• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
সার ডিলার নিয়োগে তোলপাড়, তালিকায় এমপির ভাতিজা ও বিএনপি নেতার স্ত্রী অনুমোদন ছাড়া অটোরিকশা চালালে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? গেজেটে যা বলা হয়েছে ১৫ নভেম্বর নয়, মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটের সময় বাড়ছে আরও দেড় মাস? সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের মৃত্যুর তদন্তে নতুন মোড় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের নিন্দা ও প্রতিবাদ সিলেট সীমান্তে ২০ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ করল বিজিবি পিংক বাসের জন্য নারী চালক তৈরিতে প্রশিক্ষণ দেবে বিআরটিসি, আবেদন যেভাবে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন তাহসিফের বন্ধু দীপ জানুয়ারি থেকে বাড়িভাড়া বাড়ানোর নোটিশ, ভাড়াটিয়াদের নতুন দুশ্চিন্তা শনিবার ৯ থেকে ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না কয়েকটি জেলায়

জন্ম নিবন্ধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা কিভাবে যাচাই করবেন?

Reporter Name / ২৩ Time View
Update : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধন নাগরিক জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি নথি। জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি, পাসপোর্টের আবেদন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণসহ নানা কাজে জন্ম নিবন্ধন সনদের প্রয়োজন হয়। এ কারণে নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করার পর সেটি কোন পর্যায়ে রয়েছে, আবেদনটি সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে পৌঁছেছে কি না, যাচাই চলছে নাকি অনুমোদন হয়েছে—এসব তথ্য জানা আবেদনকারীর জন্য জরুরি।

আগে জন্ম নিবন্ধনের আবেদনের অগ্রগতি জানতে অনেককেই ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে সরাসরি যেতে হতো। এতে সময় ও যাতায়াত খরচ দুটোই বাড়ত। বর্তমানে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যালয়ের অনলাইন সিস্টেম BDRIS-এর মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানার সুযোগ রয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় তথ্য হাতে থাকলে ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা যায়।

তবে জন্ম নিবন্ধনের আবেদন-স্ট্যাটাস যাচাই এবং আগে থেকে তৈরি হওয়া জন্ম নিবন্ধন সনদের তথ্য যাচাই এক বিষয় নয়। অনেকেই এই দুটি সেবাকে এক মনে করে ভুল ওয়েবসাইটে তথ্য খোঁজেন। তাই অনলাইনে আবেদন যাচাই করার আগে কোন সেবাটি ব্যবহার করতে হবে, সেটি জানা প্রয়োজন।

জন্ম নিবন্ধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা কোথায় যাচাই করবেন?

জন্ম নিবন্ধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানতে বাংলাদেশ সরকারের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন তথ্যব্যবস্থা BDRIS-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে হবে। ওয়েবসাইটটির ঠিকানা:

BDRIS অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: https://bdris.gov.bd/

ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে জন্ম নিবন্ধন ও মৃত্যু নিবন্ধন-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা দেখা যায়। জন্ম নিবন্ধন অংশে “জন্ম নিবন্ধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা” নামে একটি অপশন রয়েছে। আবেদনকারীর কাজ হলো এই অপশন নির্বাচন করে সিস্টেমে চাওয়া তথ্য প্রদান করা।

এখানে মনে রাখতে হবে, জন্ম নিবন্ধনের নতুন আবেদন, তথ্য সংশোধনের আবেদন এবং সনদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য আলাদা সেবা থাকতে পারে। তাই নিজের আবেদনের ধরন অনুযায়ী সঠিক অপশন নির্বাচন করতে হবে। শুধু জন্ম নিবন্ধন যাচাইয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে নতুন আবেদনের অগ্রগতি খুঁজলে কাঙ্ক্ষিত তথ্য নাও পাওয়া যেতে পারে।

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদনের স্ট্যাটাস দেখার নিয়ম

জন্ম নিবন্ধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানার জন্য প্রথমে আবেদন করার সময় পাওয়া রসিদ বা আবেদনপত্রের কপি কাছে রাখুন। সেখানে থাকা আবেদন-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে BDRIS-এর নির্ধারিত সেবায় অনুসন্ধান করতে হবে।

প্রথম ধাপ: BDRIS ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন

মোবাইল ফোন বা কম্পিউটারের ব্রাউজার থেকে https://bdris.gov.bd/ ঠিকানায় প্রবেশ করুন। এটি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন-সংক্রান্ত সরকারি অনলাইন সেবা ব্যবস্থার ওয়েবসাইট। ওয়েবসাইটে প্রবেশের পর জন্ম নিবন্ধন অংশের সেবাগুলো খুঁজে নিন।

