তমান ড্রাইভিং লাইসেন্সের কপি, জাতীয় পরিচয়পত্র, মেডিকেল সার্টিফিকেট, নির্ধারিত ফি জমার রসিদ এবং পেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন প্রয়োজন হতে পারে। বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদনকারীর বায়োমেট্রিক তথ্যও সংগ্রহ করা হতে পারে।
নবায়নের ফি ও বিলম্ব ফি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই পুরোনো কোনো নিবন্ধ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া ফি অনুসরণ না করে আবেদন করার সময় BSP পোর্টালে প্রদর্শিত ফি পরিশোধ করা উচিত।
অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের নিয়ম
অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে প্রবেশ করে নবায়নের আবেদন করতে হয়। সাধারণত পেশাদার লাইসেন্সের মতো পুনরায় ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। তবে আবেদনকারীর কাগজপত্র, পরিচয় এবং লাইসেন্সের তথ্য যাচাই করা হয়।
নবায়নের জন্য আগের ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্ক্যান কপি, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পোর্টালে চাওয়া অন্যান্য কাগজপত্র আপলোড করতে হতে পারে। এরপর নির্ধারিত ফি ও প্রযোজ্য বিলম্ব ফি পরিশোধ করতে হবে।
আবেদন সঠিক হলে বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়। স্মার্ট কার্ড বা ই-লাইসেন্স প্রস্তুত হলে সংশ্লিষ্ট পদ্ধতিতে গ্রাহককে জানানো হয়।
ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ফি কত?
পেশাদার ও অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের নবায়ন ফি এক নয়। আবার সময়ের সঙ্গে সরকারি ফি, ডাক মাশুল, ভ্যাট বা অন্যান্য চার্জ পরিবর্তিত হতে পারে। তাই পুরোনো কোনো ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফি দেখে সরাসরি টাকা জমা দেওয়া ঠিক নয়।
বিআরটিএর বিভিন্ন অফিসের প্রকাশিত তথ্যেও বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ফি দেখা যায়। ফলে নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ককে সব আবেদনকারীর জন্য বর্তমান ও চূড়ান্ত ফি হিসেবে ধরে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। আবেদন করার সময় BSP অ্যাকাউন্টে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সের ধরন নির্বাচন করলে যে ফি প্রদর্শিত হবে, সেটিই অনুসরণ করা উচিত।
মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিলম্বে আবেদন করলে অতিরিক্ত জরিমানা বা বিলম্ব ফি যুক্ত হতে পারে। তাই লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া ভালো। পেমেন্টের রসিদ সংরক্ষণ করাও জরুরি।
ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে কী শাস্তি?
বাংলাদেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরযান চালানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৪ ধারায় বলা হয়েছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিক্ষানবিশ লাইসেন্স ছাড়া কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স ব্যবহার করে পাবলিক প্লেসে মোটরযান চালানো যাবে না।
একই ধারায় আরও বলা হয়েছে, চালক যে শ্রেণি বা ক্যাটাগরির মোটরযান চালানোর লাইসেন্স পেয়েছেন, সেই শ্রেণি ছাড়া অন্য শ্রেণির মোটরযান চালাতে পারবেন না। তবে ভারী ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী ব্যক্তি হালকা ও মধ্যম শ্রেণির মোটরযান চালাতে পারবেন।
আইনের ৬৬ ধারায় ৪ ও ৫ ধারার বিধান লঙ্ঘনের জন্য অনধিক ছয় মাসের কারাদণ্ড, অনধিক ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। অর্থাৎ শুধু লাইসেন্স না থাকাই নয়, অনুমোদিত শ্রেণির বাইরে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রেও আইনগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তাই গাড়ি চালানোর আগে নিজের লাইসেন্সের মেয়াদ এবং অনুমোদিত যানবাহনের শ্রেণি যাচাই করা জরুরি।
কোন ধরনের ড্রাইভিং লাইসেন্স আপনার জন্য উপযুক্ত?
আপনি যদি নিজের ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল বা প্রাইভেট কার চালান এবং গাড়ি চালিয়ে কোনো আয় না করেন, তাহলে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স নেওয়া যেতে পারে। তবে লাইসেন্সে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের শ্রেণি অনুমোদিত থাকতে হবে।
অন্যদিকে আপনি যদি বাস, ট্রাক, পিকআপ, ট্যাক্সি বা কোনো প্রতিষ্ঠানের গাড়ি চালিয়ে বেতন বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করেন, তাহলে পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করতে হবে। গাড়ির শ্রেণি ও ওজন অনুযায়ী পেশাদার হালকা, মধ্যম অথবা ভারী লাইসেন্স নিতে হবে।
কোনো ব্যক্তি বর্তমানে অপেশাদার লাইসেন্সধারী হলেও ভবিষ্যতে চালক হিসেবে চাকরি করতে চাইলে লাইসেন্সের ধরন পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে BRTA Service Portal-এ লাইসেন্সের ধরন পরিবর্তনের নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করতে হবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে কি বেতনভুক্ত চালক হিসেবে গাড়ি চালানো যাবে?
উত্তর: বেতন বা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে পেশা হিসেবে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে পেশাদার লাইসেন্সের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করতে হবে। অপেশাদার লাইসেন্সকে পেশাদার চালনার অনুমতি হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
প্রশ্ন: অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে ন্যূনতম বয়স কত?
উত্তর: বিআরটিএর বর্তমান অনলাইন সেবা বাতায়নে অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর উল্লেখ রয়েছে।
প্রশ্ন: পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে ন্যূনতম বয়স কত?
উত্তর: পেশাদার হালকা লাইসেন্সের জন্য ন্যূনতম বয়স ২০ বছর। পেশাদার মধ্যম শ্রেণির জন্য ২৩ বছর এবং ভারী শ্রেণির জন্য ২৬ বছর বয়সের শর্ত রয়েছে। মধ্যম ও ভারী শ্রেণির ক্ষেত্রে আগের শ্রেণির লাইসেন্স ব্যবহারের নির্ধারিত অভিজ্ঞতাও প্রয়োজন।
প্রশ্ন: পেশাদার লাইসেন্স দিয়ে কি সব ধরনের গাড়ি চালানো যায়?
উত্তর: না। পেশাদার লাইসেন্সেরও হালকা, মধ্যম ও ভারী শ্রেণি রয়েছে। লাইসেন্সে অনুমোদিত শ্রেণি অনুযায়ী গাড়ি চালাতে হবে। ভারী লাইসেন্সধারী ব্যক্তি আইন অনুযায়ী হালকা ও মধ্যম শ্রেণির গাড়িও চালাতে পারেন।
প্রশ্ন: অপেশাদার লাইসেন্স দিয়ে কি মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার চালানো যায়?
উত্তর: লাইসেন্সে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের সংশ্লিষ্ট শ্রেণি অনুমোদিত থাকলে চালানো যায়। আবেদন করার সময় প্রয়োজনীয় শ্রেণি নির্বাচন করতে হবে।
প্রশ্ন: পেশাদার লাইসেন্সের মেয়াদ কত বছর?
উত্তর: পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ সাধারণত পাঁচ বছর। তবে নিজের লাইসেন্সে উল্লেখিত মেয়াদই চূড়ান্ত।
প্রশ্ন: অপেশাদার লাইসেন্সের মেয়াদ কত বছর?
উত্তর: অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ সাধারণত ১০ বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নবায়নের আবেদন করা উচিত।
প্রশ্ন: পেশাদার লাইসেন্স নবায়ন করতে কি আবার পরীক্ষা দিতে হয়?
উত্তর: হ্যাঁ। পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী পুনরায় ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়।
প্রশ্ন: অপেশাদার লাইসেন্স নবায়ন করতে কি আবার ড্রাইভিং পরীক্ষা দিতে হয়?
উত্তর: সাধারণত অপেশাদার লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে নতুন করে ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে হয় না। তবে আবেদনকারীর কাগজপত্র ও অন্যান্য শর্ত যাচাই করা হয়।
প্রশ্ন: ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে কত টাকা জরিমানা হতে পারে?
উত্তর: সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৬৬ ধারা অনুযায়ী অনধিক ২৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনধিক ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
শেষ কথা
পেশাদার ও অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের পার্থক্য জানা প্রত্যেক চালকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শুধু গাড়ি চালাতে জানলেই বৈধভাবে সড়কে চলাচল করা যায় না; চালকের লাইসেন্সের ধরন, অনুমোদিত যানবাহনের শ্রেণি এবং লাইসেন্সের মেয়াদও ঠিক থাকতে হয়।
যাঁরা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মোটরসাইকেল বা প্রাইভেট কার চালান, তাঁদের জন্য উপযুক্ত অপেশাদার লাইসেন্স প্রয়োজন। আর যাঁরা বেতন বা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে পেশাদার লাইসেন্সের নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। পেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে গাড়ির ওজন ও শ্রেণি অনুযায়ী হালকা, মধ্যম ও ভারী লাইসেন্সের যোগ্যতাও আলাদা।
তাই নতুন লাইসেন্স করার আগে অথবা পুরোনো লাইসেন্স নবায়নের সময় বিআরটিএর সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে আবেদন করুন। এতে ভুল শ্রেণির লাইসেন্স নেওয়া, অপ্রয়োজনীয় খরচ এবং আইনগত জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে।