নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ :
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার ১৫ নং ওয়ার্ডে ছুরিকাঘাতে যুবলীগ কর্মী নয়ন আলী নিহতের ঘটনায় মামলা করেছেন তার বাবা মো. লিয়াকত আলী। আটজনের নাম উল্লেখ করে ও ৭/৮ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে সোমবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় এই হত্যা মামলা করেন তিনি।
মামলার আট আসামি হলেন, মো. আলিম, মো. আজিম, মো. মেরাজ, মো. রাব্বী, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. ফয়সাল, মো. গাফ্ফার ও মো. শিমুল। এ মামলায় এজাহার নামীয় প্রধান আসামি আলিমসহ হত্যাকান্ডে জড়িত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার আরামবাগ লয়াপাড়ার সাইফুল ইসলামের ছেলে আলিম (২৩) ও আজিম (২২), নিমতলা ফকিরপড়ার মৃত শহিদের ছেলে রাব্বী (২৪), আরামবাগ লয়াপাড়ার মৃত লালু চোরের ছেলে সাইফুল ইসলাম, নিমতলা ফকিরপাড়ার শহিদুল ইসলামের ছেলে শাহরিয়ার আহম্মেদ সানু ও ফকিরপাড়া কলেজ রোডের মৃত আমজাদ হোসেন সোনার ছেলে মো. আলম (৪৫)। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মোজাফফর হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ছুরিকাঘাতে নয়ন আলী নিহতের ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় ৮ জনকে এজহারনামীয় এবং আরও ৭ থেকে ৮ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এই ঘটনায় এজাহার নামীয় ৪ জনসহ ৬ আসমিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ওসি বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৯ সালে এ মামলার প্রধান আসামি আলিমকে ছুরিকাঘাত করে আহত করে নয়ন। সেই প্রতিশোধ নিতেই আলিম তার লোকজন নিয়ে নয়নের উপর হামলা চালায়। এ সময় ছুরিকাঘাতে নয়নের মৃত্যু হয়।
ওসি আরও বলেন, আসামিদের দেখানো মতে হত্যাকান্ডের ব্যবহৃত একটি চাকু জব্দ করা হয়েছে। পরবর্তীতে রাব্বী আলিম ও আজিমদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে ফকিরপাড়া পানির ট্যাংকির পাশে লেবু বাগানের ভেতর একটি সুড়ঙ্গ থেকে দুটি চাইনজ কুড়াল, চারটি কাতা, তিনটি হাঁসুয়া, দুটি তালোয়ার ও একটি খাড়া উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাব্বী, আলিম ও আজিমের নামে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনে আরও একটি পৃথক মামলা হয়েছে।
জানা গেছে, হত্যাকান্ড সংঘটিত হওয়ার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার এএইচএম আবদুর রকিবের নির্দেশনায় হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে জেলা পুলিশ।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই অনুপ কুমার সরকারের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে এজাহার নামীয় ৪ নং আসামি রাব্বী ও মো. আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত আসামি রাব্বী ও আলমের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজশাহী জেলা পুঠিয়া উপজেলা থেকে ১নং আসামি আলিম ২ নং আসামি আজিম ও ৫নং আসামি সাইফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের দেয়া তথ্যে হত্যাকান্ডে জড়িত আসামি শাহরিয়ার আহম্মেদ সানুকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় ৬নং আসামি করা হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. ফয়সালকে। তার বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা ও হুকুমের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ মামলায় ১৫ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মেরাজকে এজাহারে ৩ নং আসামি করা হয়েছে। মেরাজের বিরুদ্ধে হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে ঈদের দিন (১০ জুলাই) রোববার সন্ধ্যায় ছুরিকাঘাতে যুবলীগ কর্মী নয়ন নিহত হন। পৌরসভার আরামবাগ এলাকায় ফারুকের হোটেলের সামনে রোববার ঈদুল আজহার দিন সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। ২৫ বছর বয়সী নিহত নয়ন আলীর বাড়ি পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ১ নম্বর কলোনিপাড়ায়।
স্থানীয়রা জানান, রোববার সন্ধ্যার দিকে কয়েকজন নয়নের ওপর হামলা চালায়। তারা তাকে ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়। নয়নকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রাত ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। পর দিন সন্ধ্যায় নয়নের হত্যাকারিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করে এলাকাবাসি। মানববন্ধনে ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাসিদুল হক নিখিলসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেয়।
হত্যামামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই আশিষ কুমার সরকার বলেন, হত্যামলার এজাহার নামীয় চারজনসহ মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বুধবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডের কথা শিকার করায় রিমান্ডের আবেদন করা হয়নি।