দ্বিতীয় ধাপ: আবেদনের বর্তমান অবস্থা অপশন নির্বাচন করুন

জন্ম নিবন্ধন বিভাগের অধীনে “জন্ম নিবন্ধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা” অপশনটি নির্বাচন করুন। একই ওয়েবসাইটে জন্ম নিবন্ধন আবেদন, আবেদনপত্র প্রিন্ট, তথ্য সংশোধন এবং সনদ পুনর্মুদ্রণের মতো অন্যান্য সেবাও রয়েছে। তাই ভুল করে অন্য কোনো অপশনে প্রবেশ করবেন না।

তৃতীয় ধাপ: প্রয়োজনীয় আবেদন-সংক্রান্ত তথ্য দিন

নির্ধারিত ফর্মে যে তথ্য চাওয়া হবে, তা আবেদনপত্র বা জমা দেওয়ার রসিদের সঙ্গে মিলিয়ে লিখুন। আবেদন নম্বর বা আবেদনপত্রের পরিচিতি নম্বর থাকলে সেটি সঠিকভাবে দিতে হবে। জন্মতারিখ চাইলে ফর্মে নির্দেশিত বিন্যাস অনুসরণ করুন।

জন্মতারিখ লেখার ক্ষেত্রে একটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। সরকারি সেবার বিভিন্ন ফর্মে তারিখ লেখার বিন্যাস আলাদা হতে পারে। কোথাও দিন-মাস-বছর, আবার কোথাও বছর-মাস-দিন চাওয়া হতে পারে। তাই নিজের মতো করে তারিখ না লিখে ফর্মে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

চতুর্থ ধাপ: নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করুন

অনলাইন সিস্টেমে নিরাপত্তার জন্য ক্যাপচা বা অন্য কোনো যাচাইকরণ পদ্ধতি দেখানো হলে সেটি সম্পন্ন করুন। কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্য বা যাচাইকরণ চাওয়া হলে স্ক্রিনে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। সব আবেদনের ক্ষেত্রে একই ধরনের OTP বা মোবাইল নম্বর যাচাই প্রয়োজন হবে—এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

পঞ্চম ধাপ: অনুসন্ধান করে ফলাফল দেখুন

প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করার পর ফর্মে থাকা অনুসন্ধান বা সার্চ বাটনে ক্লিক করুন। তথ্য সঠিক হলে সিস্টেমে পাওয়া আবেদন-সংক্রান্ত ফলাফল দেখতে পারবেন। সেখানে আবেদনটির যে তথ্য বা অগ্রগতির অবস্থা দেখানো হবে, সেটি ভালোভাবে পড়ে নিন।

ফলাফল না এলে প্রথমেই আবেদনটি বাতিল হয়েছে বলে ধরে নেবেন না। আবেদন নম্বর, জন্মতারিখ এবং নির্বাচিত সেবাটি সঠিক কি না, তা আবার যাচাই করুন। এরপরও সমস্যা থাকলে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন।

আবেদন নম্বর কোথায় পাবেন?

জন্ম নিবন্ধনের আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদনকারী সাধারণত একটি আবেদনপত্র বা জমা দেওয়ার রসিদ পান। অনলাইনে আবেদন করে থাকলে আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর পাওয়া কপি বা প্রিন্ট করা আবেদনপত্রে প্রয়োজনীয় পরিচিতি নম্বর থাকতে পারে। সরাসরি স্থানীয় নিবন্ধন কার্যালয়ে আবেদন জমা দিলেও জমা দেওয়ার রসিদটি যত্ন করে রাখা উচিত।

আবেদন নম্বর খুঁজে না পেলে প্রথমে নিজের কাছে থাকা আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি, জমা দেওয়ার রসিদ বা আবেদন করার সময় সংরক্ষণ করা কাগজপত্র পরীক্ষা করুন। আবেদন করার সময় ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কোনো এসএমএস এসে থাকলে সেটিও দেখে নিতে পারেন।

কাগজপত্র হারিয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের নিবন্ধন কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন। আবেদনকারীর নাম, জন্মতারিখ, পিতা-মাতার নাম এবং আবেদন জমা দেওয়ার আনুমানিক সময় জানালে কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা আবেদন শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারেন। তবে পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত কাগজপত্র চাইতে পারে।

জন্ম নিবন্ধনের আবেদন কোন পর্যায়ে রয়েছে, কীভাবে বুঝবেন?

আবেদনের বর্তমান অবস্থা দেখার পর ফলাফলে যে তথ্য পাওয়া যায়, সেটি বুঝে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে। সব আবেদন একই সময়ে অনুমোদন হয় না। আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ের যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে।

কোনো আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকলে তার অর্থ হতে পারে, আবেদনটি এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই বা পরবর্তী কার্যক্রমের অপেক্ষায় রয়েছে। এ অবস্থায় অযথা নতুন করে আরেকটি আবেদন না করে আগের আবেদনের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে খোঁজ নেওয়া ভালো।

আবেদনে কোনো তথ্য বা কাগজপত্রের ঘাটতি থাকলে সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কোন তথ্য বা নথি প্রয়োজন, তা নিশ্চিত হয়ে নির্ধারিত নিয়মে জমা দিতে হবে।

আবেদন অনুমোদিত হলে পরবর্তী ধাপে সনদ প্রস্তুত বা সংগ্রহের বিষয়টি আসতে পারে। তবে অনলাইনে কোনো আবেদন অনুমোদিত দেখালেই যে সঙ্গে সঙ্গে হাতে সনদ পাওয়া যাবে, এমন নয়। সনদ সংগ্রহের সময় ও পদ্ধতি জানতে আবেদন করা নিবন্ধন কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

জন্ম নিবন্ধন আবেদন ও জন্ম নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের পার্থক্য

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন-সংক্রান্ত সেবা নিতে গিয়ে অনেকেই দুটি বিষয় গুলিয়ে ফেলেন। একটি হলো নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদনের অগ্রগতি দেখা, অন্যটি হলো নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর সনদের তথ্য যাচাই করা।

নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন জমা দেওয়ার পর সেটির অগ্রগতি জানতে BDRIS ওয়েবসাইটের “জন্ম নিবন্ধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা” সেবা ব্যবহার করতে হবে।

অন্যদিকে, জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন হয়ে ১৭ অঙ্কের জন্ম নিবন্ধন নম্বর পাওয়া গেলে সনদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য আলাদা সরকারি ওয়েবসাইট রয়েছে। এর ঠিকানা https://everify.bdris.gov.bd/। এখানে ১৭ অঙ্কের জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং জন্মতারিখ দিয়ে জন্ম নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করা যায়।

এই ওয়েবসাইটে সাধারণত ১৭ অঙ্কের জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং জন্মতারিখ দিতে হয়। জন্মতারিখের ক্ষেত্রে সেখানে দেখানো YYYY-MM-DD বিন্যাস অনুসরণ করতে হবে। অর্থাৎ আগে চার অঙ্কের বছর, এরপর মাস এবং শেষে দিন লিখতে হবে।

উদাহরণ হিসেবে জন্মতারিখ যদি ১৫ মার্চ ২০১০ হয়, তাহলে লিখতে হবে 2010-03-15। তবে এই পদ্ধতি সনদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য; নতুন আবেদন এখনো অনুমোদিত হয়েছে কি না, তা জানার বিকল্প নয়।

জন্ম নিবন্ধন আবেদন যাচাই করতে গিয়ে Record Not Found দেখালে কী করবেন?

অনলাইনে আবেদন যাচাই করার সময় অনেকের স্ক্রিনে “Record Not Found” বা এ ধরনের বার্তা দেখা যায়। এর অর্থ হতে পারে, দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সিস্টেমে কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তবে এই বার্তা দেখালেই আবেদন বাতিল বা জন্ম নিবন্ধন জাল—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।

প্রথমে আবেদন নম্বর বা জন্ম নিবন্ধন নম্বর সঠিকভাবে লেখা হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করুন। কোনো অঙ্ক বাদ পড়েছে কি না, ভুল হয়েছে কি না, সেটিও মিলিয়ে দেখুন। জন্মতারিখের বিন্যাস ভুল হলেও তথ্য খুঁজে পাওয়া নাও যেতে পারে।

এরপর নিশ্চিত করুন, আপনি আবেদনের বর্তমান অবস্থা দেখার সেবায় তথ্য দিচ্ছেন, নাকি জন্ম নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের ওয়েবসাইট ব্যবহার করছেন। নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে সনদ যাচাইয়ের ওয়েবসাইটে ১৭ অঙ্কের নিবন্ধন নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করলে প্রত্যাশিত ফলাফল পাওয়া নাও যেতে পারে।

