
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় ফেরার পথ কঠিন হয়ে উঠছে। দেশটির বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটকে পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে আরব জয়েন্ট লিস্ট জোট। এর ফলে ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে প্রেসিডেন্টের কাছে আইজেনকোটের পক্ষে সুপারিশকারী আইনপ্রণেতার সংখ্যা ৬৭-তে পৌঁছাতে পারে। তবে এই সমর্থন সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় জোট নিশ্চিত করে না।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জোটটি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে পরামর্শের সময় তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আইজেনকোটের নাম সুপারিশ করবে। তিনি ইয়াশার পার্টির নেতা। জোটের তিনটি দলের মধ্যে আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানানো হয়।
জয়েন্ট লিস্টের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু ও তাঁর সরকারকে ক্ষমতায় ফেরা থেকে বিরত রাখার জনদাবির প্রতি সাড়া দিয়েই আইজেনকোটকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বিরোধী শিবির এখনো নেতানিয়াহুর নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান নেওয়া, আরব নাগরিকদের বিরুদ্ধে উসকানি মোকাবিলা এবং তাঁদের রাজনৈতিক অধিকারের বৈধতা রক্ষায় যথেষ্ট সদিচ্ছার প্রমাণ দিতে পারেনি বলেও উল্লেখ করেছে জোটটি।
এর আগে আট আসনের অধিকারী আরব দল রা’আম আইজেনকোটের পক্ষে সুপারিশ করার ঘোষণা দেয়। ইহুদি বিরোধী দলগুলোর ৪৮ জন আইনপ্রণেতার সমর্থনের সঙ্গে রা’আমের আটজন যুক্ত হওয়ায় তাঁর পক্ষে সুপারিশকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৬। জয়েন্ট লিস্টের ১১ জন আইনপ্রণেতা আনুষ্ঠানিকভাবে একই সুপারিশ করলে সেই সংখ্যা বেড়ে ৬৭ হবে।
ইসরায়েলের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ৬১ আসন। গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে ইহুদি বিরোধী দলগুলো পেয়েছে ৪৮টি এবং আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন।
তবে প্রেসিডেন্টের কাছে কোনো প্রার্থীকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করা এবং তাঁর নেতৃত্বে সরকার গঠনের জন্য জোট তৈরি করা এক বিষয় নয়। আইনপ্রণেতাদের সুপারিশ বিবেচনা করে প্রেসিডেন্ট হারজগ ঠিক করবেন, কাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হবে। দায়িত্ব পেলেও আইজেনকোটকে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে।
এদিকে বিরোধী দলগুলো নতুন সরকার গঠনের প্রচেষ্টা সমন্বয় এবং নীতিগত অবস্থান ও সম্ভাব্য জোট চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরুর বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে আরব দলগুলোর সমর্থন কীভাবে কাজে লাগানো হবে, তা নিয়ে বিরোধী শিবিরের ভেতরে মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর সম্ভাবনা তৈরি হলেও সরকার গঠনের পথ এখনো অনিশ্চিত।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, টাইমস অব ইসরায়েল, রয়টার্স