আজ মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২০, ০৮:১৯ অপরাহ্ন
Smiley face

জনস্রোত এখনি থামান নয়তো সামনে মহাবিপদ

নুরুল হুদা সায়েম:
করোনা ভাইরাসের প্রকোপ সারা পৃথিবীর অন্য অনেক দেশের ন্যায় আমাদের প্রিয় বাংলাদেশেও বেড়েই চলেছে। তবে আমাদের দেশে ৮ মার্চ প্রথম রোগী শনাক্ত হবার পর দেড় মাসের মতো আমরা তুলনামূলক কিছুটা ভালোই ছিলাম। কিন্তু মে মাসের শুরু থেকে প্রতিদিন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে বাড়তে এখন প্রতিদিন ১২০০ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আল্লাহ হেফাজত করুন। আমাদের প্রিয় জন্মস্থান ফেনী জেলার অবস্থা গত ১০ মে পর্যন্তও বেশ ভালো ছিল। ২/৩ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। কিন্তু এরপর থেকে সংখ্যা বেড়েই চলেছে। আজ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৬১জন যা অত্যন্ত ভয়ের বিষয়। এর মাঝে সোনাগাজীতে অবস্থা অনেক অনেক ভালো ছিল। কিছুদিন ধরে ১জনে থাকার পর সে রোগীও সুস্থ হয়ে যাবার পর শূণ্যতে নেমে এসেছিল। কিন্তু গতকাল আরো ৪জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর অর্থ সোনাগাজীতে করোনার থাবা পড়তে শুরু করেছে। অথচ মানুষের মাঝে এ নিয়ে কোন ভয় আছে বলে মনে হচ্ছে না। দিব্বি ঘুরাঘুরি করছে। বাজার করছে।

সোনাগাজীতে আজকে বাজারে যে পরিমাণ লোক দেখা যাচ্ছে (ভিডিওতে) মনে হচ্ছে স্বাভাবিক সময়েই আমরা আছি। কারো কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। জনগণ মসজিদ খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছে সরকার খুলে দিয়েছে, কিন্তু সরকার জনগণকে ঘরে থাকতে বলছে সেটা কিন্তু জনগণ করছে না। ভাই আপনার ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়তো আপনার হাতে। এই নোভেল করোনা ভাইরাসের বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে ছোঁয়াছে। আপনি যতটা ঘরে থাকতে পারবেন, জনসমাগম এড়িয়ে চলতে পারবেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে পারবেন, আক্রান্ত বা উপসর্গযুক্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকতে পারবেন ততই আপনার মঙ্গল, ততই আপনি সুরক্ষিত থাকবেন। এ সহজ সমীকরণটিই জনসাধারণ মানছে না। মানুষের মনোভাব এমন যে, মনে হচ্ছে উনি এসব মানবেন না করবেন না। কিন্তু আল্লাহ যেহেতু সৃষ্টি করেছেন আল্লাহরই দায় উনাকে করোনা থেকে মুক্ত রাখা। সরকারের দায় উনাকে সুরক্ষিত রাখা। আরে ভাই, আল্লাহই এসব আজাব গজব দিয়ে থাকেন। আল্লাহই রক্ষা করবেন সন্দেহ নাই। কিন্তু আপনিতো উছিলা হতে হবে। বিধি-নিষেধগুলো মেনে চলতে হবে।

বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশান ফেনী জেলার যুগ্ম সম্পাদক ডাঃ আবদুল কুদ্দুছ একটি লাইভ অনুষ্ঠানে বলছিলেন, ”প্রিয় ফেনীবাসী আপনি শপিং করতে আসছেন মার্কেটে ঠিক আছে। আপনি হয়তো ভাবছেন ব্যাগে করে শপিং নিয়ে যাচ্ছেন বাড়িতে। আসলে তা নয়। বরং আমি বলছি, আপনি শপিং নয়, শপিং ব্যাগে করে করোনা ভাইরাস নিয়ে যাচ্ছেন বাড়িতে।” আমার এক বন্ধু দুষ্টামী করেই ফেসবুকে একটি পোষ্ট দিয়েছেন, তবে আমার কাছে পছন্দ হয়েছে। সে লিখেছে, “সেসব পুরুষই বউদেরকে টাকা দিয়ে মার্কেট এ পাঠাচ্ছে যারা মনে মনে আগামি ঈদে নতুন বউ নিয়ে মার্কেটে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে”। তারপরও যদি এ জাতির হুশ হয়।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সোনাগাজী বাজারে কোনপ্রকার স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই হাজার হাজার লোক কেনাকাটা করছে। মুখে মাস্ক নাই, হাতে গ্লাভস নেই, মিনিমাম দূরত্ব নাই। তাহলে আমাদের প্রশাসনের ভূমিকা কি? প্রশাসন কি মনিটরিং করা ছেড়ে দিয়েছে? বাজার বনিক সমিতি (মানে ব্যবসায়ীরা) সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ছাড়া সব মার্কেট/দোকান বন্ধ থাকবে। তাহলে বাজারে যে মানুষ কেনাকাট করছে বাইরে জামা ঝুলিয়ে ঝুলিয়ে কাস্টমার আকর্ষণ করে বিক্রি করছে এ দোকানগুলোর মালিক কারা? বনিক সমিতির কি কোন পর্যবেক্ষণ নেই নাকি যেসব কর্তাব্যক্তিরা সেদিন ইউএনও’র সামনে বসে সিদ্ধান্ত দিয়েছে তারাও দোকান খুলে বিক্রী করছে? হয়তো তারাই ফিরে এসে দোকানদারদের বলেছে সমস্যা নাই, তোমরা দোকান খুলে বিক্রি করো। আমাদের বোঝাপড়া আছে প্রশাসনের সাথে।

একদিকে দেখছি ডায়াবেটিক হাসপাতালে, ফেনী সদর হাসপাতালে ভেন্টিলেটরসহ আইসিইউ স্থাপন হচ্ছে, করোনা টেস্ট ল্যাব হচ্ছে, নমুনা সংগ্রহের বুথ হচ্ছে ফেনীতে, এমপি সাহেব, চেয়ারম্যানগণ সরকারী ত্রাণ বিতরণ করছে, বেসরকারী পর্যায়ে বিভিন্ন ব্যক্তি, দল, সংস্থা, কোম্পানি, সামাজিক সংগঠনগুলো ত্রাণ দিচ্ছে, মাস্ক, স্যানিটাইজার বিতরণ করছে অন্যদিকে মানুষ দেদারছে বাজারে ভিড় জমিয়ে জমিয়ে কেনাকাটা করছে। কি লাভ হচ্ছে? আপনি গাছের গোড়ায় কেটে দিয়ে মাথায় পানি বছরের পর বছর দিলে কি হবে? বঙ্গোপসাগরের সব পানি ঢেলে দিলেও কি হবে? আগে তো মূলে ঠিক রাখতে হবে। এফটিভি লাইভের আলোচনায় বিএমএ’র ডাক্তারেরা বলছেন এক সমীক্ষায় ধারনা করা হচ্ছে জুনের মাঝামাঝি থেকে প্রতিদিন ৬৫ হাজার করে করোনা রোগী শনাক্ত হতে পারে। তাহলে মানুষকে ঘরে/বাড়িতে থাকতে বাধ্য করে, বাজারে আসা বন্ধ করে যদি এ সম্ভাবনা থামাতে না পারেন কেমনে সামাল দিবেন এত রোগী। আইসিইউ কয়টা খুলবেন? হাসপাতাল কয়টা বানাবেন এ কয়দিনে? অসম্ভব। যেটা সম্ভব নয় সেটার দিকে না ছুটে যেটা সম্ভব মানে কারফিউ দিয়ে হোক, যৌথবাহিনী নামিয়ে দিয়ে হোক, আনসার, ভিডিপি, গ্রামপ্রতিরক্ষা বাহিনী, জনপ্রতিনিধিদের দিয়ে ইমার্জেন্সি কমিটি করে হোক মানুষকে ঘরে, বাড়িতে থাকতে বাধ্য করান। বাজার বন্ধ করে দিন (নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ছাড়া)। হয়তো এভাবে করে কিছুটা হলেও এ মহামারীর হাত থেকে কিছু মানুষকে সুরক্ষা দেয়া সম্ভব হবে। বিশেষ দাবি, সোনাগাজী বাজারের সব দোকান বন্ধ রাখতে পুরো বাজারে যৌথবাহিনী নিয়োগ করুন। জিরো পয়েন্ট, হাইস্কুল গেট, তাকিয়া বাজারের দক্ষিণ মাথা, কোর্টবিল্ডিং, কাশ্মির বাজার রোডে চেক পয়েন্ট স্থাপন করুন। সোনাগাজী বাজার, বক্তারমুন্সী বাজারসহ উপজেলার বড় বাজারগুলো বন্ধ রাখা সম্ভব হলে সোনাগাজীকে অনেকাংশেই সুরক্ষা দেয়া সম্ভব হবে।

লেখক: সভাপতি, শাহাপুর মুনষ্টার ক্লাব, সোনাগাজী। এসিস্টেন্ট ম্যানেজার, মানব সম্পদ ও প্রশাসন, জেমকন গ্রুপ, ঢাকা।

Print Friendly, PDF & Email
error: Content is protected !!