সব তথ্য সঠিক থাকার পরও রেকর্ড পাওয়া না গেলে কিছু সময় পর আবার চেষ্টা করতে পারেন। আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের কার্যক্রম বা সিস্টেমে তথ্য হালনাগাদের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। এরপরও সমস্যা থাকলে আবেদন জমা দেওয়া নিবন্ধন কার্যালয়ে যোগাযোগ করে আবেদনটির অবস্থান নিশ্চিত করুন।

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদনের তথ্য না দেখালে করণীয়

কখনো কখনো সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে সমস্যা হতে পারে, পেজ লোড হতে সময় লাগতে পারে অথবা অনুসন্ধানের পর ফলাফল নাও আসতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কয়েকটি বিষয় অনুসরণ করতে পারেন।

প্রথমে ইন্টারনেট সংযোগ ঠিক আছে কি না, তা পরীক্ষা করুন। এরপর পেজটি নতুন করে লোড করুন। মোবাইল ফোনে সমস্যা হলে অন্য ব্রাউজার বা কম্পিউটার থেকে চেষ্টা করতে পারেন। ব্রাউজারের পুরোনো ক্যাশ বা সাময়িক সমস্যার কারণেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ওয়েবসাইট ব্যবহারে অসুবিধা হতে পারে।

সরকারি সার্ভারে রক্ষণাবেক্ষণ বা সাময়িক কারিগরি সমস্যা থাকলে কিছু সময় অপেক্ষা করে আবার চেষ্টা করা উচিত। বারবার চেষ্টা করেও কাজ না হলে সংশ্লিষ্ট অফিসের সহায়তা নিন।

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন-সংক্রান্ত সেবা পেতে সরকারি কলসেন্টার নম্বর ১৬১৫২-এ যোগাযোগ করা যায়। নাগরিকদের সেবা-সংক্রান্ত সমস্যার জন্য রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের প্রকাশিত ই-মেইল ঠিকানা help@bdris.gov.bd। BDRIS সফটওয়্যার-সংক্রান্ত সমস্যার বিষয়ে support@bdris.gov.bd ঠিকানায় যোগাযোগের নির্দেশনাও সরকারি ওয়েবসাইটে দেওয়া রয়েছে।

আবেদন অনুমোদন হতে দেরি হলে কী করবেন?

জন্ম নিবন্ধনের আবেদন জমা দেওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় পার হলেও অগ্রগতি না দেখালে প্রথমে আবেদনটি কোন নিবন্ধন কার্যালয়ে জমা হয়েছে, তা নিশ্চিত করুন। সাধারণত জন্মস্থান বা স্থায়ী ঠিকানার সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

আবেদন জমা দেওয়ার রসিদ বা প্রিন্ট করা কপি সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের নিবন্ধন কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন। আবেদন নম্বর, জমা দেওয়ার তারিখ এবং আবেদনকারীর পরিচিতি দিয়ে জানতে চান আবেদনটি কোন পর্যায়ে রয়েছে।

যদি কোনো কাগজপত্রের ঘাটতি থাকে, তাহলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে নির্দিষ্টভাবে জেনে নিন কোন নথি প্রয়োজন। শুধু আবেদন দেরি হচ্ছে বলে নতুন করে আরেকটি আবেদন জমা দেওয়া উচিত নয়। এতে একই ব্যক্তির একাধিক আবেদন বা তথ্যগত জটিলতা তৈরি হতে পারে।

আবেদন সংক্রান্ত কোনো সমস্যা থাকলে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের কাছ থেকে লিখিত বা স্পষ্ট নির্দেশনা নেওয়া ভালো। প্রয়োজনে সরকারি কলসেন্টার ১৬১৫২-এ যোগাযোগ করে পরামর্শ নিতে পারেন।

জন্ম নিবন্ধন আবেদন যাচাইয়ের সময় যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন

জন্ম নিবন্ধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা যাচাই করার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক তথ্য ব্যবহার করা। আবেদন নম্বরের একটি অঙ্ক ভুল হলেও অনুসন্ধানের ফলাফল পাওয়া নাও যেতে পারে। তাই রসিদ দেখে নম্বর লিখুন।

জন্মতারিখ লেখার সময় ফর্মের নির্দেশিত বিন্যাস অনুসরণ করুন। আবেদন-স্ট্যাটাস এবং সনদ যাচাইয়ের ফর্মে তারিখ লেখার পদ্ধতি এক নাও হতে পারে।

