
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম. চট্টগ্রাম
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস), চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগরের সার্বিক সহযোগিতায় গতকাল (০৫ নভেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস' উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভূমি মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি-র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি।
প্রধান বক্তা প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের এমন তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজনে অগ্রণী ভূমিকা রাখার জন্য চট্টগ্রাম জাসাস এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান অতিথি রুহুল কবীর রিজভীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের গভীর তাৎপর্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "৭ই নভেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এই দিবসের মূল চেতনাকে ধারণ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বহুমাত্রিক রাজনৈতিক ধারণাকে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব সময় যোগ্য কর্ম ও ত্যাগকে মূল্যায়ন করেন।"
বাংলাদেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক সংকটকালে শহীদ জিয়া পরিবারের ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশের ক্রান্তিলগ্নে সবচেয়ে বেশি যে পরিবারটির অবদান উঠে আসে, তা হলো শহীদ জিয়া পরিবার। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে যখন তৎকালীন রাজনীতিকেরা দিকনির্দেশনাহীন ছিলেন, ঠিক তখনই ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি শুধু স্বাধীনতার ঘোষকই ছিলেন না, ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন বীর সেক্টর কমান্ডার। দেশকে স্বাধীন করার পর তিনি পুনরায় নিজ কর্মস্থলে ফিরে গিয়েছিলেন।"
৭ই নভেম্বরের ঐতিহাসিক পটভূমি ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল আরও বলেন, "১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে দেশ যখন আবারও চরম রাজনৈতিক ক্রান্তিলগ্নে নিমজ্জিত হয়, তখনই এদেশের সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্লোভ, নির্মোহ ও খাঁটি দেশপ্রেমিক জিয়াউর রহমানকে দেশের শাসনভার গ্রহণের আহ্বান জানান।
সিপাহী-জনতার সেই ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থার চির অবসান ঘটে এবং বহুদলীয় রাজনীতির শুভ সূচনা হয়।"
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে এই ধারার ধারাবাহিকতা উল্লেখ করে ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, "পরবর্তীতে যখনই বাংলাদেশের গণতন্ত্র হোঁচট খেয়েছে, তখনই জিয়া পরিবার অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী আমাদের মাতৃতুল্য বেগম খালেদা জিয়া জনগণের অভূতপূর্ব ম্যান্ডেট নিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। আপসহীন নেত্রী হিসেবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বারবার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশের মানুষের মঙ্গলে কাজ করেছেন।"
তিনি আরও যোগ করেন, "একইভাবে ২০০৭ সালের ১/১১-এর কালো শাসন এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ফ্যাসিস্ট সরকার হটাতে সর্বাগ্রে নেতৃত্বের ভূমিকায় ছিলেন আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা, বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এমপি। ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তিনি পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ দূরদর্শী নেতৃত্ব প্রদান করেছেন।"
প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল গণতন্ত্রের বিজয়ে জনগণের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, "বাংলাদেশের জনগণ ১৯৭১ সালে যেভাবে পরাজিত অপশক্তিকে প্রতিহত করেছিল, ঠিক একইভাবে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে বিপুল ভোটে জয়ী করে সরকার গঠনে সহায়তা করেছে। এই ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য তিনি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।"
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "৭১-এর পরাজিত অপশক্তি এবং ২০২৪-এর পরাজিত অপশক্তি কখনই এদেশের মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেনি; তাদের সব চক্রান্ত ব্যর্থতায় রূপ নিয়েছে। তাই আমাদের প্রত্যেকে যে যার জায়গা থেকে ৭ই নভেম্বরের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের মূল ব্রত গ্রহণ করে সতর্কতার সাথে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।"
উক্ত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।