
প্রতিদিন ঘর থেকে বের হওয়ার আগে কিংবা দিনের কাজ শুরু করার সময় আমরা নানা ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করি। কিন্তু একজন মুসলমানের জীবনে শারীরিক নিরাপত্তার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া এবং তাঁর ওপর ভরসা রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। বিপদ-আপদ, অকল্যাণ, শয়তানের কুমন্ত্রণা ও অজানা ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বেশ কিছু দোয়া ও জিকিরের শিক্ষা রয়েছে। এগুলো সকাল-সন্ধ্যায় নিয়মিত পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।
সকালে ও সন্ধ্যায় পড়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি দোয়া হলো ‘বিসমিল্লাহিল্লাযি লা ইয়াদুররু’। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় তিনবার এই দোয়া পড়বে, আল্লাহর ইচ্ছায় কোনো কিছু তাকে ক্ষতি করতে পারবে না। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৫০৮৮; জামে আত-তিরমিজি, হাদিস ৩৩৮৮)
আরবি:
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
বাংলা উচ্চারণ:
বিসমিল্লাহিল্লাযি লা ইয়াদুররু মা‘আসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামায়ি, ওয়া হুয়াস সামিউল আলিম।
বাংলা অর্থ:
আল্লাহর নামে, যাঁর নামের সঙ্গে থাকলে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সকাল ও সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস তিনবার করে পড়া। এই তিনটি সুরা ‘তিন কুল’ নামেও পরিচিত। এগুলোতে আল্লাহর একত্ব ঘোষণা, সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা এবং শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষার আবেদন রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) সকাল-সন্ধ্যায় এই তিনটি সুরা তিনবার পড়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৫০৮২; জামে আত-তিরমিজি, হাদিস ৩৫৭৫)
এ ছাড়া আয়াতুল কুরসি পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। এটি পবিত্র কোরআনের সুরা আল-বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত। এতে আল্লাহর অসীম ক্ষমতা, জ্ঞান ও সার্বভৌমত্বের কথা বর্ণিত হয়েছে। ফরজ নামাজের পর এবং ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়ার বিশেষ ফজিলত হাদিসে এসেছে। বিশেষ করে ঘুমানোর আগে এটি পড়লে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রক্ষক নিযুক্ত থাকার এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান কাছে আসতে না পারার কথা সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস ২৩১১)
ঘুমানোর আগে সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়াও গুরুত্বপূর্ণ আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে এই দুই আয়াত পড়বে, তার জন্য তা যথেষ্ট হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৫০০৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮০৭) তাই রাতের ঘুমের আগে এই আমলটিও নিজের অভ্যাসে রাখতে পারেন।
কোনো নতুন স্থানে অবস্থান করলে বা ভ্রমণের সময় আরেকটি দোয়া পড়তে পারেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, কোনো স্থানে অবতরণ করে নিচের দোয়া পড়লে সেই স্থান ত্যাগ করা পর্যন্ত কোনো কিছু তার ক্ষতি করতে পারবে না।
আরবি:
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
বাংলা উচ্চারণ:
আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক।
বাংলা অর্থ:
আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীর মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
(সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৭০৮)
তবে মনে রাখতে হবে, এসব দোয়া ও জিকির আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনার সুন্নাহসম্মত মাধ্যম। এগুলো পড়ার অর্থ এই নয় যে জীবনে কোনো বিপদ আসবে না বা সব ধরনের শারীরিক ঝুঁকি থেকে নিশ্চিতভাবে মুক্ত থাকা যাবে। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখার পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতাও অবলম্বন করতে হবে।
প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় কয়েক মিনিট সময় নিয়ে এসব আমল করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। দোয়ার অর্থ বুঝে আন্তরিকতার সঙ্গে পড়ুন এবং সব অবস্থায় আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন। কারণ একজন মুমিনের প্রকৃত আশ্রয় ও সাহায্য প্রার্থনার স্থান একমাত্র মহান আল্লাহ।