আরেকটি বিষয় হলো, অননুমোদিত ওয়েবসাইট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া অচেনা লিংকে জন্ম নিবন্ধনের ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। সরকারি সেবার জন্য BDRIS-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের প্রকাশিত লিংক ব্যবহার করুন।

আবেদন নম্বর, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর বা OTP অন্য কারও সঙ্গে অপ্রয়োজনে শেয়ার করবেন না। কেউ ফোন করে OTP বা ব্যক্তিগত তথ্য চাইলে আগে তার পরিচয় ও প্রয়োজনীয়তা যাচাই করুন। জন্ম নিবন্ধন-সংক্রান্ত কাজের জন্য অপ্রয়োজনীয় মধ্যস্থতাকারীর ওপর নির্ভর না করাই ভালো।

জন্ম নিবন্ধন আবেদন সম্পর্কে কিছু সাধারণ প্রশ্ন

প্রশ্ন: জন্ম নিবন্ধনের আবেদন জমা দেওয়ার পর কি অনলাইনে স্ট্যাটাস দেখা যায়?

উত্তর: হ্যাঁ। BDRIS-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে “জন্ম নিবন্ধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা” নামে আলাদা সেবা রয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন-সংক্রান্ত অগ্রগতি জানার চেষ্টা করা যায়।

প্রশ্ন: জন্ম নিবন্ধন আবেদন যাচাই করতে কি ১৭ অঙ্কের নম্বর প্রয়োজন?

উত্তর: ১৭ অঙ্কের জন্ম নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করা হয় বিদ্যমান জন্ম নিবন্ধনের তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে। নতুন আবেদনের অগ্রগতি জানতে আবেদন-স্ট্যাটাস সেবায় যে আবেদন-সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়, সেটি দিতে হবে।

প্রশ্ন: জন্ম নিবন্ধনের আবেদন নম্বর হারিয়ে গেলে কী করব?

উত্তর: আবেদন জমা দেওয়ার রসিদ, আবেদনপত্রের কপি বা সংরক্ষিত কাগজপত্র পরীক্ষা করুন। না পেলে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ে যোগাযোগ করে আবেদন শনাক্ত করার সহায়তা নিন।

প্রশ্ন: Record Not Found দেখালে কি আবেদন বাতিল হয়ে গেছে?

উত্তর: না। শুধু এই বার্তা দেখে আবেদন বাতিল হয়েছে বলা যায় না। ভুল নম্বর, জন্মতারিখের ভুল বিন্যাস, ভুল সেবা নির্বাচন অথবা সিস্টেমে তথ্য না পাওয়ার কারণে এমন বার্তা আসতে পারে।

প্রশ্ন: জন্ম নিবন্ধনের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে কি না, তা কোথায় জানব?

উত্তর: BDRIS-এর জন্ম নিবন্ধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা সেবা ব্যবহার করুন। ফলাফল পরিষ্কার না হলে আবেদন করা স্থানীয় নিবন্ধন কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন।

প্রশ্ন: জন্ম নিবন্ধন-সংক্রান্ত সমস্যায় কোথায় ফোন করব?

উত্তর: জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন-সংক্রান্ত সরকারি কলসেন্টার নম্বর ১৬১৫২। নাগরিক সেবা-সংক্রান্ত সমস্যায় help@bdris.gov.bd ঠিকানায় ই-মেইলও করা যায়।

শেষ কথা

জন্ম নিবন্ধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানা এখন আগের তুলনায় সহজ। BDRIS-এর অনলাইন সেবায় প্রবেশ করে নির্ধারিত তথ্য দিয়ে আবেদনটির অগ্রগতি যাচাই করা যায়। তবে আবেদন-স্ট্যাটাস দেখা এবং তৈরি হওয়া জন্ম নিবন্ধন সনদের তথ্য যাচাইয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে—এ বিষয়টি মনে রাখা জরুরি।

অনলাইনে তথ্য না পাওয়া গেলে বা আবেদন অনুমোদনে দেরি হলে অযথা নতুন আবেদন না করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের নিবন্ধন কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন। প্রয়োজনে সরকারি কলসেন্টার ১৬১৫২ নম্বরে সহায়তা নিন। সঠিক তথ্য ও সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করলে জন্ম নিবন্ধন-সংক্রান্ত অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
amazing-link-zeus.ca