আজ সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২০, ১২:১৪ পূর্বাহ্ন
Smiley face

দুই লক্ষ টার জন্য হার্টের অস্ত্রোপচার বন্ধ শিশু অর্কের

এম হাসান মুসাঃ
বাবা-মায়ের এক মাত্র সন্তান হার্ট ও ফুসফুসের ভাল্ব ছিদ্র নিয়েই পৃথিবীর আলো দেখেছে শিশু অর্ক। এখন তার বয়স নয় মাস। এ কারণে জন্মের পর থেকে অর্কের বেশির ভাগ সময় কাটছে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে। ওকে বাচাতে এখন অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন। এতে খরচ পড়বে ৯ লাখ টাকা। বিভিন্ন ভাবে প্রায় ৭ লক্ষ টাকার ব্যবস্থা করতে পেরেছেন অর্কের বাবা। কিন্তু চিকিৎসার জন্য আরও ২ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। এ টাকা যোগাড় হলেই অস্ত্রোপচার হবে অর্কের। কিন্তু এ ২ লক্ষ টাকা জোগাড় করতে পারছেন না ঝিনাইদহ জেলার কোট চাঁদপুর উপজেলার তালশার গ্রামের অর্ক’র বাবা ওয়াহিদুর রহমান। তিনি উপজেলার ডায়াবেটিক হাসপাতাল এর রিসিপসনে কাজ করেন। অর্কের চিকিৎসার পেছনে ৪ লাখ টাকা খরচ করে পরিবারটি এখন নিঃস্ব। সন্তানকে বাঁচাতে তাই অর্কের পরিবার সমাজের হৃদয়বান মানুষের সাহায্য চেয়েছেন।
অর্কের বাবা ওয়াহিদুর রহমান জানান, একমাত্র সন্তানের জন্মের ১০ দিন পর ঠান্ডা লাগলে সন্তানকে কালীগঞ্জে একটি ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। তখন ডাক্তার দেখে বলেন, অর্কের ঠান্ডা লাগেনি বুকে অন্য রকম একটা শব্দ হচ্ছে। একথা শোনার পর ভয় পেয়ে যাই, দেরি না করে বাচ্চাকে নিয়ে ঝিনাইদহের শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে যাই। তিনি বাচ্চাকে দেখে কিছু পরীক্ষা দিলেন। রিপোর্ট দেখে বললেন, বাচ্চার বুকে কোনো সমস্যা নেই, নিউমোনিয়া হয়েছে। পরে ১৫ দিন ভর্তি রাখলাম হাসপাতালে কিন্তু সেখানে চিকিৎসায় কোনো উন্নতি না হলে। পরে ডাক্তারকে বলি আমার বাচ্চার বুক পরীক্ষা করার বিষয়ে। কিন্তু ডাক্তার কোনো গুরুত্ব দিলেন না। ওইদিন আমি হাসপাতাল থেকে বাচ্চাকে রিলিজ করিয়ে নিয়ে যশোরে ডাক্তার দেখালাম। সেখানে টেস্ট করলে, ধরা পড়ল হার্ট ছিদ্র। পরে ঢাকায় পিজি হাসপাতালে নিয়ে গেলাম, ওখানে আবার পরীক্ষা করালাম, ওরাও বললো হার্ট ছিদ্র, তবে নতুন করে ধরা পড়ে ফুসফুসের ভাল্বও ছিদ্র । পরে ডাক্তার ভারতের ব্যাঙ্গালোর নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন।

তারপরও মন না মানায় শিশু হার্ট ফাউন্ডেশনে নিয়ে গিয়ে আবারো পরীক্ষা করালাম, সেখানেও টেষ্ট রিপোর্ট এর একই ফলাফল, পরে হতাশ হয়ে বাচ্চা নিয়ে বাড়ি ফিরে আসলাম। তিনি বলেন, আমরা পাসপোর্ট, ভিসা করে বাচ্চা নিয়ে চলে গেলাম ভারতের ব্যাঙ্গালোর। ওখানে নারায়ণ হাসপাতালে ডাক্তার দেবী প্রসাদ শেঠির তত্বাবধানে পরীক্ষা-নিরিক্ষার পর তিনি বললেন, বয়স ৬ থেকে ৯ মাসের ভিতর অপারেশন করা লাগবে, অপারেশনের খরচ হবে ৯ লক্ষ টাকা। বাচ্চাকে নিয়ে দেশে ফিরতে হয়।

তারপর শুরু করেন ছেলেকে বাঁচাতে অর্থ সংগ্রহের চেস্টা। সেই থেকে আজ পর্যন্ত নয় মাসে বিভিন্ন ভাবে প্রায় ৭ লক্ষ টাকার ব্যবস্থা করতে পেরেছেন তিনি। কিন্তু চিকিৎসার জন্য আরও ২ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। যা যোগাড় করতে পারলেই ছেলের অস্ত্রোপচারের জন্য ভারতে রাওনা দেবেন।

এ বিষয়ে ওই গ্রামের মেম্বর মো. বদিউজ্জামন জানান, ওয়াহিদুর রহমান এর সন্তান অর্ক জন্ম থেকেই অসুস্থ। তার হার্ট ও ফুসফুসের ভাল্ব ছিদ্র থাকায় আপারেশনের প্রয়োজন। কিন্তু ডায়াবেটিক হাসপাতাল এর রিসিপসনে কাজ করে সন্তানের অপারেশনের জন্য এত টাকা যোগার করতে পারছেন না তিনি। আমরা এলাকাবাসি যতটুকু পারি তাকে সাহায়্য করেছি।

অর্ক’র বাবা সকলের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে বলেন, আপনারা আপনাদের সাধ্য অনুযায়ী নিজ নিজ অবস্থান থেকে আমার বাচ্চার অপারেশন এর জন্য কিছু সাহায্য করবেন প্লিজ, আর আমার শিশু বাচ্চাটির জন্য দোয়া করবেন।

অর্ক’র পিতা ওয়াহিদুর রহমান এর ব্যক্তিগত বিকাশ বিকাশ নং- ০১৭৩৯-২৪৩৩০৯

Print Friendly, PDF & Email
error: Content is protected !!