• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
নরসিংদীতে রাস্তায় পড়ে থাকা এসএসসি পরীক্ষার ২৬৮ খাতা উদ্ধার রামুতে বন্য হাতির আক্রমণে মা মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু বাহুবলে বন্যাদুর্গত হাওরাঞ্চল পরিদর্শন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার আশ্বাস মহানন্দা সেতুতে টোল আদায় বন্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মানববন্ধন নাচোলে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের সমাপনি ও পুরস্কার বিতরণ বেলগাছি রেলওয়ে স্টেশন অবহেলায় জর্জরিত, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা টাঙ্গাইলে পরিমাপে জ্বালানি তেল কম: ৫০ হাজার টাকা জরিমানা চিতলমারীতে হতদরিদ্র রিনা বেগম পেলেন নতুন গৃহ বেনাপোলে পণ্য পরিবহন বন্ধ রেখে বন্দর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাজস্ব আদায় ও ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকের কঠোর নির্দেশনা

রামুতে বন্য হাতির আক্রমণে মা মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু

Reporter Name / ১২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় বন্য হাতির আক্রমণে এক মা ও তার শিশুকন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকার সৈয়দ কলোনীতে এ ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতরা হলেন, আছমা বিবি (২৫) ও তার তিন বছর বয়সী মেয়ে ছেমন আরা। তারা মো. একরাম মিয়ার স্ত্রী ও সন্তান।

স্থানীয় বাসিন্দা বেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, ভোরের দিকে হঠাৎ করে তিনটি বন্য হাতির একটি পাল লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। হাতিরা সৈয়দ কলোনীর কয়েকটি বসতঘরের সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর করে এবং আশপাশের গাছপালা উপড়ে ফেলতে শুরু করে। এতে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।

তার ভাষ্য, শব্দ শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন একরাম মিয়া ও তার স্ত্রী আছমা বিবি। তাদের সঙ্গে ছিল দুই শিশু সন্তান। এ সময় দুটি হাতি তাদের দিকে তেড়ে এলে একরাম মিয়া ছয় বছর বয়সী ছেলে রেহান উদ্দিনকে নিয়ে দ্রুত বাড়ির পেছনে গিয়ে আত্মরক্ষা করতে সক্ষম হন। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আছমা বিবি ও তার ছোট কন্যা ছেমন আরা হাতির আক্রমণের মুখে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জয়নাল আবেদিন বাবুল জানান, হাতির পালটি ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। সামনে পড়ায় মা-মেয়ের পালানোর কোনো সুযোগ ছিল না। হাতিরা ঘরবাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি আশপাশের গাছের আম ও কাঁঠাল খেয়ে পরে পাশের পাহাড়ে চলে যায়।

তিনি নিশ্চিত করেন, আক্রান্ত পরিবারটি রোহিঙ্গা নাগরিক। তারা বনবিভাগের জমিতে ঘর তুলে কয়েক বছর ধরে সেখানে বসবাস করে আসছিলেন।

এদিকে বেলাল উদ্দিন উদ্বেগ জানান, সাম্প্রতিক সময়ে খাবারের সন্ধানে বন্য হাতির পালটি খুনিয়াপালং ও দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। ফলে পুরো অঞ্চলে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এতে জনজীবন হয়ে উঠেছে অনিরাপদ।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের ধোয়াপালং রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তোসাদ্দেক হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনাটির পর হাতির পালটিকে তাড়িয়ে গভীর বনে প্রবেশ করানো হয়েছে। একই সঙ্গে বন্য হাতির চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মাজেদের দাবি, বনাঞ্চল উজাড় এবং মানুষের বসতি বিস্তারের কারণে বন্য প্রাণী ও মানুষের সংঘাত দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তার।

রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফরিদ জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে উপ-পরিদর্শক শেখ আব্দুস সবুর মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করেছেন। পরে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এটি অপমৃত্যুর ঘটনা হিসেবে মামলা রুজু করা হবে বলে।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বানী চৌধুরী জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category