
পোশাকশ্রমিকদের বেতন ও মজুরি বৃদ্ধির যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। একই সঙ্গে শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সতর্ক থাকার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে শক্তি প্রয়োগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। বিবৃতিতে তিনি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন ও মজুরি বৃদ্ধির দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, পোশাকশিল্পের কর্মীরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করছেন, যা ইতোমধ্যে বড় আকার ধারণ করেছে। বর্তমান মূল্যস্ফীতির বাজারে প্রচলিত বেতনে শ্রমিকদের জীবন ধারণ করা কঠিন। অন্যদিকে পোশাকশিল্পের ব্যবসায়ীরা কোটিপতি হয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করলেও শ্রমিকদের একটি বড় অংশ আর্থিকভাবে প্রান্তিক অবস্থায় থেকে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব বলেন, সরকার ও নীতিনির্ধারকদের উচিত শ্রমিকদের জীবনযাপনের উপযোগী সম্মানজনক বেতন নির্ধারণ করা। একই সঙ্গে শ্রমিকদের আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, শ্রমিকদের দাবিকে গুরুত্ব না দিয়ে নানা ধরনের আশঙ্কা বা অজুহাত সামনে আনা সমস্যার সমাধান করবে না।
শ্রমিক আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনে কোনোভাবেই শক্তি প্রয়োগ করা উচিত নয়। অতীতের মতো নির্মম দমন-পীড়নের পরিস্থিতি আর দেখতে চান না তাঁরা। তাঁর মতে, জোরপূর্বক ব্যবস্থা না নিয়ে আলোচনা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের মাধ্যমে শ্রমিকদের অসন্তোষ নিরসন করতে হবে।
শ্রমিকদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা। তিনি বলেন, শ্রমিকদের কোনো রাজনৈতিক স্বার্থের হাতিয়ার হওয়া উচিত নয়। পোশাকশিল্প থেকেই তাঁদের জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা হয়। তাই ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনে সংহতি থাকলেও এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না, যাতে পোশাকশিল্প বা দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে বিভিন্ন মহল নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে। এমনকি পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তিও পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এ কারণে সরকারকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন।
তিনি আরও বলেন, যত দ্রুত সম্ভব শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসে সমস্যার সমাধান করতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের মধ্যে আস্থা তৈরি করে তাঁদের ন্যায্য দাবির বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।