• শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
‎সুন্দরবনে অবমুক্ত বাঘিনীর রহস্যময় অন্তর্ধান: ৪০টি ক্যামেরায় মিলছে না অস্তিত্ব ‎ ‎ নাচোলে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ এর উদ্বোধন নাচোলে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত নাচোল উপজেলা আ,লীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আটক ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ পেলেন ইউপি সদস্য নাচোলে মাদক, বাল্যবিয়ে ও ইভটিজিং বিষয়ক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত মোবাইল অ্যাপসে মুরগির খামার নিয়ন্ত্রণ নাচোলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পকেট কমিটি গঠনের অভিযোগ প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে নাচোলে নতুন কুড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এর দেশ সেরা শামিমকে সংবর্ধনা নাচোলে ডাসকো’র উদ্যোগে ৩২তম আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত

সাতক্ষীরায় কোম্পানির প্রতিনিধির ভুল পরামর্শে ৮০লক্ষ টাকার ক্ষতির মুখে তরমুজচাষী

Reporter Name / ১৭১ Time View
Update : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬

শেখ জোবায়ের আল জামান, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধিঃ বায়ার ক্রপসায়েন্স লিমিটেড নামের একটি কোম্পানির প্রতিনিধির ভুল পরামর্শে বালাইনাশক ব্যবহার করে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার এক তরমুজ চাষী। এতে তাঁর প্রায় ৮০ লাখ টাকার সমপরিমাণ ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষী পবিত্র কুমার মন্ডল আজ বৃহস্পতিবার ক্ষতিপূরণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
পবিত্র কুমার মন্ডল আশাশুনির বড়দল ইউনিয়নের নড়রাবাদ গ্রামের লক্ষণ চন্দ্র মন্ডলের ছেলে। পবিত্র স্থানীয় বিভিন্ন এনজিও ও মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চলতি মৌসুমে চাম্পাখালী মৌজায় ৮০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলেন।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত মার্চ মাসের শুরুর দিকে তরমুজ গাছে ফল আসা শুরু হলে বিশ্বরূপ চন্দ্র ঘোষ নামে এক ব্যক্তি নিজেকে বায়ার কোম্পানির ‘কৃষি পরামর্শদাতা’ পরিচয় দিয়ে পবিত্রর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি নিজেকে বায়ারের যশোর আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মকর্তা দাবি করে পবিত্রকে আশ্বস্ত করেন যে, তাঁর দেওয়া ১২ দিনের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ দিলে ফলন কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।
অভিযোগকারীর দাবি বিশ্বরূপের দেওয়া তিনটি ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী গত ৭ই এপ্রিল ক্ষেতে বালাইনাশক প্রয়োগ করেন পবিত্র। এর ৬-৭ দিন পর গাছগুলোর অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে। বিষয়টি বিশ্বরূপকে জানানো হলে তিনি অন্য কোনো কোম্পানির ওষুধ ব্যবহার করতে নিষেধ করেন এবং আগের ওষুধই চালিয়ে যেতে বলেন। পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োগ চালিয়ে যাওয়ার ফলে অধিকাংশ তরমুজ গাছ মরে শুকিয়ে যায়। এতে তাঁর প্রায় ৩০ লাখ টাকার বিনিয়োগ এবং সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্যসহ প্রায় ৮০ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি।
অসহায় পবিত্র কুমার মন্ডল বলেন, “আমি সরকারি কৃষি অফিসের পরামর্শ না নিয়ে ওই ব্যক্তির কথায় বিশ্বাস করে আজ পথে বসেছি। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে এখন আমার আত্মহত্যা করা ছাড়া কোনো পথ নেই। কোম্পানি এখন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে টালবাহানা করছে।”

এ বিষয়ে আশাশুনি উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ছাড়া কোনো বেসরকারি কোম্পানির কথায় অনিবন্ধিত বা মাত্রাতিরিক্ত বালাইনাশক ব্যবহার করা চাষিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু এ প্রসঙ্গে বলেন, “একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

অভিযুক্ত বিশ্বরূপ চন্দ্র ঘোষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় চাষীদের দাবি, নামিদামি কোম্পানির পরিচয় দিয়ে অনেক সময় অসাধু প্রতিনিধিরা গ্রামে এসে ভুল পরামর্শ ও নিম্মমানের ওষুধ গছিয়ে দেয়, যার খেসারত শেষ পর্যন্ত কৃষককেই ভোগ করতে হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
amazing-link-zeus.ca