নিউজ ডেস্কঃ
শরতের নির্মল নীল আকাশ, প্রকৃতির সবুজের সমরোহে সাদা কাশফুল, শিউলির মনভোলানো সুগন্ধ, ঢাকের বাদ্য আর প্রতিমা তৈরিতে কারিগর ব্যস্ততা জানান দিচ্ছে দেবী দুর্গার আগামী বার্তা।
আগামী পহেলা অক্টোবর মহাষষ্ঠির মধ্যে দিয়ে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব সারদীয় দূর্গাপূজা। প্রতিমার কাজ প্রায় শেষ। ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মৃৎশিল্পীরা। এ উৎসবকে ঘিরে দেবীদূর্গাকে বরণ নিতে পাশাপাশি চলছে মন্ডপ সাজানোর কাজ।
এখন শারদীয় মেতে উঠার অপেক্ষায় হিন্দু সম্প্রদায়েরা। সনাতন ধর্মাবলম্বী শাস্ত্রমতে এবার দেবী দূর্গা গজে আরোহন করে মরতে আগমন করবেন এবং নৌকায় চড়ে কৈলাশে ফিরে যাবেন। আর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিমা শিল্পীরা কল্পনায় দেবী দূর্গার অনিন্দ্যসুন্দর রুপ দিতে রাতভর চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। নিখুঁত হাতের কারুকার্য দিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তৈরি করছেন প্রতিমা। পূজার দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই যেন ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন নাচোলের প্রতিমা তৈরি শিল্পীরা। তুলির আঁচরে মূর্ত হয়ে উঠছে দূবীর রুপ। এখন দম ফেলার সময় নেই মৃৎশিল্পদের।
গতকাল সোমবার উপজেলার বিভিন্ন মন্ডপে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে প্রতিমা তৈরির কারিগরা বাঁশ, কাঠ, সূতা, খড় কাদামাটি সহ বিভিন্ন রকম রং দিয়ে তাদের নিখুঁত হাতের কারুকার্যে তৈরি করছে প্রতিমা।
প্রতিমা তৈরির কারিগর শ্রী মন্ডা পাহান বলেন দ্বিমাটির ফিনিশিংয়ের কাজ শেষ করে এখন চলছে রংয়ের কাজ। এদিকে আগামী ১অক্টোবর থেকে শুরু হবে শারদীয় দুর্গাপূজা। তাই সময় ঘনিয়ে আসায় কাজের চাপ অনেকটাই বেড়ে গেছে, তার কারণে সারাদিন কাজ করার পরে রাতেও কাজ করতে হচ্ছে। প্রতিমা তৈরির প্রকার ভেদে ১০ থেকে ২০হাজার টাকা মজুরি পাওয়া যায়। তবে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় প্রতিমা তৈরিতেও খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে তেমন একটা লাভ হবেনা বলে অসন্তোষ্ঠ প্রকাশ করেছেন শিল্পীরা।
নাচোলের পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শ্রী সুধেন চন্দ্র বর্মন বলেন আগামী পহেলা অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার উৎসব শুরু হয়ে ৫-অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে। এবছর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১১টি ও পৌরসভায় ১টি মোট ১২টি মন্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপন হবে। এ বিষয়ে নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ মিন্টু রহমান বলেন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
এবছর মোট ১২টি মন্ডপে পূজা উদযাপন হবে, তার মধ্যে ৫টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে শান্তিপূর্ণ ভাবে পূজা উদযাপন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
