
চাকরি খুঁজতে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন? অনেক চেষ্টা করেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান? জীবনের এমন কঠিন সময়ে মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য ও কল্যাণ চাইতে পারেন হজরত মূসা (আ.)-এর একটি দোয়া। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত এই দোয়াটি তিনি করেছিলেন মাদইয়ানে পৌঁছে চরম অসহায় অবস্থায়।
মিসর থেকে বের হয়ে মাদইয়ানে পৌঁছানোর পর হজরত মূসা (আ.) সেখানে দুই নারীকে তাঁদের পশুর জন্য পানি তুলতে সাহায্য করেন। এরপর তিনি একটি গাছের ছায়ায় আশ্রয় নেন। জীবনের অনিশ্চয়তা ও অসহায়ত্বের মধ্যে মহান আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজনের কথা তুলে ধরে দোয়া করেন।
দোয়াটি হলো—
আরবি:
رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
উচ্চারণ:
রাব্বি ইন্নী লিমা আনযালতা ইলাইয়্যা মিন খাইরিন ফাকীর।
অর্থ:
হে আমার রব, আপনি আমার প্রতি যে কল্যাণই নাজিল করবেন, আমি তার মুখাপেক্ষী।
দোয়াটি পবিত্র কোরআনের সুরা কাসাসের ২৪ নম্বর আয়াতে উল্লেখ রয়েছে।
এর পরের আয়াতে বলা হয়েছে, ওই দুই নারীর একজন হজরত মূসা (আ.)-এর কাছে এসে তাঁকে তাঁর বাবার সঙ্গে দেখা করার আমন্ত্রণ জানান। পরে তিনি ওই নারীর বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তাঁর কাজ ও থাকার সুযোগ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে ওই পরিবারের সঙ্গেই তাঁর বৈবাহিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এই ঘটনা থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায়। হজরত মূসা (আ.)-এর দোয়ায় নির্দিষ্ট কোনো চাকরি, সম্পদ কিংবা সুযোগের কথা ছিল না। তিনি শুধু আল্লাহর কাছে কল্যাণ চেয়েছিলেন। অর্থাৎ মানুষের জন্য কোনটি উত্তম, তা আল্লাহই ভালো জানেন—এই বিশ্বাস নিয়ে তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা যায়।
কর্মসংস্থানের সন্ধানে হতাশ হয়ে পড়লে, চাকরির আবেদন করার আগে কিংবা সাক্ষাৎকারে যাওয়ার আগে এই দোয়া পড়তে পারেন। তবে দোয়ার পাশাপাশি নিজের যোগ্যতা বাড়ানো, নিয়মিত চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া এবং হালাল উপায়ে জীবিকা অর্জনের প্রচেষ্টাও অব্যাহত রাখা জরুরি।
সূত্র: পবিত্র কোরআন, সুরা কাসাস, আয়াত ২৪–২৫