(জিয়াউল কবীর):
স্বাধীনতার চেতণায় বিশ্বাসী
প্রতিটি বাঙালির কাছে আগস্ট শোকাবহ মাস। ১৯৭৫ সনের এই মাসে স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে রাজনীতির গতিপথ পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্গনে আবারও ফিরে আসে সেই পাকি ভাবধারা।স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি গুলো খুবই সুকৌশলে এদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়।সেই অর্থে আগস্ট বাংলাদেশের রাজনীতির একটি টার্নিং পয়েন্ট।
সদ্য স্বাধীন দেশে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি
এবং তাদের আন্তজার্তিক ও এদেশীয় চক্রের প্রতিশোধ স্পৃহার সাথে আ’ লীগে ঘাপটি মেরে থাকা ক্ষমতালোভী চক্রের সুগভীর চক্রান্তেরই ফসলই হলো এই নির্মম হত্যাকান্ড। ১৯৭১ এর পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্রের বিষয়টি ছিল খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু আওয়ামী লীগের আভ্যন্তরীণ বিশ্বাসঘাতক চক্রের বিষয়টি ছিল নিঃসন্দেহে অপ্রত্যাশিত। কিন্তু সেটিই হয়েছিল। খন্দকার মুশতাক জাতির পিতার খুবই কাছের লোক ছিল। এরা খুব কাছের লোকই হয়।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও অনুষঙ্গ বিশ্লেষণে
অনেক চিত্রই উঠে আসে। তন্মধ্যে হত্যাকান্ডের
সাথে সম্পৃক্ত আওয়ামী লীগের আভ্যন্তরীণ বিশ্বাসঘতক চক্রটিই সবচেয়ে ভয়ংকর।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উত্তরসূরীদের হত্যা প্রচেষ্টার ষড়যন্ত্র এখনও থেমে আছে কি ? থেমে নেই। ১৯৮১ সনের পরে বিভিন্ন সরকারের আমলে বারবার জননেত্রী শেখ হাসিনা’র উপর হত্যা প্রচেষ্টা চলেছে। কিন্তু স্রষ্টা সহায় আছেন বলেই প্রিয়নেত্রী আমাদের মাঝে আছেন। তবে ষড়যন্ত্র থেমে নেই এখনও। চলমান সময়ে বিভিন্ন অপতৎপরতায় আমরা সেটিই দেখছি।
একটি রাজনৈতিক দল
দীর্ঘদিন যাবৎ ক্ষমতাসীন থাকলে নানান কায়দায়
সেই দলে ক্ষমতালোভী ও অর্থলোভী চক্রের জন্ম হয়। সুবিধাবাদী শ্রেনির লোকেরা বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় এই দলে অনুপ্রবেশ করে। আবার একশ্রেনির নেতা- কর্মি বঞ্চনারও শিকার হয়। সব কিছু মিলে তখনই ঐ দলের আদর্শিক সাংগঠনিক শক্তির ক্ষয়িষ্ণুতা শুরু হয়। এই ক্ষয়িষ্ণু প্রক্রিয়াটি এক সময় দলটিকে ধীরে ধীরে দূর্বল করে ফেলে।একই সাথে অর্থলোভী চক্রের ক্রমবর্ধিষ্ণু ধারা এক সময় দলটিকে খাদের কিনারায় নিয়ে যায়। তখন আর করার কিছুই থাকে না।
জননেত্রী শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে
দেশের চলমান উন্নয়নের ধারাবাহিকতার সাথে তাল মিলিয়ে দলের সাংগঠনিক শক্তির সুসংহত করা এখন সময়ের দাবী এবং সেটি পুরণ করাই এখন জরুরি। তা না হলে যে কোন বিপর্যয়ে স্তব্ধতা নিয়ে তাকিয়ে থাকতে হবে।
কাজেই ক্ষমতালোভী বা অর্থলোভী নয়, দলের প্রতি নিবেদিত, আদর্শিক ও পরীক্ষিত নেতাদের দিয়ে দলের সার্বিক সাংগঠনিক কাঠামো সুসংহত করতে হবে অচিরেই। আওয়ামী লীগের মাঝে সৃষ্ট নব্য ক্ষমতালোভী ও অর্থলোভী চক্রের অপকর্মের দায় আওয়ামী লীগের ঘাড়ে যাতে না চাপে, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মিরা
সতর্ক থাকলে প্রিয়নেত্রীর নেত্রীর নেতৃত্ব দেশের চলমান অগ্রগতির পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না কেউই। এটাই জন প্রত্যাশা।
শোকাবহ আগস্ট’২০২১-এ
এটাই হোক আমাদের প্রত্যয়।
জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু।