অলিউল হক ডলার ঃ
গত শুক্রবার রাত ৮:৩০মিনিটে নাচোল উপজেলার কার্তিক পুর এলাকায় বাস থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো নাচোলের সংগীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র জাহিরুল ইসলাম।
আজ শনিবার ৪:৪৫ মিনিটে নাচোল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাযা শেষে তাকে মোমিন পাড়া গোরস্থানে দাফন করা হয়। তার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানায়, ছোটকাল থেকেই সে গানকে ভালোবাসতো। জীবনের বিভিন্ন কর্ম ক্ষেত্রে সে গুনগুন করে গান গাইতো কখনো বা উচ্চস্বরে। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কণ্ঠশিল্পী মনির খানের গানকে ভালোবাসে মনের মধ্যে লালন করতো ও গাইতো।
পরবর্তী সে মনির খান ফরমান ক্লাব ২৪এর সাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়। এছাড়াও মনির খানের জন্মদিন অনুষ্ঠানে মনির খানের সাথে দেখা সাক্ষাৎ করেন । জাহিরুল ছোটকাল থেকে খুব কষ্টে মানুষ হন। বড় হয়েও সে কষ্ট তার পেছন ছাড়েনি। জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন সময়ে রাজমিস্ত্রী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে, অটো চালিয়ে পরিবারের ব্যয়বার বহন করতো। ২০১৯ সালের মার্চ মাসের দিকে করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় তার ইনকাম বন্ধ হয়ে যায়। ওই সময় সে তার অটো বিক্রি করে দিয়ে তার চিকিৎসার খরচ চালায়। একটা পর্যায়ে অটো বিক্রির টাকা শেষ হয়ে গেলে জীবিকার তাগিদে বাসের ড্রাইভার এর সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেখানেও বিপত্তি। করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার কারণে বাস বন্ধ হয়ে যায়। অবশেষে তিনি কাঁচা শাকসবজি বিক্রি শুরু করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে । ছেলে গত বছর এসএসসি পাশ করেছে এবং তার একমাত্র মেয়ে এবার নবম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছে। তার সম্বল বলতে বসতভিটা এছাড়া অন্য কোন সম্পদ ও সম্পত্তি নেই। সে পেশাদার শিল্পী ছিলো না। শখের বশে মনির খানের গানগুলোকে ভালোবেসে মনে লালন করতেন ও বিভিন্ন স্টেজে গান পরিবেশন করতেন পারিশ্রমিক ছাড়া। এছাড়া সে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একমাত্র কমিউনিটি রেডিও , রেডিও মহানন্দার ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান” ক্যাফে মহানন্দা “অনুষ্ঠানে ২বার গান পরিবেশন করেছে। তার সংগীত শুরু নাচোলের গীতাঞ্জলি সাংস্কৃতিক একাডেমির মাধ্যমে। আমার জানামতে সে খুব সহজ-সরল মনের মানুষ ছিলো ।খুব সহজেই মানুষকে আপন করে নিতে পারতো। নাচোল, গোমস্তাপুর, ভোলাহাট ,চাঁপাইনবাবগঞ্জ , শিবগঞ্জ এমন কোন এলাকার নাই যা শিল্পীদের সাথে তার সখ্যতা ছিল না । কারণে-অকারণে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতো এবং শিল্পীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও সুযোগ পেলে একটি সেলফি তুলে নিতো। তাৎক্ষণিক সেই ছবিটি তার ফেসবুক আইডিতে ছেড়ে দিতো। গত ১৭/০১/২০২২ তারিখ আমাকে বলছিলো ভাই কেমন আছেন? চলেন ক্লাবে বসি? আমি বললাম,তুমি যাও, এনামুল স্যার ক্লাবে আছে। ঐদিন এনামুল স্যার ক্লাবের বসেননি। তাই আমার আর যাওয়া হয়নি। আমার সাথে তার ঐদিনই শেষ কথা ও শেষ দেখা । আর আজ তাকে চির বিদায় দিয়ে আসলাম কোন কথা না বলে। যেখানে থেকো, ভালো থেকো। মহান রাব্বুল আলামিন তোমাকে জান্নাত দান করুন। আমিন।।