• শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন

বাঘা থানায় নামের মিল থাকাতে ধর্ষন মামলার আসামি রাব্বি হোসেন !

Reporter Name / ২৮৩ Time View
Update : সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০

বাঘা প্রতিনিধি, রাজশাহীঃ

রাজশাহীর বাঘা থানায় সাম্প্রতিক এক কলেজ ছাত্রী ধর্ষণ মামলা করেন। আসামীর সাথে নামের মিল থাকাতে মামলায় প্রকৃত অপরাধীর পিতার নাম এবং ঠিকানার পরিবর্তে ষড়যন্ত্রমূলক এক নিরপরাধ যুবকের পিতার নাম এবং ঠিকানা লিখা হয় অভিযোগ পত্রে ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্ব পরিচিত রাব্বি হোসেন নামের এক যুবকের সাথে ফারজানা ইয়াসমিন নামের (বাদী) কলেজ ছাত্রী প্রথমে প্রেমের সম্পর্কে জোরিয়ে পরেন । দীর্ঘদিন সম্পর্কের পর রাব্বি পারিবারিক চাপে ওই ছাত্রীর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করেদেয়। এবং সুকৌশলে আনুমানিক তিন মাস পুর্বে রাব্বী তার পরিচিত নিজ বাড়ির ভাড়াটিয়া(বন্ধু) শাকিব রানা মুন্নার (২৪) সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় বাদীর এবং রাব্বী তার মোবাইল নম্বর পাল্টিয়ে ফেলে।

অসহায় ওই কলেজ ছাত্রীকে সহায়তা করবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজের বাসা বাড়িতে (মনিগ্রাম তুলশীপুর) ডেকে নিয়ে আসে ও অসহায় নারীর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে শাকিব রানা তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এবং সেই নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে ধর্ষক শাকিব বাদীকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ও সেই ধারনকৃত ভিডিও ভাইরাল করেদেবার হুমকি এবং অস্ত্র দেখিয়ে ভয় ভীতি প্রদর্শন করে আরো কয়েক বার ধর্ষন করে।

গত সোমবার(২৩ নভেম্বর) রাতে মনিগ্রাম ইউপির তুলশীপুর গ্রামের আমিরুল ইসলাম এর ছেলে শাকিব রানার বাড়ীতে আসে মেয়েটি। শাকিবের বাড়ীতে কথা কাটাকাটি হলে অনেক স্থানীয় লোকজন জমা হয়। একই দিন সোমবার রাতে উপস্থিত লোকজনের পক্ষ থেকে কলেজ ছাত্রী (বাদী) কে জানানো হয় পুলিশ আসছে।

ভূক্তভোগি কলেজছাত্রী (বাদী) জানান,মনিগ্রাম থেকে তাকে দুই যুবক( দিগন্ত – আলামিন) পুলিশ পরিচয়ে মোটরসাইকেল এ করে নারায়নপুর তিলুর বাড়িতে নিয়ে যায় ও তিলু কে ডাকে। এবং সেখান থেকে তারা পালিয়ে যায়। নারায়নপুর হতে পুলিশের ২টি গাড়ী গিয়ে আমাকে থানায় নিয়ে যায়।সে সময় থানার মধ্যে আমাকে জিঙ্গাসা করে,কে কে আমাকে নস্ট করে।আমি বার বার বলি রাব্বি পিতা আজদার(অবঃ আর্মি)। তখন তিলু পুলিশ অফিসারদের লিখতে বলেন রাব্বি পিতা ভ্যাগল।আমি তো এই রাব্বি কে চিনি না তখন ঐ নেতা আমাকে বলে,তুমি চুপ থাকো, বাঘা এলাকার লোকদের আমি চিনি জানি রাব্বির বাবার নাম ভ্যাগল। আমি নাম ভুল বলছি ভেবে পুলিশ অফিসার ঐ নেতার বলা নামটায় লিখেন। এতে পুলিশের কোন দোষ নেই।

মেয়েটি উপস্থিত সাংবাদিকদের আরো জানায়,গত প্রায় ২মাস পূর্বে বাঘা পৌরসভার প্যানেল মেয়র পিন্টুর অফিসেও গিয়েছিল,ধর্ষণের বিচার পাওয়ার আশায়।প্যানেল মেয়র পিন্টু সে সময় আমাকে থানায় গিয়ে জানাতে বলেছিলেন।ওসি সাহেব মামলা নিতে ও চেয়েছিলেন।

এ বিষয়ে বাঘা পৌরসভার প্যানেল মেয়র শাহিনুর রহমান পিন্টু বলেন,ফারজানা ইয়াসমিন নামে এক কলেজ ছাত্রী দেড়-দুমাস আগে আমার অফিসে এসেছিল ধর্ষণের বিচার দাবিতে,আমি তাকে থানায় যাওয়ার কথা বলি।

এ বিষয়ে বাঘা অফিসার ইনচার্জ (ওসি)নজরুল ইসলাম বলেন,নারায়ণপুর থেকে একটি মোটর সাইকেল ও ফারজানা ইয়াসমিন নামের মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে।এখন পর্যন্ত কোন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়নি।রাব্বি নামে একজন এই মামলায় জড়িত আছে।তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত রাব্বির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
amazing-link-zeus.ca