আমরা উন্নত হইয়াছি, শিক্ষিত হইয়াছি – কিন্তু সভ্য কি হইয়াছি?

প্রকাশিত: ৮:১৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০২০

ড: নওশাদুল হক
মেলবোর্ন ১০ই অক্টোবর ২০২০:

আমাদের হাতে হাতে মোবাইল ফোন। সবারই কোনো না কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাউন্ট আছে। ধর্ম, বিজ্ঞান, সংগীত, নৃত্য, শিল্প, রাজনৈতিক মতাদর্শ, স্ববিরোধী অনেক মত, আবার মুখরোচক মিথ্যা খবর, হিংসা, ঘৃনা, অশ্লীলতা, ভালো মন্দ – এমন কিছু নেই যাহা ছড়াইতেছি না তাহাতে।

১৮৫০ সনে পৃথিবীর লোকসংখ্যা ছিল ১০০ কোটি। ১৯৫০ পরবর্তী একশ বছরে তাহা বাড়িয়াছিল ২০০ কোটিতে। গত ৭০ বছরেই তাহা তিন গুনের উপরে, সাত বিলিয়ন বা ৭০০ কোটির ওপরে পৌঁছিয়াছে। ইহার কারন কি। মানুষের প্রজনন ক্ষমতার হার হঠাৎ করিয়া বৃদ্ধি হইয়াছে তাহা নহে বরং তাহা আর্থ সামাজিক ও চিকিৎসা ব্যাবস্থার উন্নতির কারনে। সুপেয় পানির সহজ লভ্যতা আরেকটি হইতে পারে।

আমার মতো অনেকেই যাহারা নদী বা পুকুর বা বাহিরে দাড়াইয়া বাংলাদেশে চাপকলের পানিতে গোসল করিতাম তাহারা এখন বাসায় ফিরিয়া ট্যাপ খুলিলেই গরম জল, বাহিরে হিম ঠান্ডা কিন্তু বাড়ীর ভিতরে সেণ্ট্রালি ডাকটেড গ্যাস হিটার, জ্বালানী পোড়াইতেছি, বাহিরে ভীষন গরম কিন্তু ভিতরে হিমশীতল বাতাস শীতাতোতপ নিয়ন্ত্রিত, সুন্দর বাডী হইতে বাহির হইলেই দামী নতুন মডেলের গাড়ী। রান্নার জন্য পাটখড়ি বা শুকনা লতা পাতা বা ঘুটে ব্যাবহার করিতে হয় না। ঝকঝকে রাস্তাঘাট, দোকান পাট। গাড়ীর সীটের সাথে হিটার সংযুক্ত শীতে আরামে চালানো বা বসিয়া থাকার জন্য। এখন আবার শুনিতেছি সেইটা গাড়িতে উঠিবার কিছুক্ষন আগে থাাকিয়াই ঠান্ডা বা গরম দুর নিয়ন্ত্রিত উপায়ে করা যাইবে যাহাতে সেটা রেডী থাকিবে। আমি বলিয়াছি বলিয়া এইগুলি আমার নিজের আছে তাহা নয় কিন্তু, বিদেশে সবারই বাড়ী, গাড়ী এমন না পাইবার কিছু নয় যিনি বা যাহারা যাহাই বা যে কাজই করুন না কেন। আর ইংরেজীতে কথা বলা এমন কিছু নয়।

যাহা খাইতে পছন্দ সবই চাহিলে হাজির করানো যাইবে। অসুস্থ হইলে হাসপাতালও পাঁচ তারকা হোটেলের মতো। স্বাস্থ্য কর্মীদের জীবন বাহির হইলেও তাহারা হাসি মুখে সুন্দর ব্যাবহার করিবে, সেবাটা দিতেই হইবে। ছেলে মেয়ের স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় ফৃ শিক্ষা। না না, ইহাতো আমাদের গনতান্ত্রিক অধিকার। তবুও সুখে থাকিতে ভূতে কিলাইয়া থাকে।

