আজ সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন

মহান স্বাধীনতা দিবস আজ

আজ মহান স্বাধীনতা দিবস। স্বাধীনতার ৪৯তম বার্ষিকী। বাঙালি জাতির সবচেয়ে গৌরবের দিন, পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন দেশবাসীকে। সেই ঘোষণার আলোকেই মরণপণ লড়াই এবং রক্তসমুদ্র পাড়ি দিয়ে বীর বাঙালি জাতি ছিনিয়ে আনে জাতীয় ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন– স্বাধীনতা। সেই স্বাধীনতার আজ ৪৯ বছর।

স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে পরের বছর ২৬ মার্চ থেকেই পালিত হয়ে আসছে মহান স্বাধীনতা দিবস।

img-add

কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট একেবারেই ভিন্ন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে গর্বিত জাতি আজ ৫০তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করছে। তবে বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করা করোনাভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে এবার থাকছে না কোনো আনুষ্ঠানিকতা।

মুজিববর্ষে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন উপলক্ষে এবার জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল। রাজধানী ঢাকাকে এক অনন্য সাজে সাজানো হয়েছিল। আজ (২৬ মার্চ) ভোরে রাজধানীতে ৫০ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হওয়ার কথা ছিল।
বিজ্ঞাপন

সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের কথা ছিল। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনীতিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে সব অনুষ্ঠানই বাতিল করা হয়েছে।

বাতিল করা হয়েছে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান।

তবে যথারীতি আজ সরকারি ছুটির দিন। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা এবং ঢাকা শহরে সহজে দৃশ্যমান উঁচু ভবনগুলোতে বৃহদাকার জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। আর মুজিববর্ষ উপলক্ষে আগে থেকেই রাজধানীর যেসব গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনা আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছিল, সেগুলো আজও আলোকোজ্জ্বল থাকবে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপগুলো জাতীয় পতাকা ও অন্যান্য পতাকায় সজ্জিত করা হয়েছে।

দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আজ সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করছে। এ উপলক্ষে ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়া মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে। তবে করোনার কারণে অন্য বছরের মতো এবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করছে না।

দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপিও তাদের পূর্বঘোষিত সব অনুষ্ঠান বাতিল করেছে করোনাভাইরাসের কারণে। দলটি প্রতিবছর জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে শেরে বাংলানগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করে। এবার এসব কর্মসূচি বাতিল করেছে তারা। দিবসটি উপলক্ষে পূর্বঘোষিত আলোচনা সভাও বাতিল করেছে বিএনপি।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ‘অপারেশন সার্চলাইটে’র নামে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলার মাধ্যমে বাঙালি জাতির জীবনে যে বিভীষিকাময় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল, দীর্ঘ ৯ মাসের মরণপণ লড়াইয়ের মাধ্যমে বাংলার দামাল সন্তানেরা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে সে যুদ্ধে বিজয় লাভ করে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনে।

error: Content is protected !!