
প্রশাসক বলেন, ‘নগরের উন্নয়নের জন্য শুধু অর্থ বরাদ্দই যথেষ্ট নয়। সময়মতো প্রকল্প অনুমোদন এবং কার্যকর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোথায় রাস্তা হবে, কোথায় শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে, কোথায় হকার পুনর্বাসন করা হবে কিংবা কোথায় নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে—এসব বিষয়ে একটি সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। নগর সরকার প্রতিষ্ঠা হলে এ ধরনের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে গতি আসবে।’
চট্টগ্রামকে দেশের প্রকৃত বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম শুধু একটি বন্দরনগর নয়, এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হয়ে ওঠার সম্ভাবনা ধারণ করে। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সঙ্গে নগরটির সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে বন্দরকেন্দ্রিক শিল্পায়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসাবান্ধব অবকাঠামোকে সমন্বিতভাবে উন্নত করতে হবে।
তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের মতো অবকাঠামো প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চট্টগ্রামের অবস্থান শক্তিশালী করার উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হয়। ২০০৪ সালের দিকেও চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই পরিকল্পনাগুলো প্রত্যাশিত গতিতে বাস্তবায়িত হয়নি।
প্রশাসক আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী বলা হবে, অথচ দেশের অধিকাংশ আর্থিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত রাজধানীকেন্দ্রিক থাকবে—এভাবে প্রকৃত অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী গড়ে তোলা সম্ভব নয়। ব্যাংক, বিমা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সেবার কার্যক্রম চট্টগ্রামে সম্প্রসারণ করতে হবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিও উপকৃত হবে।’
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে নগরটির জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছেও পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং নগর সরকারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেছি। আমরা চাই চট্টগ্রাম এমন একটি নগরে পরিণত হোক, যেখানে নাগরিক সেবা, অবকাঠামো, বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা একটি সমন্বিত পরিকল্পনার অধীনে পরিচালিত হবে।’
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামকে আমরা এমন একটি শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যেখানে পরিকল্পিত সড়ক ও পরিবহনব্যবস্থা থাকবে, জলাবদ্ধতা ও পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে, পর্যাপ্ত সবুজায়ন নিশ্চিত হবে, নাগরিকরা নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সেবা পাবেন। একই সঙ্গে শিল্প, বাণিজ্য ও পর্যটনের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যাবে। এ লক্ষ্য অর্জনে নগর সরকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।’
সেমিনারে বক্তারা চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দেশের প্রধান শহরগুলোর মধ্যে উন্নত ও দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা ঢাকা-চট্টগ্রামের যাতায়াত সময় প্রায় দুই ঘণ্টায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যে আধুনিক পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়ন, গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও সেবাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম রাজধানীর বাইরে সম্প্রসারণ এবং শিল্প ও বাণিজ্যবান্ধব পরিকল্পিত নগরায়ণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চট্টগ্রামের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করতে হলে অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, দ্রুত পণ্য পরিবহন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।
ছবির ক্যাপশন
‘চট্টগ্রাম: ইকোনমিক গেটওয়ে অ্যান্ড লাইফলাইন অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন।