
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকাকে চারটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জোনে কতটি ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে, তা নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সড়কে ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা ফেরানোর পরিকল্পনা করছে সিটি করপোরেশন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও বাংলাদেশ পুলিশের যৌথ সভায় জোনের সীমানা এবং এলাকাভিত্তিক ই-রিকশার সম্ভাব্য সংখ্যা চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে। সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলে কোন এলাকায় কতটি ই-রিকশা চলতে পারবে, তা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
এর আগে রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করেছে ডিএসসিসি। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত আবেদন ফরম বিক্রি করা হয়। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিন মোট ১ হাজার ফরম বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি ফরমের মূল্য ছিল ১০০ টাকা। জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিয়ে মালিক ও চালকেরা ফরম সংগ্রহ করেন। তবে যাঁদের একটি রিকশা রয়েছে, তাঁরাই শুধু ফরম সংগ্রহ করতে পেরেছেন।
নিবন্ধনের ক্ষেত্রে শুধু আবেদন করলেই অনুমোদন পাওয়া যাবে না। ই-রিকশাকে নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী প্রস্তুত করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কারিগরি অনুমোদন নিতে হবে। এরপর স্থানীয় সরকার বিভাগের জারিকৃত ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’-এর শর্ত পূরণ করে সিটি করপোরেশনে আবেদন জমা দিতে হবে।
প্রথম পর্যায়ে বুয়েটের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ৫০০ থেকে ১ হাজার কিংবা সর্বোচ্চ ২ হাজার ই-রিকশাকে নিবন্ধনের অনুমোদন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে।
ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণে আরও কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ডিএসসিসির। নির্ধারিত মডেল অনুযায়ী ই-রিকশা তৈরি ও মেরামতের জন্য নির্দিষ্ট ওয়ার্কশপ ঠিক করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুৎ-সংযোগের মাধ্যমে ব্যাটারি চার্জ বন্ধ করতে ওয়ার্ড বা থানা পর্যায়ে নির্ধারিত চার্জিং স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় চারটি জোনের সীমানা, প্রতিটি এলাকায় ই-রিকশার সংখ্যা এবং নিবন্ধনপ্রক্রিয়া কীভাবে কার্যকর হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।