ইহার জন্য অনেকে পরিশ্রম করিয়াছে বা অর্থ খরচ হইয়াছে অনেকের জন্য বা তাহাদের পরিবারের। এই পার্থিব সুখের জন্য অন্যদেশে অভিবাসী হইতে হইয়াছে অনেকের। বাংগালি অভিবাসীদের ৯৯ ভাগের বেশী অর্থনৈতিক বা সামাজিক সুরক্ষার আকর্ষনে বিদেশ গামী হইয়াছে। আমি নিজেও সেই দলভূক্ত তাহা স্বীকার করি। তাহাও ভালো যে একটি সবুজ পাসর্পোট ও স্বাধীন একটা দেশ পাওয়া গিয়াছিলো। না হইলে যে সংখ্যাটা দেশ বিদেশে ছড়াইয়া আছে এর পাঁচ ভাগো তথাকথিত পূর্ব পাকিস্তান হইতে বাহির হইতে পারিত কিনা সন্দেহ আছে। যদিও এই কৃতজ্ঞতা বোধ টাও বাহিরের উন্নত জীবনে সেটল হওয়া অনেক মানুষের মধ্যে দেখিতে পাই না।

ব্যায়ের চাইতে আয় বেশী, আর চাকরী চলিয়া গেলেও বেকার ভাতা, আরো বিভিন্ন ভাবে সিস্টেম এক্সপ্লয়েট করিয়া বিভিন্ন ভাবে সুবিধা নিয়া থাকিতেও অসুবিধা নাই। আবারো আড্ডায় বসিয়া যে দেশে বসবাস তাহাদের বা পশ্চিমাদের বিপক্ষে গালাগাল করিতে হইবে। ইহাতো গেলো বিদেশের কথা।

দেশে অনেকে ইহার চেয়ে অনেকই ভালো জীবন যাপন করিতেছে। কিন্তু তবুও অনেকের চোখটা পশ্চিমে। এমনকি ভয়ানক ধার্মিক, সারাক্ষন পশ্চিমা দের জীবনাচার নিয়ে কথা না বলিলে খাবার হজম হইবে না এমনকি তাহারা সুযোগ পাইলে লাইন ভংগ করিবে এখানে আসিবার জন্য। না তবে দুনিয়াবী আকর্ষনের প্রতি সত্যিকারের নিস্পৃহ লোক নেই যে তাহা নয়, তাহাদের সংখ্যাটা নেহাতই কম। গাছেরও খাওয়া আর তলারও কুড়ানো – কেন এই দ্বিমুখী মনোভাব থাকিবে বোধগম্য নয়।

আমরা অনেক সময় ভিত্তিহীন অভিযোগ করি বা ঋনাত্নক বিষয়ে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় অনুযোগ করিয়া মনের অন্যান্য ক্ষেদ মেটানোর চেষ্টা করিয়া থাকি। এমন কি পরিবেশগত তথাকথিত অনেক নিরীক্ষাসুচকের সত্যিই উন্নতি হইয়াছে, যেমন অনেক গুলি বায়ু দুষন সুচকের। যেমন কার্বন মনোক্সাইড, সালফার, নাইট্রোজেন, ওজোন ক্ষয়কারী গ্যাস ইত্যাদির নিয়ন্ত্রন বাড়িয়াছে তবে সত্যি কিছু সুচকের অবনতি ও ব্যবধান রহিয়াছেও অন্চল ভেদে।

হ্যা এটা সত্যি – কার্বন নি:সরন ঘটিত জলবায়ু পরিবর্তন ও পৃথিবীর উষ্ণায়ন একটি বড় সমস্যা। এই মুহুর্তে তারো প্রযুক্তিগত সমাধান যে নাই তাহা নহে, অর্থনৈতিক ভাবে স্বল্প খরচে সব জায়গায় প্রয়োগ করিবার মতো প্রযুক্তি এই মুহর্তে সহজ লভ্য নহে।

বিভূতিভূষনের বর্ননায় বিশ হইতে পয়তাল্লিশ দশকের তৎকালীন বংগদেশ তথা পূর্ব ভারত এলাকার সমাজ চিত্রের পরিপূর্ন একটা বিবরন প্রত্যক্ষ করিবার সম্ভব হয়। আরো অনেক লেখকের লেখায়ও তাহা পরিস্ফুটিত হয়। তখন মোবাইল ফোন তো দুরের কথা অনেক জায়গায় পদব্রজে, পালকিতে বা বড়জোর ঘোড়া, গরু বা মহিষের গাড়ীতে চলিতে হইতো। চিকিৎসা ব্যাবস্থা আদিম তম পর্যায়ের ছিল।

কিছু কিছু আদিবাসী সমাজ অত্যন্ত পিছনে পড়িয়া ছিল কুসংস্কারাচ্ছন্ন – তখনকার নিরিখে সভ্য বাংগালি সমাজের তূলনায়। উহাদের মধ্যে শিক্ষার হার ছিল শুন্যের কাছাকাছি। উহাদের কাছে কলিকাতার গল্প এক আশ্চর্য জগত মনে হইত।

এখন বর্তমান কিছু ঘটনার উল্লেখ করি। এগুলো কল্পিত নয়। ফেসবুকের কল্যানে সৌভাগ্য বা দূর্ভাগ্য বশত: অনেক কিছুই দেখিতে হইতেছে।

একটি বছর খানেক বয়সের ছোট ফুটফুটে শিশুকে মেঝেতে শোয়াইয়া রাখা হইয়াছে। একজন মানুষ একটি সাপকে ধারাল ঝুপি বা কোচ দ্বারা বিদ্ধ করিয়া রাখিয়াছে। সাপটির মুখ শিশুটির একটি অংগুলির মাথা কামড়াইয়া ধরিয়া রহিয়াছে। শিশুটির বিষ এভাবে ভন্ড সাপুড়িয়া তুলিয়া নিতিয়াছে বলিয়া উপস্থিত সবাইকে বোকা বানাইতেছে। কয়েক হাজার পছন্দ ও মন্তব্য সবই সর্পদেবীকে প্রশংসা করিয়া দেখা যাইতেছে। কেও যদি এর বিপক্ষে একটু যৌক্তিক মন্তব্য করিয়াছে তাহাকে অনেক অশ্রাব্য গালি গালাজ ও কটুবাক্য শুনিতে হইয়াছে।

ইহার মধ্যেই শুনিলাম, আমাদের এলাকায় সর্প দংশনে ৩০ বছর বয়সী একজন মারা গিয়াছে। গ্রাম্য কবিরাজের কাছে ঝাড়ফুঁক করিবার বৃথা চেষ্টা করিবার কারনে আধুনিক চিকিৎসা পায় নাই। চিকিৎসক বলিয়া থাকেন বিষ রক্তে না মিশিতে পারিলেই সাপে কাটা রোগী বাঁচানো সম্ভব। বেশী সমস্যা হইলে বিষ নিরোধক ওষুধ ব্যাবহার করিতে হয়। অল্প বয়সী এক জন মানুষ, জানিনা তার পরিবার সন্তানাদি ছিলো কিনা। কি করুন পরিনতি হইবে এই পরিবারটির, ঐ বধুটির বা সন্তান দের। সন্তান সংসার না থাকিলেও তাহার আত্নীয় স্বজনের তাহাকে হারানোর কষ্ট কোনো কম হইবে কি?

আরেকটি জিনিস দেখিতেছি ভূত বা জ্বীন তাড়ানোর নামে মানসিক রোগীদের বিশেষত মেয়ে ও মহিলাদের ওপর অপচিকিৎসার প্রয়োগ বিশেষত ধর্ম গুরুদের দ্বারা। আর বিভিন্ন ভন্ড ধর্মীয় (সব ধর্মের) গুরুদের ওয়াজ নসিহত ও মিথ্যা মনগড়া প্রচার। ফেসবুকের মত নতুন প্রযুক্তি ব্যাবহার করিয়া অতি পুরোনো ভূল ধারনার প্রসার করা। ইহা যেন লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় অত্যাধুনিক এপল ঘড়ি পরিয়া পুরোনো ও নতুন দুই ভূবনের অসাধারন মিলন ঘটানো। লুংগিকে ছোট নয় কারন আমিও পরিধান করি তবে ট্র্যাডিশন ও আধুনিকতার মিশ্রতার জন্য উদাহরণ মাত্র। তবে কিছু ধ্রপদী জিনিস আঁকড়াইয়া থাকিবার দরকার আছে নিজের শিকড়ের জন্য।

সেখানেও মানুষ হাজার হাজার টাকা খরচ করিয়া ভূল জ্বীন ভূত তাড়াইবার চিকিৎসা নিতিয়াছে এবং কয়েক হাজার লাইক ও সৃষ্টিকর্তার গুনগান করিয়া মন্তব্য প্রদান করা হইয়াছে। যৌক্তিক ভিন্নমতের দুই এক জন লোককে অশ্রাব্য বাক্য বর্ষন করিতেছে বেশীর ভাগ অন্ধ বিশ্বাসী লোকেরা।

ধর্ম বা নীতি শাস্ত্রের মূল কথা হলো আমি অন্যের সাথে সেই ব্যাবহার করিব না যাহা আমি চাইব না কেও আমার সহিত করুক। তাহা মানিতেছে কয় জন?

পন্চাশ দশকের আদিবাসী ও সভ্য বাংগালি সমাজের তূলনার মতো এখন যদি একটি উন্নত দেশের ধরা যাক অষ্ট্রেলিয়ার একটি ছোট গ্রামের সুবিধা ও সেবার সাথে বাংলাদেশের রাজধানী শহরের ব্যবধান ও তূলনা করা যায় – এক অর্থে তাহাই কি হইবে না? এই সুচকগুলি শুধুই মোটর গাড়িই নয় আমি সব কিছু মিলাইয়া বলিতেছি। এইখানে আমার নিজের দেশ ও সমাজকে ছোট করিবার উদ্দেশ্যে নয়, আমি সত্যি যাহা দেখিতেছি তাহাই বলিলাম। বলা হইবে এই তূলনা যৌক্তিক নহে কারন ইহাদের অনেক সম্পদ কিন্তু লোক কম।

বিশ্বের মানচিত্রে লাল অনুন্নত অংশ আর গাঢ় সবুজ উন্নত তথা মূলত পশ্চিমা বিশ্ব। আমাদের দেখিতে হইবে পৃথিবীর মানচিত্র কে কিভাবে গাঢ় সবুজ বানানো যায় লাল অংশ কমাইয়া দিয়া। সেইটাই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমালার মূল উদ্দেশ্য। তার মানে পশ্চিমা বিশ্বে সব কিছুই শ্রেষ্ঠ তাহা নয়। অনেকে তর্ক করিবেন উন্নত দেশের খারাপ দিকগুলো নিয়ে। তবে মানুষের পেশা নির্বিশেষে ন্যূনতম সন্মান, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ও বেশী মানুষের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা, সামাজিক সুরক্ষা, জাতি, ধর্ম, বর্ন নির্বিশেষে সুবিচার পাইবার অধিকার এই গুলি আছে। তবে কিছু ছোট খাট সমস্যা থাকিতে পারে কিন্তু মোটা দাগে সমাজের ভিত্তি টা কিছু জন কল্যানধর্মী গনতান্ত্রিক নীতিমালার উপর দাঁড়াইয়া আছে। আমি নিজেও বিভিন্ন সময়ে বর্নবাদী মন্তব্যের স্বীকার হইয়াছি বাজার ঘাঁটে চলিয়া ফিরিবার সময় কিন্তু ওই গুলি কিছু অল্প কিছু খারাপ মানুষের দ্বারা ও বিচ্ছিন্ন ঘটনা মাত্র।

