
বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট কিংবা বুকে চাপ অনুভব করার মতো উপসর্গ দেখা দিলে অনেকেই হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা করেন। তবে হৃদ্যন্ত্রের ঝুঁকি একদিনে তৈরি হয় না। বরং শরীরের কিছু অসুস্থতা দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ধীরে ধীরে হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও অতিরিক্ত মানসিক চাপ হৃদ্যন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে শুধু জীবনযাত্রার কারণেই হৃদ্রোগ হয় না। কিছু দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতাও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়াতে ভূমিকা রাখে।
উচ্চ রক্তচাপ
উচ্চ রক্তচাপ হৃদ্রোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ। স্বাভাবিকের তুলনায় রক্তচাপ বেশি থাকলে হৃদ্যন্ত্রকে রক্ত পাম্প করতে অতিরিক্ত চাপ নিতে হয়। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকলে হৃদ্যন্ত্র ও ধমনির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। এতে হৃদ্যন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ার পাশাপাশি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
ডায়াবেটিস
রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘদিন বেশি থাকলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের পাশাপাশি রক্তনালিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের হৃদ্রোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা জরুরি।
কোলেস্টেরল
হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখতে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল (LDL) বেশি থাকলে ধমনির দেয়ালে চর্বিজাতীয় পদার্থ জমতে পারে। এতে রক্ত চলাচলের পথ সরু হয়ে যায় এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ে। অন্যদিকে, ভালো কোলেস্টেরল বা এইচডিএল (HDL) শরীর থেকে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল অপসারণে সহায়তা করে।
তাই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।