• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
সার ডিলার নিয়োগে তোলপাড়, তালিকায় এমপির ভাতিজা ও বিএনপি নেতার স্ত্রী অনুমোদন ছাড়া অটোরিকশা চালালে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? গেজেটে যা বলা হয়েছে ১৫ নভেম্বর নয়, মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটের সময় বাড়ছে আরও দেড় মাস? সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের মৃত্যুর তদন্তে নতুন মোড় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের নিন্দা ও প্রতিবাদ সিলেট সীমান্তে ২০ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ করল বিজিবি পিংক বাসের জন্য নারী চালক তৈরিতে প্রশিক্ষণ দেবে বিআরটিসি, আবেদন যেভাবে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন তাহসিফের বন্ধু দীপ জানুয়ারি থেকে বাড়িভাড়া বাড়ানোর নোটিশ, ভাড়াটিয়াদের নতুন দুশ্চিন্তা শনিবার ৯ থেকে ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না কয়েকটি জেলায়

লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে জরিমানা কত টাকা?

Reporter Name / ৫১ Time View
Update : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

বাংলাদেশে মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, বাস, ট্রাক কিংবা অন্য কোনো মোটরযান চালানোর ক্ষেত্রে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। শুধু গাড়ি চালানো জানলেই সড়কে মোটরযান চালানোর আইনগত অধিকার পাওয়া যায় না। চালককে সংশ্লিষ্ট শ্রেণির বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে হয় এবং গাড়ি চালানোর সময় আইন মেনে চলতে হয়। লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে চালককে জরিমানা, কারাদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

অনেক চালক মনে করেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে নির্দিষ্ট ৫ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হয়। আবার কেউ কেউ মনে করেন, লাইসেন্সের আবেদন করা থাকলে বা লাইসেন্সের ফটোকপি সঙ্গে থাকলেই গাড়ি চালানো যায়। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়। বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরযান চালানো একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এ অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা অনধিক ছয় মাসের কারাদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

তাই যারা মোটরসাইকেল বা গাড়ি চালান, যারা নতুন করে ড্রাইভিং শিখছেন কিংবা লাইসেন্স করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য এই আইন সম্পর্কে জানা জরুরি। এই প্রতিবেদনে ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে কত টাকা জরিমানা হতে পারে, কোন ধারায় শাস্তির বিধান রয়েছে, মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সের ক্ষেত্রে কী হবে, অন্যের লাইসেন্স ব্যবহার করলে কী শাস্তি এবং লাইসেন্স করার আগে কী কী বিষয় জানা প্রয়োজন—এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে জরিমানা কত?

বাংলাদেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরযান চালানোর শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৬৬ ধারায়। এ ধারায় বলা হয়েছে, আইনের ৪ ও ৫ ধারার বিধান লঙ্ঘন করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনধিক ছয় মাসের কারাদণ্ড, অনধিক ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

অর্থাৎ, বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেল বা অন্য কোনো মোটরযান চালালে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। একই সঙ্গে আদালতের মাধ্যমে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে। তবে আইনে সর্বোচ্চ শাস্তির সীমা উল্লেখ করা হয়েছে; প্রতিটি ঘটনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সর্বোচ্চ জরিমানা বা কারাদণ্ড হবে—এমন নয়। অপরাধের ধরন, প্রমাণ ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী শাস্তি নির্ধারিত হয়।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি। প্রচলিতভাবে অনেক জায়গায় ৫ হাজার টাকা জরিমানার কথা বলা হলেও সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৬৬ ধারায় লাইসেন্স ছাড়া মোটরযান চালানোর জন্য সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

কোন আইনের কোন ধারায় ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক?

সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৪ ধারায় ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরযান চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ড্রাইভিং লাইসেন্স বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স ব্যবহার করে জনসাধারণের চলাচলের স্থানে মোটরযান চালাতে পারবেন না। একইভাবে অন্য কাউকে এমনভাবে মোটরযান চালানোর অনুমতি দেওয়াও নিষিদ্ধ।

আইন অনুযায়ী একজন চালক যে শ্রেণি বা ক্যাটাগরির মোটরযান চালানোর লাইসেন্স পেয়েছেন, তিনি সাধারণভাবে সেই শ্রেণির মোটরযানই চালাতে পারবেন। যেমন, কোনো ব্যক্তির কাছে মোটরসাইকেল চালানোর অনুমোদন থাকলেই তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব ধরনের গাড়ি চালানোর অধিকার পাবেন না। লাইসেন্সে অনুমোদিত শ্রেণি ও ক্যাটাগরি অনুযায়ী গাড়ি চালাতে হবে।

আইনে একটি বিশেষ বিধানও রয়েছে। ভারী মোটরযান চালানোর বৈধ লাইসেন্সধারী ব্যক্তি হালকা ও মধ্যম শ্রেণির মোটরযানও চালাতে পারেন। তবে অন্য শ্রেণির লাইসেন্স থাকলেই ভারী মোটরযান চালানো যাবে, এমন নয়।

কোন কোন অবস্থায় লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোর অপরাধ হতে পারে?

শুধু কখনোই লাইসেন্স না করা ব্যক্তির ক্ষেত্রেই আইনটি প্রযোজ্য নয়। আরও কয়েকটি পরিস্থিতিতে চালক আইনের লঙ্ঘন করতে পারেন।

প্রথমত, কোনো ব্যক্তি ড্রাইভিং লাইসেন্স না নিয়েই মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার বা অন্য কোনো মোটরযান চালালে তা অপরাধ। দ্বিতীয়ত, লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর নবায়ন না করে গাড়ি চালালেও আইনের ৪ ধারার নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘিত হয়।

তৃতীয়ত, একজন চালকের লাইসেন্সে যে শ্রেণির গাড়ি চালানোর অনুমতি রয়েছে, তার বাইরে অন্য শ্রেণির গাড়ি চালানোও আইনসম্মত নয়। উদাহরণস্বরূপ, শুধু হালকা মোটরযানের লাইসেন্স নিয়ে ভারী ট্রাক চালানো যাবে না।

চতুর্থত, লাইসেন্স স্থগিত, প্রত্যাহার বা বাতিল হওয়ার পরও গাড়ি চালানো যাবে না। এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য আইনে আলাদা শাস্তির বিধান রয়েছে। তাই লাইসেন্স হাতে থাকলেই সেটি সব সময় কার্যকর আছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়; মেয়াদ ও বৈধতা নিশ্চিত করতে হবে।

লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলে জরিমানা কত?

ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সেটি নবায়ন না করে গাড়ি চালানো আইনসম্মত নয়। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৪ ধারায় মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স ব্যবহার করে মোটরযান চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ কারণে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও গাড়ি চালালে ৬৬ ধারার আওতায় অনধিক ছয় মাসের কারাদণ্ড, অনধিক ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

অনেকে মনে করেন, লাইসেন্স একবার করা থাকলে মেয়াদ শেষ হলেও সেটি দিয়ে গাড়ি চালানো যাবে। এই ধারণা সঠিক নয়। লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত। নবায়নের আবেদন করা হয়েছে—এমন তথ্য থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া বৈধ অনুমোদন বা কার্যকর নথি ছাড়া গাড়ি চালানো নিরাপদ সিদ্ধান্ত নয়।

লাইসেন্স নবায়ন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি সম্পর্কে জানতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন: https://brta.gov.bd/।

অন্যের ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি চালানো যাবে কি?

না। ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যক্তির নামে ইস্যু করা হয় এবং এটি হস্তান্তরযোগ্য নয়। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৬ ধারায় লাইসেন্স হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অর্থাৎ, পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা পরিচিত কারও বৈধ লাইসেন্স থাকলেও সেটি ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তি গাড়ি চালাতে পারবেন না।

আইনের ৬৭ ধারায় ৬ ধারার উপধারা (৫)-এর বিধান লঙ্ঘনের শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ অপরাধে অনধিক এক মাসের কারাদণ্ড, অনধিক ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

তাই অন্যের লাইসেন্স ধার নিয়ে গাড়ি চালানো কিংবা নিজের লাইসেন্স অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রত্যেক চালকের নিজস্ব বৈধ লাইসেন্স থাকা প্রয়োজন।

ভুয়া বা জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করলে শাস্তি কত?

ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকার চেয়েও গুরুতর অপরাধ হলো ভুয়া বা জাল লাইসেন্স তৈরি করা, ব্যবহার করা কিংবা এ ধরনের কাজে সহায়তা করা। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ১০ ধারায় বিআরটিএ ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রস্তুত, প্রদান বা নবায়ন করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই ধারায় লাইসেন্স বিকৃত বা পরিবর্তন করা এবং নকল, ভুয়া বা জাল লাইসেন্স ব্যবহার করাও নিষিদ্ধ।

এই ধারার বিধান লঙ্ঘনের শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৯ ধারায়। এতে অনধিক দুই বছর, তবে অন্যূন ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা অনধিক পাঁচ লাখ টাকা, তবে অন্যূন এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

তাই কোনো দালাল বা অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে লাইসেন্স সংগ্রহ করা উচিত নয়। লাইসেন্স তৈরি, নবায়ন বা সংশোধনের জন্য সরাসরি বিআরটিএর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

শিক্ষানবিশ বা লার্নার লাইসেন্স থাকলে কি গাড়ি চালানো যাবে?

ড্রাইভিং শেখার জন্য বিআরটিএ থেকে শিক্ষানবিশ বা লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৪ ধারায় প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, আইন অনুযায়ী যথাযথ শিক্ষানবিশ লাইসেন্স ছাড়া শুধু গাড়ি চালানো শেখার অজুহাতে জনসাধারণের চলাচলের স্থানে মোটরযান চালানো যাবে না।

তবে লার্নার লাইসেন্স থাকলেই পূর্ণাঙ্গ ড্রাইভিং লাইসেন্সধারীর মতো যেকোনো পরিস্থিতিতে গাড়ি চালানোর অনুমতি পাওয়া যায় না। শিক্ষানবিশ লাইসেন্সের শর্ত, অনুমোদিত যানবাহনের শ্রেণি এবং বিআরটিএর নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। প্রশিক্ষণের সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করাও জরুরি।

লার্নার লাইসেন্সের আবেদন ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে বিআরটিএর অফিসিয়াল সেবা পোর্টাল https://bsp.brta.gov.bd/ ব্যবহার করা যেতে পারে।

ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফটোকপি বা মোবাইলের ছবি দেখালেই হবে কি?

ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফটোকপি, মোবাইলে তোলা ছবি কিংবা অন্য কোনো অনানুষ্ঠানিক কপি দেখানোকে বৈধ লাইসেন্সের বিকল্প ধরে নেওয়া উচিত নয়। চালকের লাইসেন্সের বৈধতা ও পরিচয় যাচাইয়ের জন্য কর্তৃপক্ষ যে নথি বা ডিজিটাল পদ্ধতি গ্রহণ করে, সেটিই অনুসরণ করতে হবে।

যদি স্মার্টকার্ড লাইসেন্স এখনো হাতে না আসে, তাহলে বিআরটিএর অনুমোদিত কোনো অস্থায়ী নথি, রসিদ বা ডিজিটাল প্রমাণ ব্যবহার করা যাবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ অফিস থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। শুধু আবেদন জমার রসিদ থাকলেই সেটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের সমান—এমন ধারণা করা ঠিক নয়।

সড়কে বের হওয়ার আগে নিজের লাইসেন্সের বর্তমান অবস্থা, মেয়াদ এবং অনুমোদিত যানবাহনের শ্রেণি যাচাই করে নেওয়া উচিত।

গাড়ি চালানোর সময় কোন কোন কাগজপত্র সঙ্গে রাখা প্রয়োজন?

ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াও মোটরযানের ধরন ও ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রয়োজন হতে পারে। সাধারণভাবে চালকের উচিত নিজের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং গাড়ির নিবন্ধন-সংক্রান্ত নথি সম্পর্কে নিশ্চিত থাকা।

মোটরযানের নিবন্ধন সনদ, হালনাগাদ ট্যাক্স টোকেন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ফিটনেস সনদ ও রুট পারমিটের মতো নথি গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্যিক বা গণপরিবহনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অনুমোদন ও কাগজপত্রের প্রয়োজন হতে পারে।

কোন যানবাহনের জন্য কোন নথি বাধ্যতামূলক, তা গাড়ির শ্রেণি, ব্যবহার এবং প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই সব ধরনের গাড়ির জন্য একই তালিকা প্রযোজ্য ধরে নেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের হালনাগাদ তথ্য বিআরটিএর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে জেনে নেওয়া ভালো।

ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্য কী কী যোগ্যতা প্রয়োজন?

বাংলাদেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এবং বিআরটিএর নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হয়। আইনের ৪ ধারায় অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ন্যূনতম বয়স ২১ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা, শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা এবং মোটরযান চালনার দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার শর্ত রয়েছে। সাধারণভাবে লাইসেন্স পাওয়ার আগে শিক্ষানবিশ লাইসেন্সের জন্য আবেদন, প্রশিক্ষণ এবং নির্ধারিত পরীক্ষার ধাপ অনুসরণ করতে হয়।

লাইসেন্সের ধরন অনুযায়ী কাগজপত্র ও অন্যান্য শর্ত আলাদা হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে বিআরটিএর সেবা পোর্টালে সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নেওয়া উচিত।

ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য কোথায় আবেদন করবেন?

বাংলাদেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের দায়িত্ব বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ)। আবেদনকারী বিআরটিএর নির্ধারিত অনলাইন সেবা পোর্টাল ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন।

অফিসিয়াল পোর্টাল: https://bsp.brta.gov.bd/

এখানে ড্রাইভিং লাইসেন্স-সংক্রান্ত সেবা, আবেদন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাওয়া যায়। আবেদন করার সময় সঠিক ব্যক্তিগত তথ্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং নির্ধারিত ফি জমা দিতে হবে। পরবর্তী সময়ে বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষা ও বায়োমেট্রিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়।

কোনো অননুমোদিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দ্রুত লাইসেন্স করে দেওয়ার প্রলোভনে পড়বেন না। এতে অর্থ হারানোর পাশাপাশি জাল নথি ব্যবহারের আইনি ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে শুধু চালক নয়, মালিকেরও ঝুঁকি রয়েছে

সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী লাইসেন্সবিহীন ব্যক্তিকে মোটরযান চালানোর অনুমতি দেওয়া বা চালক হিসেবে নিয়োগ করার বিষয়েও বিধিনিষেধ রয়েছে। আইনের ১৩ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে কিংবা লাইসেন্স স্থগিত, প্রত্যাহার বা বাতিল হলে তাকে মোটরযানের চালক হিসেবে নিয়োগ করা বা গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়া যাবে না।

অর্থাৎ, গাড়ির মালিক বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকেও চালকের বৈধ লাইসেন্স নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে গণপরিবহন, পণ্যবাহী যানবাহন বা প্রতিষ্ঠানের গাড়ির ক্ষেত্রে চালকের যোগ্যতা ও লাইসেন্স যাচাই করা জরুরি।

লাইসেন্সবিহীন চালকের হাতে গাড়ি তুলে দিলে দুর্ঘটনা, আইনগত জটিলতা এবং আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই গাড়ি চালানোর দায়িত্ব দেওয়ার আগে লাইসেন্সের বৈধতা ও সংশ্লিষ্ট শ্রেণির অনুমোদন যাচাই করা উচিত।

ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে জরিমানা সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন: বাংলাদেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে জরিমানা কত?

উত্তর: সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৬৬ ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনধিক ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

প্রশ্ন: মোটরসাইকেলের লাইসেন্স না থাকলে কত টাকা জরিমানা হতে পারে?

উত্তর: মোটরসাইকেলও মোটরযানের অন্তর্ভুক্ত। বৈধ লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেল চালালে ৬৬ ধারার আওতায় সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা বা ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

প্রশ্ন: ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলে গাড়ি চালানো যাবে কি?

উত্তর: না। মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স ব্যবহার করে গাড়ি চালানো যাবে না। নবায়ন না করে চালালে লাইসেন্সবিহীন চালনার বিধান অনুযায়ী শাস্তির ঝুঁকি রয়েছে।

প্রশ্ন: অন্যের ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করলে কী শাস্তি?

উত্তর: ড্রাইভিং লাইসেন্স হস্তান্তরযোগ্য নয়। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৬৭ ধারায় লাইসেন্স হস্তান্তর-সংক্রান্ত বিধান লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ এক মাসের কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

প্রশ্ন: ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করলে কী শাস্তি?

উত্তর: আইনের ১০ ও ৬৯ ধারায় নকল, ভুয়া বা জাল লাইসেন্স ব্যবহার-সংক্রান্ত অপরাধের জন্য ছয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা এক লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

প্রশ্ন: লার্নার লাইসেন্স থাকলে কি গাড়ি চালানো যায়?

উত্তর: আইন অনুযায়ী শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সেটির নির্ধারিত শর্ত ও সীমাবদ্ধতা মেনে চলতে হবে। লার্নার লাইসেন্সকে পূর্ণাঙ্গ ড্রাইভিং লাইসেন্সের সমান মনে করা যাবে না।

প্রশ্ন: ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন জমা দিলে কি গাড়ি চালানো যাবে?

উত্তর: শুধু আবেদন জমা দেওয়ার রসিদ থাকলেই গাড়ি চালানোর অনুমতি পাওয়া যায় না। বিআরটিএ থেকে বৈধ শিক্ষানবিশ বা কার্যকর ড্রাইভিং লাইসেন্স না পাওয়া পর্যন্ত গাড়ি চালানোর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা নিশ্চিত করতে হবে।

শেষ কথা

ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরযান চালানো শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, সড়কে নিজের ও অন্যের নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী বৈধ লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা, ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স, অনুমোদিত শ্রেণির বাইরে গাড়ি চালানো এবং অন্যের লাইসেন্স ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও আইনগত বিধিনিষেধ রয়েছে।

তাই মোটরসাইকেল বা গাড়ি চালানোর আগে নিজের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নিশ্চিত করুন। লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়ন করুন এবং গাড়ির শ্রেণি অনুযায়ী অনুমোদন রয়েছে কি না, তা যাচাই করুন। লাইসেন্স করতে বা নবায়ন করতে সব সময় বিআরটিএর সরকারি সেবা ব্যবহার করুন। সচেতনভাবে ট্রাফিক আইন মেনে চলাই নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার অন্যতম উপায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
amazing-link-zeus.ca