• শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়ি ভাগ্যে জোটেনি ফুরকুনির

Reporter Name / ৫৮১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই, ২০২১

গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি: মহানন্দা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা দৌলতপুর নামে ছোট্ট একটি গ্রাম। সেটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর
উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত। সেই ছোট্ট গ্রামে ১৯৫২ সালে মহান ভাষা আন্দোলনের বছরেই জন্মেছিলো ফেলু শেখের মেয়ে ফুরকুনি বেগম। পুতুল খেলার বয়সেই তাকে একই গ্রামের রাশেদ আলীর সাথে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়। ধীরে ধীরে কেটে যায় অনেকগুলো বছর। এক সময় কোল জুড়ে আসে তার এক ফুটফুটে শিশু
সন্তান। সুখেই কাটছিল তার দিন। ছোট্ট একটি সংসার ও শিশুকন্যাকে নিয়ে হাসি খেলায় দিন চলে যেত। হঠাৎ এ সুখের ঘরে দুঃখ এসে হাজির। স্বামী মরণব্যাধি ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে যায়। কখনো চিকিৎসায়, আবার কখনো বিনা চিকিৎসায় ধুকে ধুকে কাটে তার জীবন। এক সময় ফুরকুনি ও তার কন্যাকে ছেড়ে এই সুন্দর পৃথিবী থেকে না ফেরার দেশে চলে যায় রাশেদ আলী। এভাবে দেখতে দেখতে
অতিবাহিত হয়ে গেল প্রায় ২০ টি বছর। সংসার চালাবার জন্য আর কোন ব্যক্তি রইল না। কখনও পরের বাড়ীতে কাজ করে, কখনও আত্মীয়-স্বজন পাড়া- প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সাহায্য চেয়ে হাত পেতে কোনরকমে কেটে যাচ্ছিল তার দিন। এক সময় মেয়ের বিয়ে দেন পার্শ্ববর্তী শিবগঞ্জ উপজেলায়। মেয়েটি মানসিকভাবে সুস্থ
নয়। হটাৎ মেয়েটির স্বামী অর্থাৎ তার জামাইও মারা যায়।তিনি হয়ে পড়েন একা। সে সময় তিনি বাস করতেন তার ভাইয়ের বাড়িতে। যা হয় সংসারে তাই হল ভাইয়ের বউ ঠিক মতো দেখতে পারত না তাকে। তিনবেলা খাবার জুটতোনা তার। এক সময় শারীরিকভাবে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। রয়েছে তার প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট। তার যখন শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় তখন সে চারদিকে অন্ধকার দেখে। বিছানা ছেড়ে উঠতে
পারে না। প্রাকৃতিক কাজকর্ম তাকে বিছানায় সারতে হয়। এসব দেখে তার ভাই ও ভাবি তাকে পাশে একটি কুঁড়েঘর করে থাকতে দেয়। এরপর তিনি আরও একা হয়ে পড়েন। কখনো খেয়ে না খেয়ে দিন যায় তার। এরপর মিলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বয়স্কভাতা। মাঝে মাঝে খাবার প্রয়োজনে তাকে ভিক্ষে করতে হয়। অত্র এলাকার সকলেই তার
বিষয়ে ভালোভাবে অবগত। অথচ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়ি নেয়ার জন্য
তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও তহসিলদারের শরানাপন্ন হলেও তার ভাগ্যে জোটেনি সেই বাড়ি। সাংবাদিকদের দৃষ্টিগোচর হলে এ বিষয়ে জানতে পেরে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য গোলাম মর্তুজা শনিবার তার কাছ থেকে আইডি কার্ড চেয়ে নেন। ইউপি সদস্য গোলাম মর্তুজা বলেন, আমি জানতে পেয়ে বৃদ্ধার কাছ থেকে তার আইডি কার্ড নিয়ে এসেছি। আমরা ইউনিয়ন পরিষদে বসে
প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়ির পরবর্তী তালিকাতে যাতে তার নাম থাকে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শুকুরউদ্দিন
বলেন, তার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য গোলাম মর্তুজা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মিজানুর রহমান জানান, বৃদ্ধা ফুরকুনির বাড়ী না পাওয়ার বিষয়টি আমাদের গোচরীভূত আছে। বাড়ী বরাদ্দের তালিকায় অবশ্যই তার নাম তালিকাভূক্ত করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
amazing-link-zeus.ca