“একজন যোদ্ধার অস্ত্র কেড়ে নেওয়া হলো”

প্রকাশিত: ১২:০০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৭, ২০২০

আমি মাহবুব কবির মিলন ভাইয়ের কথা বলছি। আমার জন্মের পর আজ পর্যন্ত আমি তাকে অত্যন্ত কাছে থেকে দেখেছি এবং তিনি আমার আদর্শ।

মিলন ভাই কিছুদিন রাজারহাট কুড়িগ্রাম এর ইউএনও হিসেবে ছিলেন। আমি অনেক দিন তার সাথে ছিলাম। দেখেছি একজন নির্বাহি কিভাবে সততার সাথে কাজ করতে পারে। সে সময়ের একটা কথা শেয়ার করি তা হল মিলন ভাই যতদিন রাজারহাটের ইউএনও ছিলেন ততদিন তার বাসায় কোনদিন কোন চেয়ারম্যানকে আসতে দেখি নি।

এরপর যা হয়েছে তা শুধুই একজন মিলনের বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে জনগণের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করা। তিনি একটা কথা বারবার বলতেন বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছরে যে কাজগুলো করে গেছে আমরা গত চল্লিশ বছরেও কেন সে কাজগুলো সমাপ্ত করতে পারবোনা? আর বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার উপর তাঁর যে অবিচল আস্থা তা বলাই বাহুল্য। মিলন ভাই সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুন সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য দিতেন যা আমার নিজের আগে কখনো জানা ছিল না।

মিলন ভাই এখনও বিশ্বাস করেন বঙ্গবন্ধু যে, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন তার বাস্তবায়ন করতে পারেন শুধুই বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা।

সে লক্ষ্যে তিনি জনস্বার্থে ফল পাকানোর কার্বাইড বন্ধ করা,ফরমালিন আমদানির নীতিমালার মাধ্যমে ফরমালিন নিষিদ্ধ করা,ঘন চিনি বন্ধ করা,ট্যানারি বর্জ্য পশুখাদ্য মিশানো নিষিদ্ধ,মিট অ্যান্ড বোন মিল আমদানি নিষিদ্ধ,এনার্জি ড্রিংকের মাধ্যমে অ্যালকোহল খাওয়ানো বন্ধ,মানুষের নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা প্রদান এমন কোন কাজ নেই যে তিনি করেননি।
এছাড়াও হার্টের রিং বাণিজ্য বন্ধ, রেলের ই টিকিট প্রদান,ই টিকিটের রিফান্ড এরকম অনেক অনেক জনকল্যাণমূলক কাজ তিনি করেছেন যা সামান্য লেখায় শেষ করা যাবে না।

মিলন ভাই নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে থাকা কালিন সময়ে তিনি প্রায় ২০৮ জন কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন যে নিয়োগে মিনিমাম দুর্নীতি-অনিয়মের লেশমাত্র ছিল না তা দেশবাসী ভালোভাবেই জানেন এবং যাঁরা নিয়োগ পেয়েছেন তারাও ভালো বলতে পারবেন।

সর্বশেষ গত কয়েকদিন আগে সারা বাংলাদেশে দেশের আমজনতা সমস্যা বিকাশে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়া,শুধু মাত্র মিলন ভাইয়ের একান্ত প্রচেষ্টায় সেই প্রতারণা পুরোপুরি ভাবে বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে।

যাহোক অনেক কথাই লিখলাম এবার আমি আমারটা লিখি তা হলো আমি একজন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। পীরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও পারুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। আমার ছাত্রজীবন থেকে আজ অবধি আমি মিলন ভাইয়ের পরামর্শে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হতে পেরেছি বলে আমার বিশ্বাস। কিন্তু আজ আমার মনে একটা ভয় চেপে বসেছে যে, সৎ আদর্শবান নির্ভীক মিলন ভাইয়ের উপর যে খড়গ নেমে এসেছে, একই রকম খড়গ না আমার উপর এসে পড়ে। আমার পরিবারের তো আমিই ভরসা, আমার কিছু হলে তাদের কি হবে?

আর দেশের একটা এমন সময়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো যে সময় সারাদেশের মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার। মিলন ভাইকে ওএসডি করার এই সিদ্ধান্ত জনগণের মাঝে খারাপ মেসেজ দিতে পারে।

সুতরাং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার আবেদন,দুর্নীতি দমনে আপনার যে জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে সে নীতির আলোকে অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন ভাইয়ের ওএসডি প্রত্যাহার করে তাকে সম্মানজনক স্থানে বসানোর বিনীত প্রার্থনা করছি।

(লেখাটি ফেসবুক থেকে নেওয়া)

Smiley face