১১০ বছর বয়সেও চোখে চশমা ছাড়া পবিত্র কোরআন পড়েন !

প্রকাশিত: ১২:৪৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০২০

আরিফুল ইসলাম জয় কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি ঃঃ– কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ১১০

বছর বয়সেও চোখে চশমা ছাড়া পবিত্র কোরআন পড়েন উপজেলার একমাত্র প্রবীন ব্যক্তি

তফিল উদ্দিন মুন্সি জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার নাম তফিল উদ্দিন, পিতা মৃত

উমেদ আলী, জন্ম তারিখ ২৯ নভেম্বর ১৯১১। সে মতে বর্তমানে তার বয়স ১১০ বছর।

উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের কানিপাড়া গনাইরকুটি (চৌধুরী বাজার) গ্রামে তার

বাড়ি।

সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম এর দাদু এই তফিল উদ্দিন মুন্সি।এলাকাবাসী ও স্বজনদের

দাবি, পরিচয়পত্রে জন্ম সাল ভুল রয়েছে। তার প্রকৃত বয়স ১৩০ বছর। তার পরিচয়পত্রে

জন্ম তারিখ অনুযায়ী তিনি একাধারে তৎকালীন বৃটিশ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের

নাগরিক। তার বাড়িতে খোঁজ নিতে গেলে বৃদ্ধ তফিল উদ্দিনকে চশমা ছাড়াই পবিত্র

কোরআন পড়তে দেখা যায়।

পাঁচ ছেলে ও পাঁচ মেয়েসহ দশ সন্তানের পিতা তফিল উদ্দিন। অবশ্য তাঁর স্ত্রী ২০০০ সালে

ও বড় ছেলে ১৯৯২ সালে মারা গেছে । তিনি এখন বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন। তবে

বর্তমানে বয়সের ভাড়ে চলাফেরা করতে না পারলেও দৈনিক ৫ ওয়াক্ত নামাজ ও

কোরআন তিলাওয়াত করেন। চশমা ছাড়াই সবকিছু ভালভাবে দেখতে পান। নিয়মিত

ফজরের নামাজের পর খালি চোখে কোরআন শরীফ তেলোয়াত করেন। শতবর্ষী এই

মানুষটি এখন ভূরুঙ্গামারীতে আলোচনার বিষয় হয়ে দারিয়েছে। দুর-দুরান্ত থেকে বহু

মানুষ তাকে দেখতে ও দোয়া নিতে আসেন।

আলাপচারিতায় তফিল উদ্দিন জানান, যুবক বয়স থেকে তিনি আবাদী জমির ধানের ঢেঁকি

ছাটা চালের ভাত, নদী ও খাল বিল থেকে মারা দেশী মাছ, বাড়িতে পালিত হাঁস-মুরগীর

গোস্ত, দুধ, দেশি মুরগী ও হাঁসের ডিম, খাঁটি সরিষার তেল, নিজের উৎপাদিত বিভিন্ন

প্রকার শাক-সবজি ও প্রচুর ফল-মুল খেতেন। এই বয়সে বসন্ত রোগ ছাড়া বড় ধরনের

কোনো রোগ-ব্যাধি তার হয়নি।

তিনি আরও জানান, নোয়াখালি থেকে এক হুজুর এসেছিল। তার নিকট থেকেই তিনি

বাংলা ও আরবী পড়া শেখেন । বাড়ীর পাশে মসজিদে একাধারে ৭০ বছর যাবত ইমামতি

করেছেন। চর বলদিয়া স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক ছিলেন তিনি। স্পষ্ট

উচ্চাড়ণে কোরআন শরীর পড়েন তফিল উদ্দিন।

তিনি পত্রিকা ও বই পড়তে পারেন। রাতে কুপি জ্বালিয়ে কোরআন শরীফ পড়ার স্মৃতি

ভোলেননি আজও।

তফিল উদ্দিন মুন্সি স্মৃতি চারণ করে বলেন, আমাদের একটি জমি দুধকুমার নদীর ভাঙনে

বিলীন হয়ে গেছে। আমার বাবা বলতেন এই জমির দলিল যেদিন হয়েছে। সেদিন তুমি

জন্ম গ্রহন করেছো। সে মতে আমার বর্তমান বয়স ১৩০ বছর।

তিনি বলেন, আমি অনেক ভালো আছি। আল্লাহ পাক আমাকে সুস্থ রেখেছেন। এজন্য

আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জামাল হোসেন জানান, ভূরুঙ্গামারীতে এত প্রবীণ

একজন ব্যক্তি আছেন আমার সেটা জানা ছিল না। আমি যেদিন জানতে পেরেছি সেদিনই

প্রবীন এই ব্যক্তিটির জন্য একটি বয়স্ক ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করেছি।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুননবী চৌধুরী খোকন বলেন, এই সব

প্রবীন ব্যক্তি দেশ ও জাতির সম্পদ তাদেরকে অবহেলা করা যাবে না। নতুন প্রজন্ম তাদের

থেকে অনেক কিছু শিখতে পাবে।

Smiley face