
কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার কৃতি সন্তান নজরুল ইসলাম সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসেবে কর্মরত আছেন।
নজরুল ইসলামের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রমই সফলতার দিকে দাবিত করে তাকে। তিনি ২০১৩ সালে ৩১তম প্রশাসন ক্যাডারে নোয়াখালীতে সহকারী কমিশনার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। পরে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং ২০১৬ সালের ডিসেম্বর থেকে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রশাসন ক্যাডারে যোগদানের পূর্বে প্রথমে তিনি সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার হিসেবে চাকুরিতে যোগদান করেন।
শ্রীমঙ্গলে খাসি, মান্দী, পাঙন, মৈতি মনিপুরী ও সাদ্রী গোষ্ঠীসহ শতাধিক ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস। তাদের রয়েছে নিজস্ব ভাষা। অনেকের ভাষা ইতিমধ্যে হারিয়ে গেছে। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর এলাকা পরিদর্শনকালে সেসব হারিয়ে যাওয়া ভাষা সংরক্ষণ প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে তিনি উদ্যোগ করেন।
তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে ওইসব জাতিগোষ্ঠীর ভাষা সম্বলিত বই সংগ্রহ করেন এবং নতুনভাবে তাদের পড়ার উপযুক্ত করে প্রকাশের ব্যবস্থা করেন।
শ্রীমঙ্গলে সরকারি ৭৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বেসরকারি আরও দশটি বিদ্যালয়সহ মোট ৮৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য এই বইগুলো উপহার দেন তিনি।
নজরুল ইসলাম ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সাল থেকে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পদে কর্মরত আছেন। তিনি ১৯৯৮ সালে চাতল বাগহাটা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি এবং ২০০০ সালে মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর কলেজ থেকে স্টার মার্কস পেয়ে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পাস করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৬ সালে লোকপ্রশান বিভাগ থেকে স্নাতক এবং ২০০৮ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
নজরুল ইসলামের বাবা অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান। মাতা আম্বিয়া বেগম ২০১৬ সালে জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ কার্যক্রমের আওতায় সফল জননী নারী ক্যাটাগরীতে কিশোরগঞ্জ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচীত হন।
পাঁচ ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে নজরুল ইসলাম পঞ্চম। ভাই-বোনদের মধ্যে সবার বড় ভাই কটিয়াদী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির দুই বারের সাধারণ সম্পাদক । বর্তমানে মো. মাহবুবুর রহমান চরিয়াকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দ্বিতীয় ভাই মো. মোস্তাফিজুর রহমান মণ্ডলভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তৃতীয় ভাই মো. জাহাঙ্গীর হোসেন যুগ্ম জেলা জজ (অর্থ ও ঋণ আদালত) ঢাকা এবং স্ত্রী রোজিনা খানম, স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা জজ), ডেসকো, ঢাকায় কর্মরত রয়েছেন। সবার ছোট মো. আনিসুর রহমান উজ্জ্বল কিশোরগঞ্জ জজ আদালতে আইনজীবী পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।
৫ বোনের মধ্যে ২ জন বিবাহিত । একজনের স্বামী স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত । আরেকজনের স্বামী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর পদে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত । ৩ বোন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত । নজরুল ইসলামের স্ত্রী খালেদা ইয়াসমিন অনি ঢাকা হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক ।