আজ বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০, ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন
Smiley face

বাঙালি তোয়াজ শিখেছি, গুণীর কদর জানি না

মোসাহেবীর বাজার খুব চড়া। বৃটিশ আমলে জন্ম, বেড়ে উঠা। শ্রেণীটির কোন জাত ছিলো না, ইংরেজরাই ছিলো এদের মা-বাপ। পাকিস্তান আমলে এই মোসাহেবরা দলীয় চাদর পায় জামায়াতে ইসলাম, মুসলিম লীগ ও অন্যান্যদের ছায়াতলে। মুসলীম লীগ বিলুপ্ত হয়েছে। ইংরেজরা বিদায় নিয়েছে বহুকাল। তবে ইংরেজদের অবশিষ্ট অংশ শোভা ছড়াছে।
ইংরেজদের সেই পদলেহনকারী জি-হুজুরা রাজনীতির সকল শাখা-প্রশাখায় বিস্তার লাভ করেছে। সরকারের সর্বোচ্চ ব্যক্তির আশেপাশে তাদের গরম নিঃশ্বাস। দেশপ্রেম-আপোষহীনতার কথা বলা নেতৃত্বগুলোকেও আপোষ করতে দেখি। দেখি, শান্তি কমিটি ও রাজকার পুত্রদের দলীয় টিকিটে মনোনয়ন দিয়ে পৃষ্ঠপোষকের ভূমিকা নিতে। উল্টো রথে উঠে সোজা পথ খোঁজা কঠিন। এতকিছুর পরও কিছু মানুষ চেষ্টা করেন। এসব মহামানবদের এক একটা পদক্ষেপ দেশকে ১০/১৫ বছর করে এগিয়ে নিতে সক্ষম। এসব মানুষকে মোসাহেবদের ভয়। তাদের অস্তিত্ব থাকে না।
মাশরাফি বিন মর্তুজা কিংবা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী নামগুলো এদের কাছে রীতিমত হুমকি। কেন বললাম?? এমপি সাহেবদের ধান কাটার চিত্র আর দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার স্বাস্থ্যে দিকে তাকালে বুঝতে কষ্ট হবে না।
কিন্তু কষ্ট হয় যখন দেখি, আমরাই এসব মোসাহেবদের তোলা পালে বাতাস দেয়ার কাজটি করি। এইতো ক’দিন আগে আমাদের ডাক্তার ভাই-বোনেরা মাশরাফি বিন মর্তুজাকে একহাত নিলেন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, হেন কোন প্রশ্ন নাই তুলেন নি। তাঁর অপরাধ, তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসককে পান নি। ডাক্তার মহাশয় তার বাসা কিংবা ক্লিনিকে ব্যস্ত ছিলেন, এজন্য ভৎসনা করেন–সব ভুলে গেলেন। এত তাড়াতাড়ি ভুললে কেমনে হবে।
দেখেন ঐ ব্যক্তিটি চিকিৎসকদের সংকটকালে এগিয়ে আসলেন। করোনা রোগী সনাক্তের জন্য নড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রবেশ মুখে জীবানুনাশক কক্ষ ও ডক্টর সেফটি চেম্বার স্থাপন করলেন। সেই কাঁচের সুরক্ষা বেষ্টনীতে ঘেরা ল্যাবের ভেতর থেকে চিকিৎসকরা রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সেবা প্রদান করতে পারছেন। এতে চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষ দু’পক্ষই নিরপদে থাকলো। একইসাথে কাঙ্খিত সেবা নিশ্চিত হলো।
আবার দেখেন, আলাদিনের চেরাগ-বাতি দিয়ে খুঁজে বের করা এক একটা সেরমাল এমপি যখন ধান কাটার ফটোসেশনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তখন মাশরাফি বিন মর্তুজা নড়াইল জেলার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে ১টি কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার মেশিন এনেছেন। আরো ৩টি মেশিন পৌঁছাবে।
এই কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার মেশিন এক ঘন্টায় এক বিঘা জমির ধান কাটতে সক্ষম, যেখানে সারাদিন কাজ করলে দিনে ১০-১২ বিঘা জমির ধান কাটা সম্ভব।দেশের স্বাস্থ্য সেবা খাতের অবস্থা আর নাই বলি। অর্থনীতিতে দক্ষিণ এশিয়ার রয়েল বেঙ্গল। বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সুনাম কুড়িয়েছে সেনা সদস্যরা। ক্রিকেটে রয়েল বেঙ্গল। শুধু স্বাস্থ্যখাতে রামছাগল। আর এই রামছাগল পরিচয়ে স্বস্তি খুঁজে পাই।
সংকট মোকাবেলা কিংবা যুদ্ধে নামা দুই ক্ষেত্রে একটাই পথ খোলা থাকে- তাহলো নিজেদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে নামা। প্রত্যেকে এমনটাই করেন। বাকিরা পেছনের দরজা দিয়ে পালায় বা কর্তাদের পেছনে দাঁড়িয়ে বাতাস দেয়ার কাজটি করেন।
ডা. ফাফরুল্লাহ চৌধুরী। যিনি ‘জাতীয় ঔষধ নীতি’ ঘোষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে চূড়ান্ত পর্ব শেষ না-করে লন্ডন থেকে ভারতে ফিরে এসে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন, পরে আগরতলায় ৪৮০ শয্যাবিশিষ্ট “বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল” প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করেন। তিনি জি হুজুরি করেন না কিংবা ভিন্ন মত পোষণ করেন তাই তার প্রতিষ্ঠানের করোনা টেস্টে কিট গ্রহণ করবো না।
নিম্ন মানের প্রাণঘাতি পিপিএ, ভেজাল এন৯৫ মাক্স গ্রহণ করতে আপত্তি নেই। যত সব আপত্তি গণস্বাস্থ্যের কিট ব্যবহারে। চিনের পাঠানো চিকিৎসা সেবা উপহরণ বা করোনা প্রতিরোধমূলক উপকরণ নিয়েও তো প্রশ্ন আছে। আমরা নিজেদের এতবড় রামছাগল বানিয়েছি যে, পাশ্ববর্তী বন্ধুরাষ্ট্র ভারত ১ লক্ষ টাকার কম মূল্যমানের গ্লাবস-মাক্স পাঠাতে দ্বিধা করেনা।
চোখের পর্দা বেঁচে খাওয়া মোসাহেবরা জেনে রাখুন, সামাজিক স্বক্ষমতা ও মর্যাদার উপর নির্ভর উপহার সামগ্রী কেমন হবে।
একজন বঙ্গবন্ধু দেশকে মুক্ত করেছেন, আরেক বঙ্গবন্ধু অর্থনৈতিক মুক্তি দিবেন, কেউ স্বাস্থ্যখাত, কেউ কৃষি খাত, কেউ সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। ৭৫’ পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুকে নিরস্কার হয়েছে। আজ বঙ্গবন্ধু নাই, তাঁর ধাঁচের মানুষদের নিয়ে তিরস্কার করা হয়। আমরা আর বঙ্গবন্ধু দেখি না, দেখি শুখু মোস্তাক-মোসাহেব, মেজর ডালিম-কর্নেল ফারুক।
আসলাম-উদ-দৌলা
সাধারণ সম্পাদক
রাজশাহী প্রেসক্লাব
ও আহ্বায়ক
অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ চাই

Print Friendly, PDF & Email
error: Content is protected !!