প্রাচ্য বা প্রতীচ্য দুই দিকের খারাপ ভালো আছে। আমার জীবনের এখন পর্যন্ত দুই দিকেই আধা আধি কাটাইয়াছি। কোথায় অপরাধ বেশী সেটা আমরা জানি। অপরাধের পরিমান ও ধরন নরওয়ে, ফিনল্যান্ড বা সৌদি আরব বা আমাদের দক্ষিন এশিয়া অন্চলে আমরা তূলনা করিতে পারি। আফ্রিকার আরো গরীব ও অনুন্নত দেশ গুলিতে মানুষের অবস্থা ও যুদ্ধাবস্থার কারনে অনেক মানুষের কোনো কাজ নেই। আফগানিস্তানে যেমনটা উন্নতির সাথে সাথে মানুষ ব্যস্ত হইয়া গেলে কে হানাহানি চাইবে? সবাই শান্তিতে সন্তান সন্ততি নিয়ে দু মুঠো খেয়ে পরে ভালো ভাবে বাচিতে চায়।

তাহার আর্থ সামাজিক অবস্থা একটি সমাজের বসবাসের প্রতিফলন। যেখানে তিনজন শিক্ষিত মানুষের একজনের কোনো কর্ম নাই তাহাদের মাথায় হতাশা ও শয়তান ঘোরাফিরা করিবাই খুব অস্বাভাবিক নয়। অযৌক্তিক খারাপ উপায়ে তাহাদের একটি অংশ সুবিধা লইবার চেষ্টা করিবে। এই যুব মানব শক্তিটিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা অবশ্যই শুভ ফল আনিবে। আমি লক্ষ্য করি সরকার সহ অনেক উন্নয়ন সংস্থা তাহাই করিবার চেষ্টা করিতেছে দেশে দেশে।

পুর্ব বা পশ্চিম যেখানে খারাপ টি বেশী সেটি কমানো বা দুর করা গেলেই দুই সমাজের ভালো দিকগুলি নিয়া সুন্দর একটা মানুষের সমাজ গঠন সম্ভব হইতে পারে। অনেকে ভূরাজনীতি বা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব আনিতে পারেন – যাহার অনেক ত্রুটি আছে। করোনার অস্তিত্ব নেই এই বিশ্বাসও অনেক মানুষের আছে এখোনো।

তাহা হইলে কথা দাঁড়াইল অর্থনৈতিক উন্নতির শীর্ষে উঠিলে অন্যান্য সূচকগুলি উন্নত হইবে। যেমন মানবিক অধিকার, সব মানুষের সম্মান, নারী ও শিশু অধিকার, সমাজের দূর্বল শ্রেনীর প্রতি সহিংসতা কমিবে, সুষ্ঠ বিচার ব্যাবস্থা ইত্যাদি। অর্থনৈতিক মুক্তি ও স্বাবলম্বিতা ছাড়া মানুষের ন্যূনতম সন্মান মিলিবে না। ভারনাবিলিটি আরো বাড়াইবে অর্থনৈতিক মুক্তি ব্যাতিরেকে।

এখন এই উন্নতির জন্য কি করিতে হইবে? অবশ্যই শিক্ষা এবং সেটি ইহজাগতিক শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা। আমি অনেক কেই দেখিয়াছি পারজাগতিক বিষয় নিয়ে সুযোগ পাইলেই ভাষন দিবেন। তীর্থ থেকে তীর্থে ঘুরিয়া বেড়াইবেন, কিন্তু সুযোগ পাইলেই নিজে বা বংশধর দেরকে দুনিয়ার আনন্দ থেকে কোনোরকম বন্চিত করা তো দুরে থাক অনৈতিক ভাবে তাহা হাসিল করিতে দ্বিধা করিবেন না। অনেক ধার্মিক কে চরম অধর্মের কাজ করিতে দেখিয়াছি। অনেকে বলিবেন লোক দেখানো বা বক ধার্মিক, তাতো ঠিকই কারন ধর্মের নিয়ম গুলি জানিলে তো ঐ কাজ করিবার কথা নয়। আবার অধার্মিক লোকও খারাপ কাজ করিয়া থাকে। ইহার জন্য ধর্মের যেমন দোষ নয়, আবার সব অধার্মিকের চিন্তার দোষ নয় কিছু জনের অপরাধের জন্য।

ন্যায়বিচার, ঐক্য, ভাতৃত্ববোধ ও অন্যের অধিকারের প্রতি পূর্ন শ্রদ্ধা সুমহান ইসলাম ধর্মের মূল বিষয় বস্তু। গীতার নিয়মে জীবন চালাইলে ভারতে অতি সম্প্রতি অনেক কিছু দেখা যায় তাহা হইতো না। তাহা শুধু সংখ্যালঘু দের উপরে নয় কিন্তু অন্তজ দের উপরেও অনেক অবিচার রহিয়াছে আমাদের অন্চলে। বাইবেলের দশ কমান্ডমেন্ড, ইহুদী, শিখ বা বৌদ্ধ দের নীতিমালা গুলোও অতি মানবিক। অনেক মহান লোক জন সব শিবিরেই রহিয়াছে। সত্যিকার ধার্মিক ব্যাক্তিগনও শ্রদ্ধার পাত্র।

আমরা সহজেই কোনো অন্যায়কারী কে লেবেল দিয়া দিই তা জাতি ধর্ম বা রাজনীতির অনুসারী হিসেবে। অমুক ঐটি অনুসরন করিবার কারনে খারাপ ইত্যাদি। কুৎসিত মন নিয়া সারাক্ষন ধর্ম বিষয়ে পোষ্ট দেয়া অনেক ছেলেকে দেখিয়াছি। এই ক্ষেত্রে ধর্ম কে আশ্রয় বা অবলম্বন করা হইয়াছে শুধু মাত্র।

আমার ৫০০০ এর কাছে বন্ধুর সংখ্যা। হাজার দেড় দুয়েক মানুষকে চিনিলেও বাকিরা বন্ধুর বন্ধু এই ভাবে লিস্টে আছে। আমরা যাহারা বিদেশে থাকি এইখানকার জীবন বেশ ব্যাক্তি কেন্দ্রিক। কাজের বাহিরে ফেসবুক হইতেছে আমাদের বাংলাদেশে বসবাসের স্বাদ। কিন্তু কিছু মানুষের স্ববিরোধিতা এতটাই প্রকট ও তাহাদের সেন্স অব ডিসেন্সি বা পরিমিতিবোধ বা ভদ্রতাবোধ এতই কম যে কনিটনিউওয়াসলি ফ্রেন্ড লিস্ট আপডেট করিতে হয়।

অনেকেই আমার আত্নীয়, বন্ধু, প্রাক্তন সহপাঠী, সহকর্মী, বন্ধুর বন্ধু, ছাত্রছাত্রী, পরিচিত ইত্যাদি। এইবার কিছু উপদেশ দিই ছোটদের, বয়সের অভিজ্ঞতা হইতে। নিজে কতটুকু মানিতে পারিয়াছিলাম সেই কথায় নাই যাই। কিছু না মানিলে আজকের জায়গায় যাহা চাহিয়াছিলাম তাহা পাইতাম না। ছেলে মেয়ে যাই হও তুমি বাড়িয়া উঠিবার সময়ে অবশ্যই জীবনে কিছু সীমারেখা রাখিবে, রাখিবে কিছু নীতি ও মূল্যবোধ। না হইলে যাই করিরে সারাজীবন ভুগিবে। সংগ খুবই গুরত্ব পূর্ন। কথায় আছে সৎ সংগে স্বর্গবাস …। সাফল্যের জন্য মেধা অথবা পরিশ্রম অথবা অর্থের ভিত্তি এবং ভাগ্য এই চারের বিভিন্ন পরিমানের সংমিশ্রন। আমি এই খানে অথবা শব্দ ব্যাবহার করিয়াছি। অর্থের বা পরিবারের শক্তির ভিত্তিতে সাফল্যেতে আমার মনে হয় সন্তুষ্টি কম। তোমাকে ১ অর্জন করিয়া তারপর অনেক বাড়তি কিছু করিতে পারো – যে গুলো আরো ০ যোগ করিবে, মূল্য বাড়াইবে। আর ১ ই যদি না থাকে তাহা হইলে অন্য কিছু করিয়া যত শূন্যই অর্জন হোক তা মূল্যহীন হইবে।

তবে মানুষের এই খারাপ গুনগুলি অন্য জাতির মধ্যেও নেই তাহা নয়, শিক্ষার অভাব ও অর্থনৈতিক দ্বীনতার কারনে তাহা আরো প্রকট হয়। তাই বলিয়া কোনো সেল্ফ রেসপেক্ট বোধ থাকিবে না কেন। অস্বচ্ছল হইলেই স্বভাব খারাপ হইবে তাহা নয় যদি বিবেকের শক্তি শক্ত থাকে। সামগ্রিক অর্থনৈতিক মুক্তি অনেকের ও সমাজের জন্য ভালো হইবে। এখন অনেক ধনী ব্যাক্তিরাও অপকর্মের সহিত জড়িত। এর ব্যাখা বা সেটা কিভাবে দুর করা যাইবে জানিনা। সেখানটাতেই মানবিক, ধর্মীয় ভাবনা বা নীতি শিক্ষার প্রয়োগটা দরকার।

এয়ারপোর্ট গুলোতে চলাফেরার সময় দেখেছি পশ্চিমা ও আমাদের দেশ গুলোর লোক জনের আচার ব্যবহার। পশ্চিমের সবাই যে অনুকরন করিবার মতো তাহা নয় আবার পুবের সবাই অনাকাংখিত আচরন করে তাহাও নয়। পূবের মানুষদের অভিজ্ঞতা কম থাকিবার কারনে কোথায় কি করা উচিত বুঝিয়া উঠিতে সময় লাগে। আমি ইনিয়ে বিনিয়ে পশ্চিমের শ্রেষ্টত্ব বর্ননা করিতেছি না। কারন আমাদের যে ঐতিহ্য ছিলো তাহা হারাইয়া গিয়াছে। যদিও ইতিহাস দেখিলে বোঝা যাইবে আমাদের কনফিডেন্স সব সময়ই হয়ত কম ছিলো। সরকার সমাজেরই প্রতিফলন।

এই জন্য একদল আধুনিক ও নীতি শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষ তৈরি করিতে হইবে সব সেক্টরে যাহারা লিডার হইবে ম্যানেজার নহে। সেটা আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্থা হইতে আসিতে হইবে। এই জন্যই ইহার সমাধান শিক্ষা বা এডুকেশন। শিক্ষকদের প্রতি অনেক গুরুত্ব দিতে হইবে। বিভূতিভূষনের বর্ননায় – “নর্মাল (একাদশ) পাশ করা একজন পন্ডিত আজ সাত বছর পনেরো টাকায় ঘষচে, কোনোখানে উন্নতির আশা নেই। শেয়ালদা স্টেশনের কুলিও মাসে অন্তত পনেরো টাকার দেড়-গুন থেকে তিন চার গুন রোজগার করে। এদের দিকে চাইলে কষ্ট হয়, এরা আমাদের ছেলে পুলেকে মানুষ করে দেবার ভার নিয়েচে, পরম নিশ্চিন্তে সে ভার এদের ওপর চাপিয়ে আমরা বসে আছি। একথা কখনো কি ভাবি যে এরা কি খেয়ে আমাদের সন্তান দের মানুষ করে দেবে? হাওয়া খেয়ে তো মানুষ বাঁচে না!” ইহা সেই বৃটিশ সময়ে নরসিংদীর এক স্কুলে তাহার হেড মাষ্টার বন্ধুর সহিত সাক্ষাতকালীন অভিজ্ঞতা।

পারলৌকিক হওয়াতে আমার কোনোই সমস্যা নাই বা ধর্ম বিশ্বাস ও নিজস্ব, এবং ধর্মের অনেক সুন্দর প্রভাব ও সমাজে রহিয়াছে এ বিষয়ে স্বীকার করি। কিন্তু আচার স্বর্বস্ব, স্ববিরোধীতা ও এর ব্যাবসায়িক ব্যাবহারে আপত্তি রহিয়াছে। তার আর্থিক বা সামাজিক বা ক্ষমতা পাইতে রাজনীতিতে ব্যাবহার তো আরো ভয়ানক। আর একটা বিষয় কোনো প্রমান ও নির্দেশকের পরিমাপন ছাড়াই আমরাই এখন শ্রেষ্ঠ – সে ভাষা বা ধর্মের ভিত্তিতে বলা হউক সেটিও একটি মিথ্যাচার ই হয় যদি না এখনই প্রমান দেখাইতে পারি।

আমরা ষড় ঋপু জানি। অবৈধ কামনা বা বাসনা, রাগ, লোভ – অনৈতিক ভাবে পাওয়ার আকান্খা, মোহ – কিছুর প্রতি খারাপ অর্থে আসক্ত থাকা, মদ – গর্ব বা অহংকার, মাৎসর্য – হিংসা, পরশ্রীকাতরতা। ভালো মানুষ হওয়ার দরকার নেই কিন্তু খারাপ মানুষ না হইলেই ভালো। সব মানুষেরই এই সবের কিছু দোষ থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে এগুলো কমাতে পারলে তো খুবই ভালো, আর না পারলে নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে। না পারলেই সমাজে অনাচার বাড়িতে থাকিবে। যুব সম্প্রদায় ছেলে মেয়ে দুইই এটা মাথায় রাখিতে হইবে।

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ – আমি এই গুলো লিখিয়াছি বলিয়া অতিমানব ভাবিবার কোনো কারন নাই। একটু গভীর ভাবে চিন্তা করিলেই বোঝা যাইবে আমরা সবাই অতি সাধারন মানুষ – কমবেশী এর শিকার হইতেছি বা হইয়াছি। লেখাটা অবশ্যই খুবই সহজ কাজ, করিয়া দেখানোই আসল কথা।

বাংলার শেক্সপিয়র খ্যাত শেখ ফজলুল করিম সেই ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে লিখিয়া গিয়াছেন –

“মানুষের মাঝেই স্বর্গ-নরক
মানুষেতে সুরাসুর”।

আমি বিশ্বাস করিয়াছিলাম দুনিয়ায় এক সময় পুলিশ বা আর্মির প্রয়োজন হইবে না। কিন্তু এখন আমি দ্বিধান্বিত হইয়াছি।

অসুর গুলোর দমন এখন ই প্রয়োজন।

তারপর – নিয়মিত নারী, শিশু ও দূর্বলের ওপর ভয়ংকর সহিংসতার কথা বাদ ই দিলাম। তাহলে আমরা কি আসলেই সভ্য হইয়াছি?

এ প্রশ্নের উত্তর হ্যা জানতে চাইলে বেশ কিছুদিন খবরের কাগজ বা টেলিভিশনের খবর দেখা বন্ধ করিতে হইবে।

এতদুর যখন ধৈর্য রেখে পড়ার সময় হইয়াছে তখন সমাধান ও শুনিতে হইবে। আগেই বলিয়া রাখিতেছি অনেকের দ্বিমত থাকিতে পারে তবে অন্যের
মতের উপর শ্রদ্ধা রাখিয়া যুক্তি সহকারে মন্তব্য উপস্থাপন করিলেই বাধিত হইব। আর গুরুচণ্ডালী দোষ না ধরিতে অনুরোধ রহিল।

এসবের সমাধান হচ্ছে আমাদের সমাজে সুশিক্ষা, সুশিক্ষকের সঠিক প্রতিদান ও শিক্ষালয়ের বিস্তার ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার।

Smiley face